ব্রাসেলস/ওয়াশিংটন, ৪ এপ্রিল – মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর বিশ্বের মানবিক সহায়তার মূল বোঝা বহন করবে না। মিয়ানমারে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর, তিনি অন্যান্য ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
“আমরা বিশ্বের সরকার নই। আমরা মানবিক সহায়তা দেবো, যেমনটা অন্য সবাই দেয়, এবং সেটা যথাসাধ্য ভালোভাবে করবো। তবে আমাদের নিজেদেরও অনেক চাহিদা আছে, যেগুলোর সঙ্গে এটি ভারসাম্য রাখতে হবে।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার দিনই যুক্তরাষ্ট্রের সব বৈদেশিক সহায়তায় ৯০ দিনের বিরতি ঘোষণা করেন। এরপর USAID-এর অনেক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার চেইন বিপর্যস্ত হয়।
USAID কার্যত ভেঙে পড়েছে, কারণ ট্রাম্প এবং ধনকুবের ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ছোট করার এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর ফলে বহু কর্মী ছাঁটাই হয়েছে এবং অনুদান বাতিল করা হয়েছে।
রুবিও বলেন,
“বিশ্বব্যাপী ৬০-৭০% মানবিক সহায়তা বহনের দায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া উচিত নয়। আরও অনেক ধনী দেশ আছে—চীন, ভারত—তাদেরও এগিয়ে আসা উচিত।”
তিনি যোগ করেন,
“আমরা ধনী দেশ হলেও আমাদের সম্পদ সীমাহীন নয়। আমাদের জাতীয় ঋণ বিপুল, আমাদের আরও অনেক অগ্রাধিকারের খাত আছে। তাই আমাদের এখন এই দায়িত্ব পুনঃমূল্যায়ন করার সময়।”
গত শুক্রবার মিয়ানমারে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এতে হাসপাতালসহ বহু ভবন ধসে পড়ে, গ্রাম-শহর গুঁড়িয়ে যায় এবং লক্ষাধিক মানুষ খাদ্য, পানি ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৩,১৪৫, আহত ৪,৫০০-এর বেশি এবং এখনও ২০০-এরও বেশি নিখোঁজ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মাত্র ২ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি মূল্যায়ন দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে, যদিও ভিসা সমস্যার কারণে তারা এখনও পৌঁছাতে পারেনি।
রুবিও সমালোচনার জবাবে বলেন,
“আমরা সাড়া দিতে দেরি করিনি। তবে মিয়ানমার আমাদের পছন্দ করে না এবং সেখানে কাজ করাটা সহজ নয়।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস শুক্রবার জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিরোধী অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ সহায়তা সীমিত করে রেখেছে।
তিনজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা Reuters-কে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সরকার ছোট করার পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।