বাংলাদেশে ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তবর্তিকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে দেশব্যাপী জঙ্গিউত্থান, মবজাষ্ট্রিজ, পুলিশ হত্যা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র পরিচয়ে জঙ্গিদের লুটপাট, চাঁদাবাজি, সাংবাদিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের উপর হামলা ও সরকারের ডেভিল হান্ট অপরেশেনের নামে নীরিহ নাগরিকদের কারণ ছাড়া গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের হস্থক্ষেপ কামনা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার ষ্টারমার বরাবরে যুক্তরাজ্যস্থ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সংগঠন “71@Heart. হৃদয়ে ৭১” এর পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
১৯ফেব্রুয়ারী ২০২৫ বুধবার লন্ডন সময় বিকেল চারটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ১০ নং ডাউনিং ষ্ট্রীটে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন শাহাব আহমেদ বাচ্চু, আলীমুজ্জামান, ফাতেমা তাহিরা জিনিয়া ও অলক শাহা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ডাউনিং ষ্ট্রীটের একজন কর্মকর্তা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশব্যাপী এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার কোনধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে সাজা প্রাপ্ত ও বিচারাধীন চিহ্নিত জঙ্গিদের মুক্ত করে দিয়েছে। আনসার আলইসলাম, আইএসআই, জেএমবি , ও হিযবুত তাহরিরের জঙ্গিরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে একজন হিযবুত তাহরিরের সদস্যকে স্থান দেয়া হয়েছে। এই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠন জামাতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম। উগ্রবাদী জঙ্গিরা সরকারের মদদে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদাদের বাড়ীঘর ব্যাবসা প্রতিষ্টান দখল করছে, হত্যা করছে নীরিহ নাগরিকদের। শুধু তাই নয় এরা ১৫০০ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। লুট করেছে ৪০০টি থানা ।
প্রতিদিনই দেশের মানুষ মবজাষ্ট্রিজের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের মদদে জঙ্গিরা হিন্দু ও উপজাতীয় নারীদের ধর্ষন করছে। লুঠ করছে মালামাল প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটছে।
স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা, সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ শেষে গুড়িয়ে দিয়েছে। এসময় সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নীরববে দাড়িয়ে জঙ্গিদের উল্লাস উপভোগ করেছে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গুড়িয়ে দিতে সরকারী বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। হামলা কারীরা যখন বঙ্গবন্ধু ভবন গুড়িয়ে দিচ্ছিল তখন দেখাগেছে হামলাকারীদের কয়েকজন ওই ভবনে জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পতাকা টানিয়েছে। দেশব্যাপী ভবন ভাংচুর করতে ব্যবহার করা হয় সরকারী এস্কেভেটর। এতে বিষয়টি পরিস্কার অন্তবর্তি কালীন সরকারের পৃষ্টপোষকতায় হামলাকারীরা দেশব্যাপী তান্ডব চালাচ্ছে। বিষয়টি আরো পরিস্কার পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদদে স্বাধীনতা বিরোধীরা ১৯৭১ এর প্রতিশোধ নিচ্ছে। এরা চাইছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতে।
স্মারকলিপিতে বলা হয় ৫ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকাসহ দেশ জুড়ে একযোগে আওয়ামীলীগ সংশ্লিষ্টদের স্থাপনায় যত হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে তা ছিল জঙ্গিগোষ্টী এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের সুপরিকল্পিত একটি পরিকল্পনা। হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এতে ড. ইউনুসের সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। প্রশাসন বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ হামলাকারীদের বাঁধা দেয়নি। পুলিশি এবং আর্মি দূর থেকে নীরবে দাড়িয়ে দেখেছে জঙ্গিদের উল্লাস।