শনিবার ৯মে ২০২৬ হিন্দু এইড ইউকে‘র বার্ষিক সাধারন সভা লন্ডনের হায়দ্রাবাদ প্যারাডাইসে অনুষ্টিত হয়। সভায় ট্রাস্টি, সমন্বয়কারী, স্বেচ্ছাসেবক, সমর্থক এবং কমিউনিটির সদস্যরা বিগত বছরে সংস্থার, অর্জন,অবদান ইত্যাদি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি আলোচনা করতে একত্রিত হন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রী অনুপম সাহা, সভার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের শুরুতে প্রধান সমন্বয়কারী ডঃ সুকান্ত মৈত্র উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। ডঃ সুকান্ত সংস্থাটির মূলনীতি, “মানবতার সেবাই ঈশ্বরের সেবা,”-এর ওপর আলোকপাত করেন এবং উপস্থিত সকল ও স্বেচ্ছাসেবকদের তাঁদের নিরন্তর নিষ্ঠা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বাবু অনুপম সাহা সংস্থাটির অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন এবং এর স্বেচ্ছাসেবী-চালিত কাঠামো ও স্বার্থের সংঘাত ছাড়াই কমিউনিটির সেবা করার প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন। সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী জনাব মিহির সরকার কোভিড-১৯ সময়কালে হিন্দু এইড ইউকে-র সূচনালগ্ন নিয়ে আলোচনা করেন এবং তখন থেকে সংস্থাটি কীভাবে তার মানবিক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক কার্যক্রম প্রসারিত করে চলেছে, তার রূপরেখা তুলে ধরেন।বাবু অনুপম সাহা কর্তৃক বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে, সংস্থাটি ২০২৫ সাল জুড়ে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- সহযোগী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় সামাজিক তহবিল সংগ্রহ ও কল্যাণমূলক অনুষ্ঠান
- ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা
- শিশুদের জন্য শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা প্রকল্প
- শীতকালীন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম
- জরুরি মানবিক সহায়তা উদ্যোগ
- নারীদের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা কর্মসূচি
সংস্থার কোষাধ্যক্ষ শ্রী সোজয় সাহা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। শ্রী অজিত সাহা সংস্থার বেশ কিছু ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের রূপরেখা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা প্রদান, সংকট ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকরণকে উৎসাহিত করা এবং বৃহত্তর সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা।
তিনি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সহায়তা উদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কেও কথা বলেন। মিস সুচিস্মিতা মৈত্র তরুনদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং একটি যুব-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। মিঃ সুজিত সেন বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করতে এবং সামাজিক উদ্যোগে যুবকদের জোরালো অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গুরুত্ব সম্পর্কে তার পরামর্শ তুলে ধনে।
শ্রী শান্তনু দাস গুপ্ত ভারতে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ এবং বিনামূল্যে স্কুলের খাবারসহ সফল বৈদেশিক প্রকল্পগুলোর কথা বর্ণনা করেন। শ্রী কমল সাহা কমিউনিটি অংশীদারদের সহযোগিতায় আয়োজিত সাম্প্রতিক ৫কে রাইজ অ্যান্ড রান সুস্থতা অনুষ্ঠানের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন, যেখানে প্রায় ১০০ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শ্রী সৈকত দত্ত হিন্দু এইড ইউকে দ্বারা লালিত সামাজিক চেতনার প্রশংসা করেন এবং সুস্থতা ও সামাজিক সংযোগকে উৎসাহিত করে এমন আরও উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। শ্রী অধীর দাস শিক্ষামূলক ও প্রচারমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সমর্থন এবং সামাজিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ব্যারিস্টার শুভগত দে সংগঠনটির অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্মানজনক পরিবেশের প্রশংসা করেন এবং সকলের ধারণা ও অবদানকে সমানভাবে মূল্যায়ন করার প্রতি এর অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আইনি নির্দেশনা ও ওকালতির কাজের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। শ্রী রঞ্জিত সাহা সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রচার, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং জনসমর্থন বাড়িয়ে সংগঠনটির পরিধি প্রসারিত করতে সাহায্য করার জন্য উৎসাহিত করেন। বাবু শ্যামল দত্ত সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আরও বেশি মানুষকে সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে উৎসাহিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। জনাব রয়্যাল মিত্র ঐক্য ও সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এবং বৃহত্তর সামাজিক নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা। শ্রী অভিজিৎ দেব সহ বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী,
মিঃ বিশন মজুমদার, মিঃ ঝোটন শীল, মিঃ উত্তম দে, মিঃ প্রসেনজিৎ কে পল, মিঃ পঙ্কজ ঘোষ, মিঃ অম্লান রক্ষিত মিঃ দিলীপ হালদার, মিঃ পাপ্পু সাহা, মিঃ পিল্টন দে, মিঃ প্রভাংশু মজুমদার, মিঃ মানিক সাহা, মিঃ অমিতাভ বণিক এবং শ্রী রূপম সাহা সংস্থাটির কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ সামাজিক ও দাতব্য উদ্যোগে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন।সভায় জনাব অজিত সাহা নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি এবং নতুন ট্রাস্টি বোর্ড এর নাম ঘোষণা করেন। সকল স্বেচ্ছাসেবক, দাতা, সদস্য এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভাটি সমাপ্ত হয় , যাঁরা হিন্দু এইড ইউকে‘র বৃদ্ধি ও প্রভাবে এবং সেবা, সহানুভূতি ও সম্মিলিত কর্মের মাধ্যমে কমিউনিটিকে সহায়তা করার লক্ষ্যে ক্রমাগত অবদান রেখে যাচ্ছেন।



























































