বালাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব লর্ডসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক সেমিনার। এতে বক্তারা বলেছেন বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র ঠিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই। দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
ব্রিটেনের বাংলা গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে (২০ অক্টোবর ২০২৫ সোমবার লন্ডন সময় বেলা ১১টায়) আয়োজিত এ বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দীন।
আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ‘‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়।’‘
বক্তারা বলেন, অভ্যুত্থানের পর নৈতিক শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। নির্বাচন বিলম্বিত হলে বা প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলে তা জনগণের হতাশা ও নতুন রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে এখনই একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যাতে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। লেবার পার্টির এমপি রোশনারা আলী ও রূপা হক তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের ওপর জোর দেন।
ইউকেবাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন, গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর। বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা দূর করার একমাত্র উপায় হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জাতিকে আশার আলো দেখানো।
কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক এমপি ডা. আনেওয়ারা আলী বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলে তবেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
লেবার পার্টির পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার জাহিন আহমদ বলেন, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে থাকবে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন বলেন, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
সভায় ইউকেবাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মুনজের আহমদ চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু অর্থবহ পরিবর্তনের কোনও লক্ষণ নেই। ড. ইউনুসের প্রতি জনমানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। প্রায় দুই দশক পর নির্বাচনের যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। রাজনীতির মাঠে এখন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিনের উপদেষ্টা সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, প্রবীণ কমিউনিটি নেতা শাহগীর বখত ফারুক, ব্যারিস্টার রেজা চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম, আরিফ আল মাহফুজ, মাহবুবুল করিম সুয়েদ, এস এম সামসুর রহমান সুমেল, তানভীর আহমেদ, জাহেদ আহমদ, আব্দুল বাসিত চৌধুরী, নিশাদ দস্তগীর, আক্তার হোসেন টুটুল, ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান, ও সাংবাদিক এমদাদুল হক প্রমুখ।


























































