আমার সহপাঠী বন্ধু মোঃ মুহিবুর রহমান কিরণ, সম্প্রতি সম্পাদনা করেছেন বিশ্বের শত কবির কবিতা ও কবিতাংশ, নাম দিয়েছেন কালের কঙ্কন (বিশ্বের শত কবির শাশ্বত উচ্চারণ)
বইটি প্রকাশের পূর্বেই আমি এ সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে জ্ঞাত হয়েছিলাম, এরপর বিরামহীনভাবে আমি তাঁকে উৎসাহ দিয়ে গেছি।
প্রকাশের পর বইটি হাতে পেয়ে, আমি সঙ্গত কারণেই অত্যন্ত খুশি হয়েছি, বইটিতে সূচিবদ্ধ হয়েছেন আরবের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রাচীন কবি ইমরুল কায়েস, পারস্যের কবি ওমর খৈয়াম, হাফিজ সিরাজী।
বাংলাভাষার আদি পুস্তক চর্যাগীতির কয়েকটি শ্লোক, দ্বিজ চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি থেকে বড়ু চণ্ডীদাস, দৌলত কাজী, আলাওল প্রমুখ বাংলা ইংরেজি ও বিশ্ব সাহিত্যের একশত গুরুত্বপূর্ণ কবির কবিতা।
এই সংকলন পাঠে পাঠকের সুবিধা অনায়াসে এক সঙ্গে বিশ্বের একশত কবির মৌলিক কবিতার রসাস্বাদন করতে পারবেন।
কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে সম্পাদকের গলদঘর্ম হয়েছে সন্দেহ নেই। শত কবির সহস্র, সহস্র কবিতা পড়তে হয়েছে যাচাই-বাছাই করে পছন্দ সই কবিতা চয়ন করতে হয়েছে, সত্যিকার অর্থে এ এক বিপুল পরিশ্রমের কাজ।
তথাপি এই কর্ম সম্পাদন করে আমার বন্ধু, কবি মুহিবুর রহমান কিরণ বিশ্বের মুল্যবান কবিদের, কবিতা সংগ্রাহকের তালিকায় নিজের নামটি পাকাপোক্তভাবে লিপিবদ্ধ করতে পেরেছেন, যা নিঃসন্দেহে গৌরবের।
আরেকটু ভালো হত যদি চর্যাপদ এর শ্লোক, বিদ্যাপতি বড়ু চণ্ডীদাস প্রমুখ কবির কবিতার অনুবাদ যুক্ত করতেন। বাংলার আদি ভাষ্যকার এই কবি গণের আদি পাঠ্যের বঙ্গানুবাদ এখন আর দুর্লভ নয়, আবার সাধারণ পাঠকের কাছে সুলভ ও নয়।
অন্যদিকে ইংরেজি কবিতার বাংলা অনুবাদ দিতে গেলে, হয়তো বইয়ের কলেবর বৃদ্ধি পেত, এজন্য তিনি এ পথে যাননি? এতে তেমন সমস্যা হবেনা, আজকাল বঙ্গদেশে ইংরেজি জানাশুনা মানুষ নিতান্ত কম নয়, ইংরেজি কবিতা তাঁদের জন্যই।
এই বিবেচনায় বাংলা কবিতা বাংলাভাষী সাধারণের জন্য।
সুতরাং উভয় শ্রেণীর পাঠকের জন্য কাব্যিক আয়োজন রয়েছে এই সংগ্রহে।
অতএব আমি আমার বন্ধু কবির পরিশ্রমের ভূয়সি প্রশংসা করি, আর এই বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।
অধ্যাপক মোঃ আহবাব খাঁন
প্রবীন রাজনীতিবিদ,
সাবেক অধ্যাপক, ছাতক সরকারি ডিগ্রী কলেজ, সুনামগঞ্জ।




















































