হৃদয়ে৭১ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আবেদন জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা লন্ডন ভিত্তিক এই সংগঠনটি বাংলাদেশের মানবাধিকার, জনগনের জানমালের নিরাপত্তা ও দেশব্যাপী নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিবকে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহনের আবেন জানিয়েছে।
২০২৪ – যখন বাংলাদেশ ধ্বংস হলো (দ্বিতীয় অধ্যায়)
২২ জুলাই ২০২৫ সংগঠনটির প্যাডে জাতিসংঘ মহাসচিব বরারের লিখিত এক পত্রে সংগঠনটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক সহিংস দমন-পীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘের জরুরী হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে।
পত্রে বলা হয় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই, উগ্রবাদিদের হুমকির মুখে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকরা বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি রক্ষায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে সমবেত হয়েছিল। সরকার সমর্তিত অনিবন্ধিত রাজনৈতি দল এনসিপি এবং উগ্র ইসলামপন্থিরা এর আগে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধ্বংস করেছে, যা একটি জাতীয় জাদুঘর ছিল যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক দুর্লভ দলিল, ছবি এবং প্রমাণ সংরক্ষিত ছিল।
https://www.dhakatribune.com/bangladesh/dhaka/372963/chronology-of-dhanmondi-32-destruction।
গোপালগঞ্জে এসে উগ্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠী ও এনসিপির নেতারা জাতির পিতার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক, অপমানজনক এবং মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের জাতির জনকের সমাধি গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিলে গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, মৌলবাদীদের সমর্থনপুষ্ট এনসিপি নেতাদের মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ সেখানে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের উপর গুলি চালায়।
সেনাবাহিনীর গুলিতে ২০জনেরও অধিক মানুষ নিহত হয় এবং অসংখ্য আহত হয়। এলাকায় কারফিউ জারি করে কারফিউর অধীনে আরও নৃশংসতা এবং নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।
সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরা হয়। চিঠিতে নিহতরা হলেন – দীপ্ত সাহা (২৫), পিতা সন্তোষ সাহা উদয়ন রোড, গোপালগঞ্জ শহর। রমজান কাজী (২৪), পিতা কামরুল কাজী, থানাপাড়া গোপালগঞ্জ। সোহেল মোল্লা (৩০), পিতা ইদ্রিস মোল্ল টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ। ইমন তালুকদার (১৮), পিতা আজাদ তালুকদার, আড়পাড়া, গোপালগঞ্জ সদর।
এই নৃশংস ঘটনাটি দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই নৃশংসতার বিষয়টি নজরে এনেছে, কোনও তদন্ত করা হয়নি, সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহতদের কোন ময়নাতদন্ত করা হয়নি; বরং এই অঞ্চল এবং এর বাইরেও জনগণের উপর আরও নৃশংসতা চালানো হচ্ছে। পত্রে এই জঘন্য ঘটনার নিন্দা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাধারণ নাগরিক হত্যাকারিদের জবাব দিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে বাংলাদেশের জনগণ ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা জাতিসংঘ এই মৌলিক নীতিগুলির সমর্থনে দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আবেদনকারীরা এমটাই প্রত্যাশা করেন। হৃদয়ে৭১ এর পক্ষে আবেদন পত্রে সাক্ষর করেন দেওয়ান গাউস সুলতান, আনসার আহমেদ উল্লাহ ও শাহ রূমী হক।































































