যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটি থেকে সরে যাওয়ার পর মঙ্গলবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাওতার আল-গারবিয়াহ-তে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন শুরু করেছে বলে একজন ঊর্ধ্বতন লেবানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অংশ থেকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কাছ থেকে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করবে এবং পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, ‘পাইলট জোন প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনাটি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মঙ্গলবার এই ভূখণ্ড হস্তান্তর হলো পরিকল্পনাটির প্রথম পরীক্ষা। লেবানন আশা করছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীর একটি ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারবে, যা এখনও ইসরায়েলি সেনাদের দখলে রয়েছে।
ওই এলাকায় কয়েক ডজন গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানির পাম্পসহ সরকারি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা হাজার হাজার লেবানিজ ফিরতে পারেননি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর দুই দিন পর, মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সর্বশেষ দফার লড়াই শুরু হয়। হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের এই পদক্ষেপ তেহরানের সমর্থনে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জাওতার আল-গারবিয়াহতে তাদের ইউনিটগুলো মোতায়েন শুরু করেছে।
সেনাবাহিনী বাসিন্দাদের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন শহরে প্রবেশ না করে এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য মোতায়েনকৃত সামরিক ইউনিটগুলোর নির্দেশনা মেনে চলে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সোমবার নিশ্চিত করেছে, তারা পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী পুনরায় মোতায়েন করছে।
একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, “এই পাইলট প্রকল্পটি তিনটি পরীক্ষামূলক গ্রামে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সার্বভৌমত্বের একটি পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে, কারণ তারাই এই এলাকায় অস্ত্র রাখার জন্য অনুমোদিত একমাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষ।”
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার ক্ষেত্রে লেবাননের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, কিন্তু ইসরায়েল গত মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে লেবাননের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মঙ্গলবার পরে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল।































































