১৪জুন ২০২৬ রোববার ছিল ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য একটি উৎকণ্ঠার দিন, কখন কি হয়? লন্ডন থেকে অক্সফোর্ডের সেন্ট মাইকেল ষ্ট্রীট। একদিকে সেমিনার সফল করার প্রস্তুতি, অন্যদিকে মিশন বাদাম নামে প্রতিবাদ।
সেমিনারের আয়োজক অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইট নামে একটি স্বাধীন ডিবেটিং চ্যারিটি সংগঠন। এখানে বিষয়টি পরিস্কার করা দরকার এই Oxford Union Society অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বা ছাত্র সংসদ নয়। এটি একটি স্বাধীন ডিবেটিং সোসাইটি। তাই এই অনুষ্ঠানকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। বাস্তবে আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, পোস্টডক্টরাল ফেলো, কর্মী এবং স্থানীয় কমিউনিটির বড় অংশ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
এই সোসাইটির সাথে লন্ডনে বসবারত বাংলাদেশের জামাত নেতারা লন্ডনের আজাদ কাশ্মির জামাতের নেতা ঈমাম রামজির মাধ্যমে এই সেমিনারের আয়োজন করেন। এমনটি জানিয়েছেন এই সংগঠনের Chair Ms Victorria Schofield OLDUT. এতে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিপি সাদেক কায়েম সহ একটি প্রতিনিধি দল। তাদের দাবি তারা বাংলাদশের ২০২৪ এর অভূত্থ্যান এবং এর পরবর্তি বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে এসছেন।
অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের একটি অংশ মনে করেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের নিয়মিত মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান হলে সাধারণত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও পরিচালনা দেখা যায়। কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে সেই ধরনের দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা যায়নি। এমনকি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির নিয়মিত ইভেন্ট আপডেট বা সদস্যদের উদ্দেশে প্রচারিত তালিকাতেও এই অনুষ্ঠানকে সেভাবে সামনে আনা হয়নি বলে জানা গেছে।
ফলে এটি যতটা না একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক বিতর্ক, তার চেয়ে বেশি মনে হয়েছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একপাক্ষিক আয়োজন, যেখানে নিজেরাই আয়োজক, নিজেরাই অতিথি, নিজেরাই বক্তা, নিজেরাই দর্শক।
প্রতিবাদকারীদের আপত্তি এখানেই। বাংলাদেশ নিয়ে কথা হবে, কিন্তু বাংলাদেশের ভুক্তভোগীদের কথা থাকবে না; গণতন্ত্র নিয়ে কথা হবে, কিন্তু ভিন্নমত দমনের প্রশ্ন থাকবে না; ফ্রিডম অব স্পিচ নিয়ে কথা হবে, কিন্তু সমালোচকদের প্রবেশ ও প্রশ্ন করার সুযোগ সীমিত থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। হাসনাত ও সাদেক কায়েমদের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্রদের অক্সফোর্ডের নাম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হলে আমরা প্রশ্ন করবোই।
আজকের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রতিবাদের ভয়ে অনুষ্ঠান ঘিরে অস্বস্তি ছিল স্পষ্ট। লন্ডন থেকে যাওয়া বাংলাদেশি ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের অনেককেই স্পট রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এসেছে। যারা সত্যিই ফ্রিডম অব স্পিচে বিশ্বাস করে, তারা প্রশ্নকে ভয় পায় না। তারা পাল্টা বক্তব্যকে ভয় পায় না। তারা সমালোচনাকে দরজার বাইরে আটকে রাখে না।
মিশন বাদামের বার্তা খুব পরিষ্কার: অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বিতর্কের মঞ্চ হতে পারে, কিন্তু একপাক্ষিক রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ হতে পারে না। সহিংসতা, রাজনৈতিক দমন, দল নিষিদ্ধের রাজনীতি, গণমাধ্যমের ওপর চাপ, সমালোচকের বিরুদ্ধে মামলা এবং ভিন্নমতকে শত্রু বানানোর রাজনীতিকে “গণতন্ত্র” নামে চালানো যাবে না। তারা বলেন আমরা কাউকে আক্রমণ করতে আসিনি। আমরা এসছি প্রশ্ন করতে। আমরা এসছি বলতে, “Invite debate, not propaganda.” আমরা এসছি মনে করিয়ে দিতে, hypocrisy is not democracy.
লন্ডন থেকে মিশন বাদামের ব্যানারে প্রতিবাদকারীরা বাস ট্রেন ও অন্যান্য মাধ্যমে পৌঁছান অক্সফোর্ডে , অপর দিকে এদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশ জামাতে ইসলাম ও এনপিপির নেতারা পাল্টা অবস্থান নেন। দিনব্যাপী হলের বাইরে চলে মিছিল পাল্টা মিছিল। আয়োজকরা আগ থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। মোতায়ন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাথে দাঙ্গা পুলিশও। তবে, তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পাকিস্তানি বংদ্ভোত রাহিমা সিদ্দিকী নামের একজন দর্শক যিনি অক্সফোর্ডে বসবাস করেন তার ভাষ্য মতে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্য সম্ভবতঃ মুখস্থ করে আসছেন প্রথমে সবকিছু বললেও উপস্থিতদের প্রশ্বের উত্তর সঠিক ইংরেজীতে উত্তর দিতে ব্যর্থহন। তার মতে সে ইংরেজী জানেনা।
প্রতিবাদ জানাতে হলের বাইরে ৪/৫ শতাধিক প্রতিবাদকারী সমবেত হতে দেখা গেছে। বিকেল চারটা থেকে ছয়টা দুইঘণ্টা ব্যাপী চলে সেমিনার। সেমিনারে অংশ নিতে হাসনাত অব্দুল্রাহ ও তার সফরসঙ্গিরা প্রতিবাদের ভয়ে সকার দশটার পূর্বেই হলে প্রবেশ করে।




























































