ফ্লোরিডা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘বাংলাটাইমস৩৬০’ এর ব্যবস্থাপনায় ২২ নভেম্বর, ২০২৫ এর ফেস্টিভ্যাল FMFest অনুষ্ঠিত হয় ফোর্টমায়ার্স এর Alliance For The Arts এর মাঠে।
উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাঙ্গালীদের সাথে স্থানীয় আমেরিকানরাও অংশগ্রহণ করে দিনভর মেতে থাকেন উৎসব আনন্দে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ফোর্টমায়ার্স এর মাননীয় মেয়র ‘কেভিন বি এ্যান্ডারসন’ এবং শহিদুল আলম সাচ্চু কোয়েল এর সঞ্চালনায় স্থানীয় শিল্পীদের সাথে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্গালী কমিউনিটির জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ঋতুপর্না।
উক্ত ফ্যাস্টিভালের কোঅর্ডিনেটর মোঃ বখতিয়ার রহমান তার ফেজবুক পেইজে এক বার্তায় সবাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার সেই পোস্ট পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে তুলে দেয়া হলো।
আমি এবং আমাদের টিম একত্রে প্রায় ৩ মাস একটানা পরিশ্রম করেছি ২২ নভেম্বরের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য।
এই ৩ মাসে আমরা সবাই অনেক অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়ার পর আমাদের সবাইকে একটা পরিবারে পরিনত করেছে। সবার মধ্যে প্রথম থেকে যে আগ্রহ দেখেছি তাতে মন শক্তিতে পূর্ণ হয়ে গিয়েছে তাই সাহসও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই শক্তিতে ভর করেই এমন একটা সার্থক উৎসব পূর্ণতা পেয়েছে।
এই অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আবার অনেককে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। এই আবিষ্কার অনেক সুখ দিয়েছে।
অনেকে না চাইতেই যে পরিমান ত্যাগ স্বীকার করেছে তা বলে শেষ করা অসম্ভব। তাদের মধ্যে ত্যাগ স্বীকারের যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিলো।
শুরু করেছিল শম্পা। শম্পা এমন একজন মানুষ, যার কাছে কোন সমস্যা আসলে সেটা আর সমস্যা থাকে না, নিমিষেই সমাধান হয়ে যায় যত কঠিন সমস্যাই হোক।
কেউ কারো থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না। নিতু সারা দিন কাজ করে এসে বাসায় শিশুদের নিয়ে অনুশীলনে ব্যাস্ত হয়ে যেত। অনুশীলনে আসা সবার জন্য কত রকমের খাবার রান্না করেছিলো তা বলে শেষ করা যাবেনা। নিতুর পরিচিতির গন্ডি ব্যাপক, যেকোন কিছুর দরকারে সে কানেকশন ব্যাবহার করে সমাধান করতে ওস্তাদ। নিতু ধন্যবাদ তোমাকে।
আর একজন আমিরুল ভাই, সব রকম চাপ সহ্য করতে পারেন আমিরুল ভাই। আমাকে চিন্তিত দেখলেই বলতেন “আমি আছিতো ভাই, চিন্তাগুলো আমাকে দিন সমাধান করে দিচ্ছি। তার সে কথা এখনও কানে বাজে। তার বাসা ছিলো সবার জন্য সব সময় খোলা, যখনই দরকার হয়েছে, ব্যবহার করেছে অবারিত ভাবে। আমিরুল ভাইকেও ধন্যবাদ।
সব রকম টেনশন থেকে মুক্তির বটিকা আছে বিপ্লব ভাই এর কাছে। যেকোন টেনশন নিজের মাথায় নিয়ে সমাধান করে আমাকে সর্বক্ষণ টেনশনমুক্ত করে দিতেন। আমি বিপ্লব ভাইকে পেয়ে সত্যিই টেনশনমুক্ত। বিপ্লব ভাই আমারই অংশ হয়ে আছে, তাই তাকে আর ধন্যবাদ দিলাম না।
সুকেশ যে এতো সাহসী আমার আগে জানা ছিলনা। যখনই কোন সমস্যা এসেছে সুকেশ বলছে “এটা কোন সমস্যাই না, আমাদের অনুষ্ঠান আমরাই তুলে আনব। কোন রকম খাদ থাকতে দিব না। কোন কমতি থাকতে দেয়নি সুকেশ, ধন্যবাদ তাকেও।
শুরুতেই কাশেম বলেছে “ভাই সবাই আছি আপনার সাথে, যখন যা দরকার আমাদের জানাবেন”। প্রয়োজনের কথা বলার সাথেসাথে সমাধান! এমন মানুষ সাথে থাকলে হিমালয়ও পার হওয়া যায় অনায়াসে।
রুম্পা এক টানা লংটাইম কাজ করে এসেও যেভাবে খাবার রান্না করে এনেছে এবং অনুশীলন করেছে তার প্রশংসার ভাষা নাই আমার কাছে। আর রুম্পার বানানো স্যান্ডউইচ ভুলে যাওয়া খুব কঠিন।
মুক্তি
আর একজন হলো মুক্তি, তার ডেডিকেশন না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। তার কর্মদক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাবো কিভাবে বুঝতে পারছি না। তার নতুন বাড়ির নাড়ীভুঁড়ি বের করে ফেলেছিলো বাচ্চারা, কিন্ত তার মুখে ছিলো ভুবন ভুলানো হাসি, যেন এটাতে যে মজা তা দুনিয়ার কোন কিছুতেই নাই। মুক্তি, কৃতজ্ঞতা তোমার প্রতি।
নীপা ও আফসার
আফসারের সাথে অনেক দিনের চেনা জানা, কিন্ত কিছু মানুষের কারণে
তার প্রতি ভুল ধারণা ছিলো। ওর প্রতি সব ভুল ধারণা পালটে এখন মুগ্ধতা জন্ম নিয়েছে। যে কাজই তাকে দেয়া হয়েছে সে কাজই মুহুর্তে সমাধা করে চমকে দিয়েছে বারবার। আফসারের প্রতি প্রত্যাসা তার এই সুবাস ছড়িয়ে দিবে সর্বত্র।
নিপা, শিশু পার্ফরমারদের ট্রেনার। একাগ্রতা না থাকলে শিশুদের নিয়ে একটানা কাজ করা যায় না, এমন একদল দূর্বার শিশু নিপা ছাড়া আর কেউ সামলাতে পারতো বলে মনে হয় না। নিপা, তোমার কথা ভুলব না।
নীপা হুদা
আর একজন নীপা হুদা, অসুস্থতার জন্য আমাদের দলে শেষের দিকে যুক্ত হয়ে তার অসুস্থতা লুকিয়ে দর্শকদের আনন্দ দেয়ার জন্য মঞ্চে সাধ্যমত পারফর্ম করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকেও।
মোর্শেদ
আড়ালের কুশিলব মোর্শেদ, অনস্টেজে না থাকলেও অফস্টেজের সব
কাজের কাজী মোর্শেদ। কোন দরকারের কথা জানতে পারলেই যে অবস্থাতেই থাকুক সাথে সাথে হাজির হয়ে এক নিঃশ্বাসে কাজ শেষ করে স্বস্থির নিঃশ্বাস নিতো। এই অনুষ্ঠানের স্বার্থকতার পিছনে অন্যতম নাম মোর্শেদ।
লাবনী ভাবিকে ধন্যবাদ আমাদের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য।
তৃষ্ণা
তৃষ্ণা, নামে যেমন তৃষ্ণা। কাজের প্রতিও তার তৃষ্ণা প্রবল। মাথা ঠান্ডা রেখে সেই তৃষ্ণা মিটিয়েছেন বলেই টোটাল প্রোগ্রাম খুঁতমুক্ত সমাধা হয়েছে, ফলে আমরা পেয়েছি একটা পরিচ্ছন্ন অনুষ্ঠান। কারও উপর কোন কাজ না চাপিয়ে একাগ্র মনে ঠান্ডা মাথায় তিন মাস ধরে প্রতিটা সেকশন সামলেছেন তৃষ্ণা। আমরা সবাই ছিলাম তৃষ্ণার সাথে তাই তৃষ্ণাকে আমরা ধন্যবাদ দিব না, তৃষ্ণাই আমাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবে।
টুইংকল, নিজে যেমন মঞ্চে পারফর্ম করেছেন তেমন তার শিশুদেরকেও পারফর্ম করতে উৎসাহিত করেছেন। আপনাকেও ধন্যবাদ টুইংকল।
নাবদীপ ভাই, এতো ব্যস্ত থাকেন যে মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে যান, এর মধ্যেও আমাদের সাথে সময় দিয়ে অনুশীলনে যুক্ত হয়ে আমাদের ধন্য করেছেন। মুল অনুষ্ঠানে অতিথীদের নিজ হাতে যত্ন নিয়ে আমাদের ঋণী করেছেন।
এতোদিন চিন্তা করতাম মুক্তির ভূবন ভোলানো হাসি কোথায় পেলো? আন্টিকে দেখে বুঝতে পারলাম সে হাসির রহস্য। সদা হাস্যময় আন্টি দেখা হলেই কিছু না খেয়ে আসতেই দিতেন না। তার খাওয়ানোর অত্যাচার থেকে বাঁচতে অনেক সময় তাকে এড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি আমরা। আন্টির হাসিমাখা ভালোবাসা আমাদের জন্য থাকুক চিরদিন।
এবার ঘরে, শাওন আছে বলেই সব চিন্তা ওর মাথায় চালান করে দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে লোকালয় থেকেও বনবাসের সুখ ভোগ করা যায়। সবার সাথে সমন্বয় করে সবকিছু সচল রেখে আমাকে মুক্ত করে দিয়ে আরও ঋণ বাড়িয়ে দিলো। ওর উৎসাহ এবং পরিকল্পনায় একটা সার্থক ফ্যাশন-শো পেলো দর্শকরা। জীবনে চলার পথে ওকে পেয়ে জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছি।
ফোর্টমায়ার্স এর মাননীয় মেয়র মহদয় প্রধান অতিথি হিসাবে আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেই আমাদের ধন্য করেছেন। এর পরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আমাদের চির কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছেন। ধন্যবাদ মিস্টার মেয়র।