লন্ডনঃ – বাংলাদেশে চলমান খুন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, অগ্নিসংযোগ, মব সন্ত্রাস, বিচারহীনতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধান অক্ষুন্ন রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে লন্ডন ভিত্তিক ক্যাম্পেইন গ্রুপ হৃদয়ে ৭১ (71@HEART)।
গেল ১৭ ও ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে আলোচকরা এ আহবান জানান। সম্মেলনের আয়োজকরা বলেন—বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ; জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করে কোনো শাসন ব্যবস্থা নৈতিক, রাজনৈতিক কিংবা সাংবিধানিকভাবে বৈধ হতে পারে না। সাংবিধানিক ভাবে গণভোট আয়োজন করার অধিকার অন্তবর্তিকালীন সরকারের নেই। বৈধ সংসদ ছাড়া কেউ গণ ভোট আয়োজন করতে পারেনা। এই অধিকার একমাত্র নির্বাচিত সংসদকে দিয়েছে ৭২ এর সংবিধান। বর্তমান সরকার এবং স্বাধীনতা বিরোধীরা নিজদের দায়মুক্তির জন্য এই গণভোটের ব্যবস্থা করেছে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী সকলেই এই সাজানো গণভোটকে প্রত্যাখান করবে।
সম্মেলনে বলা হয়, দেশে ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে কার্যত জিম্মি করা হয়েছে। বিচারহীনতা রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে; বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও জঙ্গিবাদকে কার্যত প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও ভিন্নমতাবলম্বীরা ক্রমাগত হামলা-নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে।
সম্মেলনের প্রথম দিন: আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলোচকরা।
সম্মেলনের প্রথম দিন (১৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গবেষক ও প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র ধ্বংস ও মানবাধিকারের অবনতির একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলোচনায় অংশ নেন—ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের মার্কেটিং ডাইরেক্টর ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ, ফ্রান্সের কোট দ্য জুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং গবেষক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ, জার্মানির হীলব্রুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. জোবাইদা নাসরীন, ব্রাসেলসভিত্তিক SADF-এর নির্বাহী পরিচালক সাবেক এমইপি পাওলো কাসাকা, পোল্যান্ডের Never Again Association ও Minorities for Peace-এর প্রতিনিধি নাটালিয়া সিনেইভা-পাকাওয়াস্কি, এবং কানাডার GCDG-এর প্রেসিডেন্ট সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এম হাবিবে মিল্লাত। প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হৃদয়ে ৭১-এর আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান।
দ্বিতীয় দিন: বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন আলোচকরা। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন (১৮ জানুয়ারি) সমাপনী পর্বে বক্তারা আরও কঠোর ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে এখন শুধু গণতন্ত্র আক্রান্ত নয়—বরং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিকৃতি, অপপ্রচার ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চলছে। বক্তাদের মতে, স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত; রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও এ ধরনের তৎপরতা ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ‘সাজানো নির্বাচন–গণভোট’ প্রত্যাখ্যান সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দেশের বৃহত্তর জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে একপাক্ষিক নির্বাচন ও তথাকথিত গণভোট আয়োজনের অপচেষ্টা চলছে। বক্তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে নির্বাচন বা গণভোট গণরায় নয়, বরং ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার কৌশল; ফলে অংশগ্রহণবিহীন নির্বাচন ও গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য বলা হয়। সম্মেলনের মূল দাবিঃ সম্মেলনের আলোকে আয়োজকরা জরুরি ভিত্তিতে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা আইনের শাসন ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ২০২৪-পরবর্তী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার মবতন্ত্র, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন ১৯৭২ সালের সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণসহ স্বচ্ছ-ন্যায্য-অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন —এসব দাবি জানান। আন্তর্জাতিক এই ভার্চুয়্যাল সম্শেলনেকে সফলতে সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করে Global Centre for Democratic Governance (GCDG), Canada, South Asian Democratic Forum (SADF), Brussels এবং Global Coalition for Secular and Democratic Bangladesh (GCSDB), USA। উদ্যোগটি সমর্থন করেছে—একাত্তরের প্রহরী (যুক্তরাষ্ট্র), যুক্তরাজ্যস্থ সেকুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও জয়বাংলা ফাউন্ডেশন। দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাম্পেইন এর সিনিয়র সদস্য লেখক-গবেষক অ্যাডভোকেট শাহ ফারুক আহমেদ এবং সম্মেলন পরিচালনা করেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য আলিমুজ্জামান ও মতিউর রহমান মতিন।





























































