লন্ডন ও ব্রাসেলসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সমাবেশ করেছে প্রবাসী বাঙ্গালীরা।
গতকাল ২৫ মার্চ সোমবার বিকেলে ব্রসেলসে ইউরোপী পার্লামেন্টের সামেনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা ১৯৭১ সালের এই দিনটিকে ইতিহাসের কালো অধ্যায় আখ্যায়িত করে বলেন এই দিনে পাকিস্তান বরবর বাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। একটি জাতিকে ধ্বংশ করেতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহর গুালেতে চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর বাঙ্গালীরাও এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় নয় মাস ব্যাপী চলে হত্যাযজ্ঞ। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর তিন লক্ষাধিক বাঙ্গালী মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ হুমকীর মুখে।
একটি চক্র দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করছে। ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে এই রক্তাক্ত ইতিহাসকে। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত ভাবে দিনটিকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই দিনটিকে পালন করতে রাষ্ট্রীয় ভাবে কোন উদ্যোগ নেয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গণহ্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করলেও বাংলাদেশে আজও পায়নি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
সমাবেশে ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি একটিভিস্ট মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এতে বক্তব্য রাখেন এওয়ার্ড কাউন্সিল ফর পাবলিক ডিপ্লমেসী এন্ড কমিউনিটি ডায়ালগের প্রেসিডেন্ট এন্ডি বারমাউট, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য (এমইপি) ও দক্ষিন এশিয়া ডেমক্রেটিক ফোরামের সাবেক সভাপতি পাওলো কাসাকা, বাংলাদেশ আওয়ামী-লীগের যুগ্মসম্পাদক সাবেক মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, শহীদুল হক, বেলজিয়াম আওয়ামী-লীগের সভাপতি মোর্শেদ মাহমুদ, হুমায়ুন মাহমুদ হিমু, অতিকুজ্জামান চৌধুরী, মনোয়ার আহমদ, রফিক রামুজ, স্বপ্না দে, দিলরুবা বেগম ডেইজী আক্তার প্রমুখ।
এদিকে পূর্বলন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি ও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। এতে সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি সৈয়দ এনামুল এইলাম, মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, আবু মুসা হাসান, ফয়েজুর রহমান খান, সাংস্কৃতিক কর্মী শেখ নূরুল ইসলাম, সৈয়দা নাজনিন সুলতানা শিখা, মনিরা পারভিন, সাংবাদিক নিলুফা হাসান প্রমুখ। উভয় সমাবেশে প্রবাসী বাঙ্গালী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক বিদেশী নাগরিকরা সমাবেশে অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।