হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ফরজুন আক্তার মনিকে দীর্ঘদিন ধরে হ্যাকিং ও ব্ল্যাকমেইল এর মাধ্যমে হয়রানি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলার উত্তর দৌলতপুর গ্রামের লেচু মিয়ার পুত্র শিহাব আহমেদ (৪০)। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মন্তব্যের মাধ্যমে তার হ্যাকিংয়ের প্রমাণ উম্মোচিত হয়।
সাংবাদিক ফরজুন আক্তার মনি নবীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংবাদপত্র ডেইলি মর্নিং গ্লোরীর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ নিউজটিভির সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম ও তার বন্ধু সেলিনা পারভীন, এম এ আহমেদ আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান করায় তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, একাধিক বার ফেইসবুক আইডি মোবাইল সিমকার্ড হ্যাক, অপপ্রচার ও সামাজিকভাবে হেয় করার নানা চেষ্টায় লিপ্ত হয় নাজমা বেগম ও তার বন্ধু আওয়ামীলীগ নেতা আজাদ এবং বিএনপি নেতা শিহাব চক্র।
২০১৯ সালে মনির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নবীগঞ্জ থানা মামলা নং: ১২/১৯) দায়ের করা হয়। অথচ, মামলা দায়েরের কয়েক মাস আগে আইডি হ্যাক সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (নং: ৩৮০/১৯) নবীগঞ্জ থানায় দায়ের করেছিলেন সাংবাদিক মনি। মামলায় যে মোবাইল ব্যবহার করা হয় সেটি একাধিক হাত ঘুরে পরে মনির কাছে আসে। মোবাইল ক্রয়ের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিদের স্বাক্ষরও রয়েছে। পূর্বের মালিকানা ফেইসবুক আইডি দিয়ে মনিকে পুরুষ সাজিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে চরমভাবে মানহানি ও হেয় করা হয়েছে কয়েকবার।
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বরসাংবাদিক ফরজুন আক্তার মনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করে হামলা মামলায় নির্যাতিত নিপীড়িত হওয়ার পরেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্মম কঠিন মূহুর্ত তুলে ধরেন, যার লিংকে গিয়ে দেখা যায়, শিহাব আহমেদ একটি মন্তব্যে হ্যাকড মোবাইলের ফেসবুক লগইন তালিকা প্রকাশ করেন। এতে মনির আইডি সহ পূর্বে ব্যবহৃত অন্যদের আইডি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
যাহার লিংক: https://www.facebook.com/share/p/19SifTdwYy/
পরবর্তীতে মনি ২২ নভেম্বর আরেকটি পোস্ট করে বিষয়টি তুলে ধরেন।
যাহার লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1HHboqJ8sQ/ ।
সাংবাদিক মনি অভিযোগ করেন, শিহাব প্রশাসনের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে একজন দক্ষ হ্যাকার এবং এ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফাঁদ পেতে মানুষের জীবন ধ্বংস করছে। মামলা, ফেসবুক হ্যাকিং ও পুরুষ সাজিয়ে অপপ্রচার ও নানা কুরুচিপূর্ণ আক্রমণাত্মক বুলিংয়ের কারণে মনি ও তার পরিবার সামাজিক ও আর্থিক ভাবে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি মানসিক যন্ত্রণায় তার পিতার মৃত্যু হয়।
মামলায় সাংবাদিক ফরজুন আক্তার মনি উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেলেও, তাকে আবারও ফেইসবুক হ্যাক করে ২০২২ সালে আরেকটি সাইবার মামলায় ফাঁসানো হয় (সাইবার মামলা নং: ১০১/২২)। তবে সেখান থেকেও সম্প্রতি তিনি অব্যাহতি পান।
ফরজুন আক্তার মনি বলেন, “প্রমাণ থাকার পরও শিহাব ও তার চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন এ চক্র আমাকে বারবার হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে ও হামলা মামলায় পিষ্ট করেছে। থানায় একাধিক জিডি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন—এই ব্ল্যাকমেইল চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হউক। আর যাতে আমার মতো কেউ এভাবে হয়রানির শিকার না হয়।








