বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থানে ভারতেরও পরিণতি ভোগ করতে হবে, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাবেক প্রতিনিধি পরিষদ রোড আইল্যান্ড এবং মার্কিন নৌবাহিনী চ্যাপলিন, রবার্ট বব ল্যান্সিয়া এমন্তব্য করেন। ১২ জুলাই ২০২৫ ব্রিজবাংলা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘‘বাংলাদেশ বিষয়ক ভ্যার্চুয়াল সেমিনারে‘‘ তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডন সময় সকাল আটটা ওয়াশিংটন সময় দুপুর একঘটিকা এবং সুইজারল্যান্ড সময় দুপুর দইটায় ভ্যার্চুয়াল এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন লন্ডনের বিশিষ্ট লেখক গবেষক এবং জিও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার, যিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বই লিখেছেন এবং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট হংকং, ইকোনমিক টাইমস এবং বিবিসির মতো অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক কলামিস্ট।
২০২৪, যখন বাংলাদেশ ধ্বংস হলো (অধ্যায় এক- পর্ব ৫)
এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যোগদানকারী আলোচক রবার্ট বব ল্যান্সিয়া উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ এমন্তব্য করেন। রবার্ট বব ল্যান্সিয়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং বাংলাদেশে পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থানের ফলে কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতের জন্যও আরও ভয়াবহ পরিণতি হবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উভয়কে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নয় মাসব্যাপী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহতা এবং নৃশংসতার কথা স্মরণ করে বলেন, এতে মনে হয় এটি আবারও সেই দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে এসেছে। এতে প্রতিয়মান হয় বাংলাদেশের অন্তবর্তি কালীন সরকার দেশটিকে একাত্তরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গিবাদ আবারও নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করেছে। এটি ক্রমান্বয়ে বিস্তার ঘটবে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। ভারত সরকারকে উগ্রবাদ প্রতিরোধে আরো সজাগ হতে হবে।
ভারচ্যুাল এই সেমিনারে সুইজারল্যান্ড থেকে যুক্তহন বিখ্যাত সুইস ব্যবসায়ী সাংবাদিক এবং দ্য ডেইলি স্টার বাংলাদেশ এবং দ্য ঢাকা ট্রিবিউনের কলামিস্ট মিসেস শার্লট জ্যাকমার্ট। তিনি ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত বাংলাদেশ সফর করে আসছেন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে তিনি বিস্মিত ও আতংঙ্খিত। বাংলাদেশের নারী ও শিশু উন্নয়নের বিষয়ে তিনি কাজ করেন। তার মতে ২৪শে আগস্ট থেকে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নীতি ও ব্যবস্থা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যার সাথে তিনি কয়েকবার দেখা করেছেন। তার মতে, দরিদ্রদের ব্যাংকার অর্থনীতিবিদ ইউনূস এখন একটি কঠোর রাজনৈতিক পরিচয়ে রূপান্তরিত হয়েছেন। দেশটিতে সহিংসতা, বাড়াছে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা দেশের সাধারন মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি প্রতিহিংসার বশিভূত হয়ে সাংবাদিকদের জেলে পাঠানো এবং সংবাদ মাধ্যমের উপর দমন পীড়ন এর সমালোচনা করে বলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা কথা বলতে পারছেনা। তিনি আশা করেন যে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ পোশাক রপ্তানি খাতের মাধ্যমে অগ্রগতি এবং উন্নয়নের পথে ফিরে আসবে, তবে বর্তমান সরকার যেভাবে আচরণ করছে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। এঅবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংশ হয়ে যাবে। তিনি বাংলাদেশে একটি গৃহযুদ্ধের আশংকা করছেন।































































