ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর ওডেসার কাছে ভুট্টাবাহী একটি জাহাজে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে সোমবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কৃষ্ণ সাগরে সপ্তাহব্যাপী চলা সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক হামলা।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে লিখেছে, রবিবার রাশিয়া ‘গোল্ডেন লিও’ নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটিতে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে আগুন ধরে যায়। জাহাজটির নাবিকদল ভারত ও সিরিয়ার নাগরিক।
ওডেসায় রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী রবিবার উপকূলের কাছে একটি জাহাজ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন, যা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে সেটি ‘গোল্ডেন লিও’ ছিল।
শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি লিসাক বলেছেন, সোমবার ইউক্রেনের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর ওডেসায় রাশিয়ার একটি পৃথক হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে, তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
রাত্রিকালীন উদ্ধার অভিযান
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারারাত ধরে একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলে এবং এতে নয়জন নাবিক ও একজন সামুদ্রিক পাইলট নিহত হয়েছেন। তারা আরও জানায়, জাহাজটির ১৭ জন নাবিকের মধ্যে আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন লিও জাহাজটির মালিক মুম্বাই-ভিত্তিক ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড। এর ব্যবস্থাপক, ফ্রেন্ডস শিপিং কো এসএ, মন্তব্যের জন্য ইমেইলে পাঠানো অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এই ঘটনা নিয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করা হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথে ইউক্রেন ও রাশিয়ার হামলা বৃদ্ধি
২০২২ সালে প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পরের মাসগুলোতে কৃষ্ণ সাগর ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা প্রশমিত করতে এবং উভয় দেশকে শস্য পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার একটি চুক্তির অধীনে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল।
তবে, মস্কো এবং কিয়েভ এখন কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে হামলা বাড়াচ্ছে এবং রাজস্বের প্রধান উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী তেল ট্যাঙ্কারসহ রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে, অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের গভীর সমুদ্রের বন্দর এবং পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা তীব্রতর করছে।
ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে তাদের বাহিনী গত রাতে ওডেসা বন্দরের জ্বালানি রিজার্ভারে হামলা চালিয়েছে।
সোমবার ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, চলতি মাসে রাশিয়ার হামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ই প্রধান শস্য রপ্তানিকারক দেশ, এবং এই পথে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে ইউক্রেন তার কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে শস্য রপ্তানির সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ইউক্রেন বিশ্বের মোট গম রপ্তানির প্রায় ৬ শতাংশ এবং ভুট্টা রপ্তানির প্রায় ১১ শতাংশের জোগান দিত।
সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইউক্রেনের এই হামলা বিশ্বের শীর্ষ শস্য রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়াকে আজভ সাগরে জাহাজ চলাচল সীমিত করতে বাধ্য করেছে—যে পথটি দিয়ে দেশটির মোট শস্য রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়।































































