পাঁচটি ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের দ্রুত অবনতিশীল মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে দেশে ইসলামি জঙ্গিবাদ, গণউচ্ছৃঙ্খলতার নামে সংঘটিত সহিংসতা, রাজনৈতিক দমন‑পীড়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জঙ্গিবাদ‑অনুকূল গোষ্ঠী—যেমন জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম এবং হিজবুত তাহ্রীর—খোলাখুলিভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাদের কর্মকাণ্ড ব্যাপক ভয়‑ভীতি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব গোষ্ঠীর চাপের মধ্যেই ১২ মে ২০২৫ তারিখে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়।
পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, যখন সমন্বিত হামলায় প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভারতীয় হাই কমিশনের একাধিক কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এসব ঘটনা আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত রাজনৈতিক দমন‑পীড়ন ও ভয়‑ভীতি প্রদর্শনের কৌশল।
অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে একটি আদেশ জারি করে পূর্ববর্তী হামলার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নিষিদ্ধ করে—যার ফলে জঙ্গিবাদ‑অনুকূল গোষ্ঠীগুলোর দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয় এবং আইনের শাসন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
স্বতন্ত্র চিঠির মাধ্যমে উল্লিখিত নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি স্বাধীন ফ্যাক্ট‑ফাইন্ডিং মিশন প্রেরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত, এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের—বিশেষত দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের—অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ এখন এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দ্রুত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া বর্তমান অস্থিরতা আরও তীব্রতর হতে পারে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলবে।































































