অস্তির সময়
ছুটছে ওরা দিক বেদিক
উন্নত রুচি বিকশত জীবন
শুনছে না কেউ মানছে না কেউ
যেন কুরুক্ষেত্রের মহামিলন।
বিলুপ্ত সাধনা, রুদ্ধ চিন্তা,
বিবেক যেন আজ হারিয়েছে রথ।
দিশাহীন চোখে খুঁজছে সবাই
স্বপ্নের শেষ প্রান্ত।
রক্তমাখা মাটির বুকে
ধুলোয় ঢাকা পথের মাঝে
কে কাকে হারিয়ে খোঁজে?
জয়-পরাজয় মিলিয়ে গেছে
কেবল বাকি লড়াই।
কারা বন্ধু কারা শত্রু
বুঝতে চায় না কেউ তাই।
ছলনায় ঢাকা মুখের আড়ালে
সত্য আজ মৃতপ্রায়,
নিঃশব্দ ক্রন্দনে ভাসছে ধরণী।
জলরেখা
অনেক ডাকলাম অনুরাগের উৎকণ্ঠায়,
তবুও তুমি আসলে না।
ভেবেছিলাম তোমার কোমল ছোঁয়ায়
নিজেকে সিক্ত করবো,
চোখ মেলে দেখবো ধুলিমলিন পৃথিবী
আবার নতুন সবুজে ভরে উঠছে।
কিন্তু তুমি যখন আসলে,
তোমার অশান্ত ছোঁয়া বয়ে আনলো বিষাদের গর্জন,
কেড়ে নিলে জনা কয়েক জীবন,
সাথে ছিল কিছু অপার সম্ভবনাও।
আমি চেয়ে রইলাম নির্বাক, শূন্য দুই চোখে,
ভেবেছিলাম তুমি আশীর্বাদ, এ যে অভিশাপের অগ্নি।
কিন্তু বুকে চাপা ক্ষত রেখে গেলে তুমি,
ভেজা বাতাসে মিলিয়ে গেল নিঃশ্বাস।
তারপরও তোমার অপেক্ষায় বসে থাকি,
জলে ডুবে যাওয়া মাঠে একদিন ফুটবে ফসল।
তোমার প্রতিটি অশ্রুতে আছে শুদ্ধির গল্প,
যেমন জ্বালার পরে আসে প্রশান্তির নিশ্বাস।
তোমার আসা মানেই দুই ধারের খেলা,
এক পাশে জীবন, অন্য পাশে লাশের মেলা।
তবুও চোখ রাখি দূর নীল প্রান্তরে
হয়তো কোনো একদিন, শান্ত নদীর তীরে
তুমি আসবে সত্যিই—শুধু আশীর্বাদ হয়ে।


























































