মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গ্রেটব্রিটেনের চারটি শহর ও সামরিক স্থাপনা ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জিন স্টিকো। তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে (US Air Force) পারমাণবিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং শেল ও BHP-এর মতো শক্তি কোম্পানির নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব ছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ২৮ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালালে গালফ অঞ্চলে ইরান থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়। এরই মধ্যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার ষ্টার মার প্রথমে ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন ব্রিটেন ইরানে আক্রমণাত্মক strikes চালানোর জন্য ঘাঁটি ব্যবহার করবে না। পরবর্তিতে তিনি প্রতিশোধী হামলা থেকে আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষা করতে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছেন। এতেই ব্রিটেন ইরানী হামলার লক্ষবস্তুতে পরিনত হয়।
জিন স্টিকো বলছেন, স্টারমারের সিদ্ধান্ত “এক সীমা অতিক্রম করেছে। এতে ইরান ব্রিটেনেকে তাদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেছে, একারনেই ব্রিটেনে হামলা হতে পারে।” তিনি আরো বলেন যুক্তরাজ্যের মূল ভূখন্ডে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, কারণ ইরানের সাধারণ সামরিক শক্তি ব্রিটিশ মূল ভূখন্ডে পৌঁছাতে সম্ভাবনা সীমিত।
তবে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে এই বিশেষজ্ঞ ব্রিটেনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছেন:
- RAF Fairford – কটসওল্ডসের এই বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ-পরিসরের বোমাবর্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং ইরান সংঘাতের সময় ব্যবহার হতে পারে।
- HMNB Portsmouth – এখানে রয়েল নেভির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সারফেস শিপ, সহ বিমানবাহী জাহাজ HMS Queen Elizabeth ও HMS Prince of Wales স্থাপন করা আছে।
- HMNB Devonport, Plymouth – পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তম নৌ ঘাঁটি, যেখানে অ্যাম্ফিবিয়াস জাহাজ, গবেষণা ও জরিপ জাহাজ এবং রয়েল নেভির ফ্রিগেট রয়েছে।
- GCHQ, Cheltenham – ব্রিটেনের প্রধান গোয়েন্দা ও সাইবার সংস্থা, যেখানে সম্ভাব্য আক্রমণ কেবল সাইবার হামলার মাধ্যমে হতে পারে।
স্টিকো বলেছেন, “একটি ব্যাপক সামরিক হামলার সম্ভাবনা কম। তবে গোপন বা সাইবার হামলার আশঙ্কা বেশি। ইরান ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছে। সম্ভাব্য হামলা হতে পারে সাইবার আক্রমণ, ইসরায়েলি বা ইহুদি সম্প্রদায়ের লক্ষ্যবস্তু, অথবা সামরিক বা সরকারি সংস্থার উপর।”
তিনি যুক্তরাজ্যবাসীর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন: “সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খবরাখবর রাখুন, চারপাশে সতর্ক থাকুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। MI5 ও কাউন্টার-টাররিজম পুলিশ সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা প্রতিহত করতে সক্ষম। নিরাপত্তা কাঠামো প্রস্তুত ।”
স্টিকো জোর দিয়ে বলেন, “যদি কোনো আক্রমণ ঘটে, এটি সম্ভবত GCHQ-র সাইবার ঘাঁটিকে লক্ষ্য করবে। মূল লক্ষ্য হলো অপ্রত্যাশিত এবং গোপন হামলা—যা সাধারণ মিলিটারি আক্রমণের চেয়ে অনেক কঠিন।”































































