ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিতর্কিত অ্যাটলে ভাসমান কাঠামোর “অবৈধ উপস্থিতি”র ঘটনায় চীনের বিরুদ্ধে যথাযথ কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ চীন সাগর টাস্ক ফোর্স একথা জানিয়েছে।
টাস্ক ফোর্সটি দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবোরো শোলে ৬ বাই ৬ মিটার মাপের একটি ভাসমান কাঠামোর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, যেটিতে একটি অ্যান্টেনার মতো দেখতে বস্তু ছিল।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফিলিপাইন সরকার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।” এতে আরও বলা হয়, ম্যানিলার সার্বভৌমত্ব ও এখতিয়ার রক্ষা করা “সর্বোচ্চ বিবেচ্য বিষয়” হিসেবে থাকবে।
টাস্ক ফোর্সটি সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ ছবির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কাঠামোটি প্রথমে শোলের প্রবেশপথে এবং পরে এর লেগুনের ভেতরে দেখা যায় এবং এতে লোকবল ছিল বলে মনে হচ্ছে।
টাস্ক ফোর্স জানায়নি ছবিগুলো কখন তোলা হয়েছিল, কিন্তু প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্তো তেওদোরো ৩০শে মে সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা সংলাপের এক ফাঁকে বলেন, তিনি ওই চরে স্থাপনাটির উপস্থিতির ইঙ্গিতবাহী তথ্য পেয়েছেন।
টাস্ক ফোর্স বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থাপনাটির প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, স্কারবোরো “ফিলিপাইনের অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত এর সামুদ্রিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার স্কারবোরো শোল, যাকে তারা হুয়াংইয়ান দ্বীপ বলে, এবং এর সংলগ্ন জলসীমার উপর চীনের “অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্ব” পুনর্ব্যক্ত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ চীনের কার্যকলাপ বৈধ।
“কূটনৈতিক পদক্ষেপ” সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান একটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চীন ফিলিপাইনকে তার সামুদ্রিক লঙ্ঘন, উস্কানি এবং উত্তেজনাকর প্রচারণা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে।”
৫ই জুন রয়টার্সের হাতে আসা স্যাটেলাইট চিত্রে লেগুনটির প্রবেশপথে একটি কাঠামোর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী চিত্রগুলিতে দেখা যায় সেটি আর সেখানে নেই।
স্কারবোরো দেশটির পশ্চিম উপকূল থেকে ২০০ কিমি (১২৪ মাইল) দূরে অবস্থিত একটি প্রধান মাছ ধরার স্থান। এটি চীনের নিকটতম ভূখণ্ড হাইনান থেকে ৮৭৪ কিমি দূরে অবস্থিত।
২০১২ সাল থেকে চীন এই এলাকায় উপকূলরক্ষী ও সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজের অবিরাম মোতায়েন বজায় রেখেছে।
স্কারবোরোর উপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে ২০১৬ সালের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ফিলিপাইনের পক্ষে রায় দেয়। ট্রাইব্যুনাল জানায়, চরের উপর চীনের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এলাকাটি বেশ কয়েকটি দেশের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার ক্ষেত্র।


























































