ইরানে আটক এক ব্রিটিশ দম্পতির পরিবার শুক্রবার বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এই দম্পতিকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদের মুক্তির ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা ব্রিটিশ সরকারকে অভিযুক্ত করেছে।
ইরানে লিন্ডসে এবং ক্রেইগ ফোরম্যানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনার পর গত বছর তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যদিও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পরিবারটি বলেছে, এই দম্পতিকে ‘কার্যকর মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তেহরানের এভিন কারাগারের কাছে একটি বিস্ফোরণে ক্রেইগ ফোরম্যানের ওয়ার্ডের জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং আশ্রয়ের জন্য খাটের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়া বন্দীদের ওপর প্লাস্টার পড়েছে।
লিন্ডসে ফোরম্যানের ছেলে জো বেনেট এক বিবৃতিতে বলেন, “আমার বাবা-মা ‘ড্রোনের’ নিচে বাস করছেন।”
তারা ইঁদুর ও তেলাপোকার সাথে ছোট আয়তাকার কক্ষে থাকছেন, গদিবিহীন ধাতব খাটে অবিরাম শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে ঘুমাচ্ছেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনা করলেন বেনেট
বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলে করে ইরানে ভ্রমণের সময় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের আটকের কথা ঘোষণা করে।
বেনেট তার বাবা-মায়ের মুক্তি নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তদবির করেছেন। এই মাসে ওয়াশিংটনে স্বেচ্ছাচারী আটক বিষয়ক এক সম্মেলনে তিনি বলেন, তার বাবা-মা নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছেন এবং ব্রিটেন সাধারণ ব্যবহারিক সহায়তা ছাড়া “প্রায় অস্তিত্বহীন” সমর্থন জুগিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার ফোরম্যান দম্পতির সাজাকে “সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” বলে নিন্দা করে বলেছে তারা তাদের মুক্তির জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে।
বেনেট বলেছেন, এই সপ্তাহে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সঙ্গে তার বৈঠকে তিনি কেবল “বিলম্ব ও অনিশ্চয়তা” সৃষ্টি করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস অফিস মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।








































