বাংলাদেশের অন্তবর্তি কালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষায় যিনি শেখ হাসিনা সরকার পতনের মাষ্টার মাইন্ড সেই মাহফুজ আলম ১২ সেপ্টেম্বর শুত্রবার লন্ডনে প্রতিবাদকারীদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন। এর আগেও তিনি গেল ২৪ আগষ্ট ২০২৫ আমেরিকায় একই ভাবে অপমানিত হয়েছেন।
আজ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শুক্রবার লন্ডন সময় বিকেল চারটায় ‘‘জুলাই আপ্রাইজিং কনভারসেশন‘‘ শিরোনামে লন্ডনের এনসিপি নেতাকর্মী ও লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকশিনের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘‘সোয়াস ইউনিভারসিটি অব লন্ডনের খলিলি গ্যালারি ল্যাকচার থিয়েটারে‘‘ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হলে লাঞ্চনার শিকার হন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার সময় এবং তারিখ পরিবর্তন করা সত্বেও তাঁকে প্রতিবাদকারীদের তোপের মুখে পড়তে হয়।
বাংলাদেশর নারীর বিরুদ্ধে দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হবে?
আয়োজকরা আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন এমনটি হবে। প্রথমে বলা হয় ১১ তারিখ দুপুর দু‘টায় এর পর তারিখ পরিবর্তন করা হয় ১২ তারিখ দুপুর ১টায়। পরবর্তিতে পিছিয়ে নেয়া হয় বিকেল চারটায়। ‘‘সাংবাদিক-সাহিত্যিকসহ লন্ডনের সুশীল সমাজের শতাধিক মানুষের কাছে ইমেল পাঠানো হয় যারা অংশ গ্রহনে ইচ্চূক সকলকে অনলাইনে ফরম পূরন করে রিজেষ্টেশন করতে। রিজেষ্টেশন করা সত্বেও আয়োজকরা অনেকের রিপ্লাই দেননি।
লন্ডন সময় বিকেল তিনটা থেকে প্রতিবাদকারীরা ‘নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরির নেতা মাহফুজ লিখা‘‘ ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে অবস্থান নেন রাসেল স্কয়ার আন্ডার গ্রাউন্ড ষ্টেশন এবং সোয়াস বিশ্ব বিদ্যালয়ের আশপাশে।
অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় মাহফুজ আলমের সহকারী একজনকে প্রতিবাদকারীরা কিলঘুষি মেরেছে, অবশেষে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাঁকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে।
তার উপস্থিতি লক্ষ্য করে প্রতিবাদকারীরা শ্লেগান তুলেন টেররিষ্ট মাহফুজ কে অশ্লিল গালিগালাজ করেন, তার গাড়ি লক্ষ্য করে কেউ কেউ ডিম ছূড়ে মারেন। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা দুইঘণ্ঠাব্যাপী অনুষ্ঠান চলাকালেও তাকে পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতে। অনেকে প্রশ্ন করলে প্রশ্নের সোজা উত্তর নাদিয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যান।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সোয়াস বিশ্ব বিদ্যায়ের ল্যাকচারার (আইরিশ-বাঙালী মিক্স) নাইমি হোসেন, এতে আরো বক্তব্য রাখেন সোয়াসের শিক্ষক ও লন্ডনে এনসিপি নেতা মোস্তাক খান এবং লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম।
এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডনের আওয়ামীলীগ বিএনপি বা বাম ঘরনার কেউ উপস্থিত না থাকেলেও এসসিপি, হিযবুত তাহরির, জামাত-শিবিরের অনেকেই সুশীল পরিচয়ে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্র শিবির নেতা সাংবাদিক পরিচয়ধারী সাইদ চৌধুরী, সুরমার সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, এনসিপি নেতা আইয়ুব করম আলী, পিচ্চি এনাম, হাসনাত আরিয়ান খান, কাইয়ুম আবদুল্লাহ, ড.মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন মৃধা, শেখ মুহিতুর রহমান বাবলু, ইউসুফ হোসাইনসহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময়ও মাহফুজ আলম আরেক দফা ডিম নিক্ষেপের শিকার হন। দূর থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সহায়তা চাইলে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে দেয়। প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ উপদেষ্টার গাড়ীর সামনে শুয়ে পড়লে পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়।































































