১৯৭৮ সালে পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনি এলাকায় বর্ণবাদী হামলায় নিহত ব্রিটিশ বাংলাদেশী ইসহাক আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লন্ডনে আলতাব আলী ফাউন্ডেশন তার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এক স্মরণ সভার আয়োজন করে। ২৫জুন লন্ডন সময় সন্ধ্যায় ভ্যালেন্স রোডের একটি রেষ্টুরেন্টে এই সভার আয়োজন করে।
ফাউন্ডেশনের চেয়ার নূরুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনসার আহমেদ উল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরন সভায় তৎকালীন সময়ে লন্ডনে বর্ণবাদ প্রতিরোধে যে সব ব্রিটিশ বাঙ্গালী সক্রিয় অংশ নেন তাদের কয়েকজন এবং ইসহাক আলীর পরিবারের সদস্য ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন লন্ডনে
গবেষক আনসার আহমেদ উল্লা ২৬ জুন ১৯৭৮ সালের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন ৪৫ বছর বয়সী ইসহাক আলী ২০ বছর বয়সী অপর বাঙ্গালী ফারুক উদ্দিন হ্যাকনির উরসউইক রোডে আলীর বাড়ির কাছে তিনজন শ্বেতাঙ্গ যুবক দ্বারা আক্রান্ত হন। দুইজনকে ঘুষি মেরে এবং একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তাদের বুটের ফিতা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়।
কুপারসেল রোডে বসবাসকারী পাঁচ সন্তানের জনক আলী মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং হ্যাকনি হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।
সেই সময়, ইসহাক আলীর ভাতিজা সফর উদ্দিন, হ্যাকনি গেজেটকে বলেছিলেন, “তার গায়ের রঙের কারণে তাকে আক্রমণ করা হয়েছিল। কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। ইস্ট এন্ডে এটি সর্বদা ঘটে।” হ্যাকনি কর্মী অলোক বিশ্বাস, যিনি পরিবারকে চিনতেন, বলেছেন ফারুক উদ্দিন-জসিম রিপোর্ট করেছেন যে আক্রমণকারীরা বর্ণবাদী গালিগালাজ করেছিল, দুই ব্যক্তিকে “পাকি” এবং “কালো” বলে অভিহিত করেছিল।
ঢাকার খিলক্ষেতে পূজা মণ্ডপ ভাঙা ও উচ্ছেদ নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
সভায় ইসহাক আলীর শ্যালক, জাহাঙ্গীর খান, বলেন বিয়ানী বাজারের মোরিয়া ইউনিয়নের ফেন গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ইসহাক আলী খুব রসিক এবং অমায়িক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন হলওয়ে রোডে একটি রেস্তোরাঁ এবং হ্যাকনিতে একটি গার্মেন্স কারখানার মালিক ছিলেন ইসহাক আলী ।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আকিকুর রহমান, আলতাব আলী ট্রাস্টের রফিক উল্লাহ, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফ্রন্টের (বিওয়াইএফ) জামাল মিয়া, জয়নাল চৌধুরী এবং আবদুস সাত্তার, বাংলাদেশ ইয়ুথ মুভমেন্টের চুনু মিয়া, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুল মালিক খুকন, অভিনেতা স্বাধীন খসরু, ফাউন্ডেশনের সহকারী সম্পাদক জামাল খান, স্বাধীনতা ট্রাস্টের চেয়ারপারসন জুলি বেগম, বাংলাদেশ ইয়ুথ লীগের সেলিম উল্লাহ, সাংবাদিক শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলাল, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাজিদুর রহমান, ইসহাক আলীর কনিষ্ঠ পুত্র শুহেল আহমেদ, তার পুত্রবধূ হাসিনা আহমেদ, প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ অর্গানিসশনের শুভা মতিন এবং খালিক আহমেদ।
অনুষ্ঠানে হ্যাকনি ও টাওয়ার হ্যামলেটস ডিফেন্স কমিটির সদস্যদের – অলোক বিশ্বাস, ভজন চ্যাটার্জী এবং প্যাট্রিক কোডিকারা প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয় – যারা ইসহাক আলীর মৃত্যুর পর বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
বক্তারা ইসহাক আলীর এবং বৃহত্তর বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন সংরক্ষণের জন্য স্বাধীনতা ট্রাস্টের সহযোগিতায় একটি স্মারক পুস্তিকা তৈরির পক্ষে সমর্থন জানান এবং তার মৃত্যু বার্ষিকী নিয়মিত উদযাপনের প্রস্তাব করেন।
ইসহাক আলী তার মৃত্যুর নয় বছর আগে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে এসেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে ইসহাক আলীর হত্যার জন্যে তিন শেতাঙ্গ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত করা হয়, কেন্টিশ টাউন রোডের ১৭ বছর বয়সী একজন ক্যাবিনেট মেকার এবং হোমারটনের ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। ১৯৭৯ সালে, তাদের প্রত্যেককে মাত্র ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, খুনের অভিযোগে নয় বরং ছিনতাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। সভায় আরো উপস্থিত হয়েছিলেন ইসহাক আলীর পুত্র সোহেল আহমদ ও তার স্ত্রী। ইসহাক আলী যখন বর্ণবাদী হামলায় নিহত হন তখন এই সোহেল আহমদের বয়স ছিল মাত্র আট মাস।
হাফিজ মোঃ জিল্লু খানের বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সভার পরিসমাপ্তি ঘটে।































































