মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছে স্বাধীনতা দিবসে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির আলোচনা সভায়।
গতকাল ২৬শে মার্চ পূর্ব লন্ডনের ব্যালেন্স রোডের একটি রেষ্টুরের্টে ইউকে বাংলা রিপোটার্স ইউনিটি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এমন এক সময়ে আমরা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছি যখন দেশ একটি কঠিন সময় পার করছে, যা সত্যিই আমাদের জন্য বেদনা দায়ক।
বক্তারা বিশ্ববাসীর কছে প্রশ্ন রেখে বলেন আমরা কি পারছি লিখতে! আমরাকি পাড়ছি স্বাধীন ভাবে কথা বলতে? বক্তরা বলেন একটি অবাদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে আমাদের আরো কষ্ট পোহাতে হবে। এই সরকারের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা। নির্বাচিত সরকারই দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে। বক্তারা আরো বলেন একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চাইছে। যে যাই বলুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় দেশ ও জাতি ঐক্যবদ্ধ। এই অপচেষ্টাকারীরা সফল কোনদিনই হবেনা।
ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরুর পরিচালনায় ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৭১”র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য রাখেন- ৪নং সেক্টরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মো. আমীর খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমীর খান বলেন — ৭১”র শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীরাঙ্গনা মা-বোনদের অপরিসীম ত্যাগ ও ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি ৪নং সেক্টরের রণাঙ্গনের ৭১”র মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ স্মৃতিচারণ তুলে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে চলে কবিতা আবৃত্তি কবি শামসুর রাহমানের কবিতা “ তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা “ আবৃত্তি করেন- আবৃত্তি শিল্পী ফাহমিদা খাতুন এবং স্বরচিত কবিতা “ আমি স্বাধীনতটাকে খুঁজছি” পাঠ করেন সংগঠনের ফাউন্ডার সভাপতি – মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান। ইফতার পূর্ব আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন- ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ডক্টর আনসার আহমদ উল্লাহ, ফাউন্ডার সভাপতি মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি- সাহেদা রহমান, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারী- এ রহমান অলি, অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি – সুয়েজ মিয়া, সদস্য শামীম আশরাফ প্রমুখ। আলোচকরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটেন সহ তৎকালীন সমেয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাঙ্গালীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। ৭১”র স্বাধীনতার সময় দেশি-বিদেশী সাংবাদিকদের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে একটি সেমিনারের আয়োজন করার প্রস্তাব করেন বক্তারা।
আলোচনা সভায় ৭১“র বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে আরো অংশ নেন – কলামিস্ট জিয়াউল সৈয়দ, রিপোর্টার্স ইউনিটির এসিসট্যান্ট সেক্রেটারী- ইউকে বাংলা এসকেএম আশরাফুল হুদা, সুহেল আহমদ, সাংবাদিক মুন্না মিয়া, মুহাম্মদ এফ ইসলাম, সৈয়দ মামুন সহ অসংখ্য কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী।
ইফতারের পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এর আত্মার মাগফেরাত কামনা ও বিশ্বের শান্তি কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন কবিরুল ইসলাম।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন- রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য মিজানুর রহমান খালেদ।