আলোচনার মাধ্যমে বিরাজমান সকল সমস্যার সমাধান সম্ভবঃ হাই কমিশনারের অপসারণের দাবী সম্পুর্ণ অন্যায় এবং অযৌক্তিক। যারা হাই কমিশনার ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের অপমান করেছে তাদের সকলের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ২১ নভেম্বর ২০২৫ লন্ডন সময় দুপুর দুই ঘটিকায় পূর্বলন্ডনের লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলদেশ সেন্টারের একাংশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুর রহমান এককথা বলেন। সেন্টারের একাংশের সিনিয়র সহসভাপতি জনাব মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি জনাব কবির উদ্দিন কাউন্সিল অব ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ফেরদৌসি রহমান, চীফ ট্রেজারার সায়েদুল হক, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইছবাহ উদ্দিন সহ এই গ্রুপের আরো অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক শহিদুর রহমান বলেন তাদের প্রতিপক্ষ জনাব দিলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অবৈধ। বিগত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ সেন্টারের বিরাজমান বিরোধ ও সমস্যা নিরসনের জন্য মাননীয় হাই কমিশনার মিসেস আবিদা ইসলাম সেন্টারের সাংবিধানিক চেয়ারম্যান হিসাবে গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ সেন্টারে কাউন্সিল অব ম্যানেজমেন্টের সভা আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু সেখানে হাই কমিশনার, ডেপুটি হাই কমিশনার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের অপদস্থ করা হয়। সভাস্থলে গিয়ে দেখা যায় চেয়ার টেবিল নেই। সব চেয়ার টেবিল সরিয়ে রাখা হয়েছে। সভা আহ্বানকারী হাই কমিশনারের অনুমতি ছাড়া মিডিয়াকে দাওয়াত দেওয়া হয়। সেখানে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়। গেট আউট গেইট আউট বলে তাদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি ডেপুটি হাই কমিশনারের গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হয়। (ভিডিও ফুটেজে এ সবের সত্যতা রয়েছে) চাইলে সর্বরাহ করা হবে।
এ সময় হাইকমিশনার ও হাই কমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সেন্টার অপমানিত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ পরিস্থিতিতে জন নিরাপত্তার স্বার্থে আমি পুলিশ কল করি।পুলিশী প্রহরায় হাই কমিশনার আবার বাংলাদেশ সেন্টারে ফিরে আসেন ও সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক শহীদুর রহমান বলেন, আমরা দুই পক্ষই একে অন্যের ভাই ও আত্মীয়। একই কমিউনিটির লোক। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিরাজমান সমস্যার সমাধান সম্ভব, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টার রক্ষায় তিনি কমিউনিটির সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনারের অপসারনের দাবী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, যারা তাদের অপমান করেছে তাদের হাই কমিশনারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
কোন ধরনের পরিবর্তন পরিবর্ধন ছাড়াই লিখিত বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো।
প্রেস কনফারেন্স আয়োজনে: বাংলাদেশের সেন্টার লন্ডন তারিখঃ ২১/১১/২০২৫ সময়ঃ দুপুর ১:৪৫ স্থানঃ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব। ১৭ই নভেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশ সেন্টারে ব্যবস্থাপনা পরিষদের একটি পুর্ব নির্ধারিত সভায় কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রসঙ্গে।
প্রেক্ষাপটঃ
আপনারা অবগত আছেন যে ২০২৩ সালের ২৬শে নভেম্বর বাংলাদেশ সেন্টারের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় যথাক্রমে:
১। পার্মানেন্ট সদস্যদের ১৮ জন প্রতিনিধি পার্মানেন্ট সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। (tenure দুই বছর) তন্মধ্যে ১৮ জন লাল প্যানেল থেকে এবং বাকী ১৭ জন সবুজ প্যানেল থেকে জয়লাভ করেন।
২) সাধারণ সদস্য ও আজীবন সদস্যদের ১৭ জন প্রতিনিধি তাঁদের সরাসরি ভোটে কেবল মাত্র লাল প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন (tenure এক বছর)। এই ৩৫টি শুন্য পদ পূরণ করে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্ট গঠিত হয় (পূর্ণতা পায়)। উক্ত নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াও কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টে রয়েছেন ১০ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (tenure until deceased) ও চারজন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধির (tenure until deceased)। সেন্টারের আর্টিকেলস অফ এসোসিয়েশন (বা সংবিধান) বিধান অনুযায়ী:
১) সব সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদাধিকার বলে সেন্টারের চেয়ারম্যান (সাংবিধানিক ভাবে সংরক্ষিত)।
২) চেয়ারম্যান এর সভাপতিত্বে নির্বাচনের অনধিক ৩ (তিন) মাসের ভিতরে কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের প্রথম সভা আহ্বান করা বাধ্যতামূলক (mandatory)।
৩) প্রথম সভায় ৭ জন সহ সভাপতি উপস্থিত সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। এবং প্রাপ্ত ভোটের ক্রমানুসারে তাঁদের জ্যেষ্ঠতা নির্ণয় করা হবে।
এইভাবে, একজন সাধারণ সম্পাদক ও ৩ (তিন) জন সহকারী সম্পাদক, একজন চীপ-ট্রেজারার ও ২জন সহকারী ট্রেজারার নিয়োগ দেয়া হয়। ৮ জন সদস্যদের একটি নির্বাহী (EC) কমিটি গঠন করা হয়। এক থেকে তিন সদস্যে বিশিষ্ট বিভিন্ন উপকমিটি (if and when necessary, non-mandatory) গঠন করা হয়। ব্যাংক ম্যান্ডেটপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়, যারা চেক দস্তখত করার জন্য বৈধতা পাবেন। প্রতিটি উপকমিটির মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস এর একজন প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে: উপরে বর্ণিত আর্টিকেল অফ এসোসিয়েশন না মেনে জনাব দেলোয়ার হোসেন কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সভা আহ্বান না করে নির্বাচনের দিনে তাঁকে সাধারণ সম্পাদকহিসাবে ঘোষণা দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেন। ফলে যে সংকট সৃষ্টি করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ২টি প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাহী (EC) কমিটি ও উপকমিটি সমূহ গঠিত হয়েছে। এবং বিগত দুই বছর ধরে নানামুখী সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
কমরেড শ্রীকান্ত দাশ’র ষোলতম প্রয়াণদিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল “স্মরণসভা”
অবৈধ কমিটির মাধ্যমে জনাব দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা চেক স্বাক্ষর করে ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। এই সব বিষয়ে আমাদের পূর্ববর্তী প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে আরো জানতে চাইলে পরবর্তীতে আমাকে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন।চলমান এই সংকট নিরসনে বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা বার বার বিফল হয়েছে। চ্যারিটি কমিশন একাধিক লিখিত নির্দেশনায় মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ট্রাষ্ট্রিদেরকে তাগিদ দিচ্ছেন। আরবিটেশন (obligatory medication) এর মাধ্যমে কোন কমিটি বৈধ তা নির্ধারণ করতে বলছে।
তাছাড়া সময়ের পরিক্রমায় জনাব দেলোয়ার হোসেন সহ তাঁদের লাল প্যানেল থেকে নির্বাচিত ১৭ জন প্রতিনিধি যাদের tenure সংবিধান অনুযায়ী এক বছর ছিল তাঁরা ১ বছর পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত না হওয়ায় কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টে তাঁদের পদ শূন্য হয়ে গেছে। তাই সাংবিধানিক ভাবে ১৭ জন কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সদস্য নং-39। ব্যাংক দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা অবৈধভাবে সেন্টারের তহবিল ও হিসাব দখল করে আছেন। তাঁদেরকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এমতাবস্থায় এই সংকট উত্তরণের ঐতিহাসিক ও চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মাননীয় রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আমাদের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক ও যৌথ আলোচনার পর সংবিধানে তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব বলে চেয়ার-এ্যকশনে কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সভা ডাকার সিদ্ধান্ত নেন। এবং বিগত ৪ঠা নভেম্বর প্রেরিত এক নোটিশে চেয়ার এ্যাকশনে ১৭ নভেম্বর কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সভা আহ্বান করেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্যাডে প্রেরিত নোটিশ প্রেরণের সঠিকতা নিয়ে সাংবাদিক ভাইয়েরা আমাকে ইতিপূর্বেও একাধিকবার প্রশ্ন করেছেন। উত্তরে আমি বলতে চাই: পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান পদে আসীন ব্যাক্তি তাঁর নিজের অফিসিয়াল প্যাডে নোটিশ প্রেরণ করতে পারেন। তবে যদি তিনি সেন্টারের কর্মচারী বা ভলান্টিয়ারদেরকে: যেমন পৌর্টফোলিও হোল্ডার, অফিস বেয়ারার, সেক্রেটারি বা ট্রেজারার পদবী হোল্ডার নোটিশ প্রেরণের পরামর্শ দিলে সেটা সেন্টারের প্যাডে প্রেরিত হতে হবে। এই বিষয়ে বিতর্ক অপ্রয়োজনীয় ও হাস্যকর।
১৭ই নভেম্বর কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সভায় পরিকল্পিত নাশকতা:
আমি যথারীতি সভাস্থলে নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হই বিকেল ৬:৩০ ঘটিকা। সেন্টারে প্রবেশ করে দেখতে পাই জনাব দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মিটিং রুমে তালা দিয়ে রেখেছেন। তাই আমি হল রুমে প্রবেশ করি। হল রুমে প্রবেশ পথে অন্তত দুইজন পার্মানেন্ট মেম্বারকে সেখানে উপস্থিত দেখতে পাই যারা কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সদস্য নয়। আরো দেখতে পেলাম বেশ কয়েকজন সন্মানিত সাংবাদিক হলের ভিতরে ও বাইরে ক্যামেরা ও ফ্লাশ উত্থিত করে প্রস্তুত রয়েছেন সুটিং এর জন্য। অবাক হলাম, কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্ট মিটিং কোন পাবলিক মিটিং নয়। কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্ট মিটিং এ অনুমতি ছাড় কারো প্রবেশ নিষেধ। যাই হোক, হল রুমে প্রবেশ করে দেখি রুমের ভিতরে পাতানো সমস্ত চেয়ার টেবিল উধাও। জনাব দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা পাতানো সব চেয়ার টেবিল গুটিয়ে একপাশে রেখে দিয়েছেন।
কিন্তু আমরা চেয়ার টেবিল বসানোর উদ্যোগ নেওয়ার পূর্বেই মাননীয় রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা সেন্টারে প্রবেশ করেন। মাননীয় রাষ্ট্রদূতের সেন্টারে আগমনের সাথে সাথেই অপ্রত্যাশিত ভাবে সাংবাদিক ভাইয়েরা বেপরোয়া ভাবে তাঁকে ঘেরাও করে রাখেন। এলোপাথাড়ি প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে থাকেন। ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভায় (non-public meeting) সাংবাদিকদের অননুমোদিত (without prior approval) উপস্থিতি ও তাঁদের এই অপ্রত্যাশিত আচরণের বৈধতা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
শুধু তাই নয়, ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য জনাব দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সর্বজনাব মাহবুব আহমেদ রাজু, আলী আহমেদ বেবুল, শিব্বির আহমেদ, মামুনুর রশিদ (ভিডিও ফুটেজ অনুকরণে) সহ তাঁর কতিপয় সহযোগী অত্যন্ত অশালীন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এবং সভাস্থলে চরম হাঙ্গামা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন। তাঁদের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ, চিৎকার করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও সভাস্থলের চেয়ার টেবিল গুটিয়ে রেখে সভা পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ফলে সভায় আগত মাননীয় রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য প্রতিনিধিদেরকে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কথা ও আচরণে তারা মাননীয় রাষ্ট্রদূত, উপ রাষ্ট্রদূত, মিনিস্টার কনস্যুলার, ফার্স্ট সেক্রেটারি সহ সভায় সমাগত সকল সদস্যদের সাথে বেয়াদবি ও অবমাননা প্রদর্শন করতে থাকে। ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য ও চেয়ারপার্সনের উপস্থিতিতে সভাস্থলের চেয়ার টেবিল প্রত্যাহার করে নিয়ে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দেয়।
ঘটনাস্থলে চেয়ারপার্সন ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া সাংবাদিকদের ডেকে এনে সুপরিকল্পিত ভাবে সভাকক্ষে হৈচৈ হট্টগোল ও গালিগালাজ করে এক ভীতিকর নৈরাজ্য সৃষ্টির দ্বারা সভার কাজ বিঘ্নিত করে। নিরাপত্তাহীন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার মাধ্যমে রাষ্ট্রদূতকে জোর পূর্বক সভাস্থল পরিত্যাগ করতে বাধ্য করে। এমনকি মাহবুব আহমেদ রাজুকে মাননীয় রাষ্ট্রদূতের গাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করতে দেখা যায় (যা ভিডিও ফুটেজে পরিস্কার প্রতিয়মান)। বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় নারীদের উদ্দেশ্য যে সব গালিগালাজ করা হয় তা কোন সভ্য মানুষের মুখের ভাষা হতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী ডিসিপ্লিনারি ব্যবস্থা সহ সকল আইনানুগ ব্যাবস্থা নিতে হবে। এদের আচরণ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই এদের জন্য Company ACT 1948 এর আওতায় public safety ও security নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে CRB/DBS Check সহ mental health এর reference নিতে হবে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ঘটনার আকষ্মিকতায় অকুস্থলে ভয়ভীতি ছরিয়ে পরে।
তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে (Public Safety & Security) সেন্টারের সেক্রেটারি হিসেবে আমি অধ্যাপক শহীদুর রহমান পুলিশের সহযোগিতা কামনা করি। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। এমতাবস্থায় সকলের অনুরোধে মাননীয় রাষ্ট্রদূত সভায় ফিরে আসেন এবং সভার কাজ শুরু করেন। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও জনাব দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা সভার কাজে বাঁধা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশ মাহবুব আহমেদ রাজুকে ডেকে নিয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক করে দেয়। অবস্থার প্রেক্ষিতে মাননীয় রাষ্ট্রদূত সভার কাজ সংক্ষিপ্ত করেন। তাঁর নাতীদীর্ঘ আলোচনায় রাষ্ট্রদূত সকল সাংবাদিক সহ দেলোয়ার হোসেন ও অন্যান্য প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের উদ্দেশ্য বলেন:
১. আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর আমার পূর্ববর্তী রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য সহকর্মীদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেন্টারের বিগত নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হই।
২. আমি পরবর্তীতে বিবদমান পক্ষগুলোর বিরোধ নিরসনে তাঁদের প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক ভাবে বৈঠক করি।
৩. তৎপরবর্তীতে আমি বিবদমান পক্ষগুলোর সাথে যৌথভাবে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করি।
৪. কোন কোন পক্ষের অনমনীয় মনোভাবের কারণে সমঝোতার সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।
৫. বিবদমান পক্ষগুলোর বিরোধ নিরসনে বিকল্প পন্থা হিসেবে সংবিধানে চেয়ারপার্সন এর উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে আমি চেয়ার-এ্যাকশনে কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সভা আহ্বান করি ১৭ই নভেম্বর।
৬. আমার সহকর্মীদের সহযোগিতায় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সকল সদস্যদের কাছে সংবিধিবদ্ধভাবে নোটিশ প্রেরণ করা হয়।
৭. আমার উদ্দেশ্য ছিলো: যেহেতু সেন্টারের বাধ্যতামূলক বার্ষিক সভা বা AGM, প্রতিনিধি নির্বাচন (Biennial election) আসন্ন।
৮. এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণের মাধ্যমে বিরাজমান সংকট সমাধান করা সম্ভব।
৯. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে কাউন্সিল অফ ম্যানেজমেন্টের সভায় AGM অনুষ্ঠানের জন্য স্থান, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা।
১০. প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য: নির্বাচন কমিশন গঠন করা।
১১. নির্বাচন কমিশনকে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যদেরকে নিয়ে চেয়ারম্যান নেতৃত্বে একটি উপ কমিটি (Sub-Committee) গঠন করা।
১২. পরিশেষে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নবনিযুক্ত কমিটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলমান সংকট সমাধান করা।
১৩. বাংলাদেশে সেন্টারকে একটি সময়োপযোগী সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যকর ভাবে গড়ে তোলা।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে মাননীয় রাষ্ট্রদূতের এই মহতী উদ্যোগ আজ সুপরিকল্পিতভাবে কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অবাঞ্চিত কর্মকান্ডে নস্যাৎ করে দেয়া হলো। আমরা এই হটকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সেন্টারের চলমান সংকট আরো ঘনীভূত করবে নিঃসন্দেহে। এই সমস্যার সমাধান কল্পে সকল সদস্যদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ সেন্টারে যে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে এই মহতী উদ্যোগকে নস্যাৎ করা হল তা কেবলমাত্র নিন্দনীয়ই নয়, তা কমিউনিটির জন্য ক্ষতিকর ও নাশকতামূলক। দেশ ও জাতির স্বার্থে এই ঐতিহাসিক সেন্টারের অচলাবস্থার অবসান জরুরী। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।


























































