রবিবার রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, এতে শহর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শনিবার রাত ১টার (জিএমটি ২২০০) ঠিক পরেই কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে সতর্ক করে যে, রাশিয়া একটি হাইপারসনিক ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে।
হামলার সময় ওরেশনিক কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কিনা, সে বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে বিমান বাহিনী কোনো সাড়া দেয়নি।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, শহরে এই হামলায় দুজন নিহত এবং ৫৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহরের ঐতিহাসিক ইন্ডিপেন্ডেন্স স্কোয়ারে কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
একটি হামলার স্থান থেকে পাঠানো এক টেলিগ্রাম বার্তায় ক্লিচকো বলেন, “কিয়েভের জন্য এটি একটি ভয়াবহ রাত ছিল।” এই মুহূর্তে উদ্ধারকারীরা আগুন নেভাচ্ছেন এবং ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন। চিকিৎসাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছেন।
শহরের মেট্রো স্টেশনগুলোতে অনেক বাসিন্দা রাতভর আশ্রয় নিয়েছিলেন। ৬২ বছর বয়সী নাতালিয়া জভারিচ বলেন, বিস্ফোরণে শহর কাঁপতে শুরু করলে তিনি দ্রুত তার স্থানীয় স্টেশনে ছুটে যান।
তিনি বলেন, “এটা ছিল ভয়াবহ, আতঙ্কজনক। আমরা এখন তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এখানে বসে আছি, ওপরের বিস্ফোরণের শব্দ শুনছি।”
শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান বলেছেন শহরের ৪০টিরও বেশি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের অন্যান্য অংশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক গভর্নর মিকোলা কালাশনিক বলেছেন, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলে হামলায় আরও দুজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন।
সূর্যোদয়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উন্মোচিত হলো
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড থেকে কালো ধোঁয়া দিগন্তজুড়ে ভেসে বেড়াতে থাকে, যা শহরের কিছু অংশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে দেয়। দমকলকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে হোসপাইপ ব্যবহার করে আগুন নেভাতে থাকেন এবং উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নেন।
ছবিতে দেখা গেছে, একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অফিস, দোকান, গুদাম এবং একটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়া ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাশিয়া এর আগেও ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুইবার ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা কয়েক হাজার কিলোমিটার এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দম্ভভরে বলেছেন, এটিকে আটকানো অসম্ভব, কারণ এর গতিবেগ শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি।
শুক্রবার পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে পুতিন তার সামরিক বাহিনীকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়ার পর জেলেনস্কির এই সতর্কবার্তা আসে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে তারা একটি রুশ ড্রোন কমান্ড ইউনিটকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
প্রতিবেশী পোল্যান্ড রবিবারের এই হামলার সময় তাদের সামরিক বিমানবাহিনী সক্রিয় করেছিল, কিন্তু তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা শনাক্ত করা যায়নি বলে পোলিশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে।


























































