
এখনো চলছে ৭১-এর চেতনাকে পুড়িয়ে ইতিহাস পাল্টানোর অপচেষ্টা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সত্য—বঙ্গবন্ধু নাম উচ্চারণ মানেই অত্যাচারীদের বুক কাঁপুনি। এখন যুক্ত হয়েছে শেখ হাসিনা’র নামটিও।
এসেছিলো ১৯৭৫-এর সেই ভয়ঙ্কর রাতটি। ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেও নিশ্চিন্ত হতে পারেনি খুনী মোশতাক–জিয়া চক্র। তাই পুরো দেশ—১৩ দিনের কারফিউ দিয়ে জনগনকে আটকে রাখা হয়েছিলো ।
কারণ একটাই—মৃত বঙ্গবন্ধু ওদের মনে জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বেশী ভয়ের কারন হয়ে দাড়িয়েছিল।
এর পরই শুরু—রাষ্ট্রীয় মিথ্যার মহাউৎসব। জেলে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বর্তমানের ইউনুসের মতই। স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা। উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে মাথা তুলতে না দেওয়া। কিন্তু পারেনি।
ওইসব ব্যর্থ চেষ্টা ও সবচেয়ে লজ্জাহীন মিথ্যাচার ছিল—“বঙ্গবন্ধু নাকি স্বাধীনতা চাননি।”এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে ছোঁড়া সবচেয়ে নোংরা কাদা। এখনো বিভিন্ন ভাবে সেই বক্তব্যই জুলাই ষড়যন্ত্রকারীরা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
প্রশ্ন সোজা:
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১—এই ২৪ বছরে জিয়া কোথায় ছিলেন? ইউনুসই বা কোথায় ছিলো? স্বাধীনতার কোনো আন্দোলনে তো তাদের নাম নেই। জাতি খুঁজে পায়না। জিয়া ছিলো শুধু পাকিস্তানি সামরিক কাঠামোর একটি ইউনিফর্মধারী মুখ মাত্র। আর ইউনুস বর্তমানে জামাতের ও পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনের এক চলমান মুখ।
অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের নথি বলছে— ১৯৭৫–৭৭ সালে জিয়া ফাঁসি দিয়েছেন ১,১৪৩ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে। এটাই ছিলো তাঁর “জনপ্রিয়তা”র হাস্যকর আসল প্রতিচ্ছবি। তিনি নিজেও ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার। কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করে নিজের টেনশন দূর করেছিলেন। ক্ষমতার বালিশটি টেনে নিয়ে ছিলেন নিজের কাছে।
বঙ্গবন্ধু যদি অজনপ্রিয় হতেন তাহলে খুনীদের কেন ছয় বছর ধরে বন্দুকের নল দিয়ে দেশ চালাতে হয়েছিল সে সময় ? আর যদি জিয়া এত জনপ্রিয়ই হতেন—
তবে কেন ভোটের মাঠে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে পারেননি? গনভোটের আমদানি করে ক্ষমতায় থাকলেন। করলেন হা-না ভোট। ১৯৭৭-এর “হ্যাঁ-না ভোট”—
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রীয় রসিকতাময় রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র। ১৯৭৮-এ রমনায় বসে নিজের হাতে দল গঠনই জিয়ার একমাত্র রাজনৈতিক নৈতিকতা।
বিএনপির রাজনৈতিক কৌতুক আরও গুরুতর—
জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ বানানোর চেষ্টাকরা।
আর শেখ হাসিনার সমকক্ষ হিসেবে খালেদা জিয়াকে দাঁড় করানো। এই দুটোই ছিল দেশের রাজনৈতিক / রাজনীতির মানের প্রতি সরাসরি অবমাননা।
১৭ মে ১৯৮১— শেখ হাসিনার দেশে ফেরা আটকাতে হত্যার মতো গভীর পরিকল্পনা করে যে দল, আজ তারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে ঘুরছে। ইউনুসের বগল চেটে তৃপ্ত হয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে।
যারা আজ শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে উদ্বেলিত তারাই এইতো সেদিন গণভবনে গিয়ে তাঁকে “মা” বলে ডেকে এসেছে । চরিত্রহীনতার এই ধারাবাহিকতা নতুন নয়।
এরাইতো জিয়া–মোশতাকের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।
৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের গোপন ফাঁসির পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে সময় লেগেছিলো মাত্র কয়েকটি দিন। ১৬ ডিসেম্বর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে জয় বাংলা স্লোগানের কাছে। এটিই ইতিহাস এবং সত্যি।
সত্য বদলায়না। বদলায়নি, বদলাবে না কোনোদিন। জুলাই ষড়যন্ত্রকারীরা যতই চেষ্টা করুক। ইউনুসের ক্যাঙ্গারু কোর্ট এর প্রহসনের এই ফাসির রায় তুবড়ি মেরে ছুড়ে ফেলা হবে। সেদিন বেশী দূরে নয়। বিচারপতি’র বিচার করার জনতা ইতোমধ্যেই জেগে উঠেছে।
শেখ হাসিনার ওপর ২১ বার হত্যার চেষ্টা ও হামলা করা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এসব কিছুরই প্রমাণ করে একটাই সেটা হলো বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকেও আজ অন্ধকারশক্তির সবচেয়ে বড় ভয়।
১৯৭৫ থেকে আজ-অব্দি ষড়যন্ত্রকারীদের
প্রোপাগান্ডা শুধুই আপডেট ও রং বদলিয়েছে।
চরিত্র বদলায়নি আজও। ওদের চেহারায় যতই নূরানী রোশনাই থাকুক না কেন!
এ কারণেই শেখ হাসিনার সেই বাক্য আজ আরও বিশালতা পেয়েছে ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে — I don’t care.
কারণ ইতিহাসের রায় সবসময় দাঁড়ায় মুক্তির পক্ষেই।
আর সেই রায়ের নাম—
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
এ্যলবার্ট খান
(লেখক নির্মাতা ও অনলাইন এ্যকটিভিস্ট)
































































rlw2tb