সপ্তাহান্তে পূর্বাঞ্চলীয় একটি রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে বাতাসে গুলি চালানোর অভিযোগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। যুব বিক্ষোভের যে ঢেউ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল, এটি ছিল সেই ঢেউয়ের সর্বশেষ উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাঠি দিয়ে ছাত্রদের পেটানো এবং ২০শে জুলাই রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদের দিকে মিছিল করে যাওয়া হাজার হাজার মানুষকে হটিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া।
ছাত্র ও অন্যদের দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা এবং পুলিশের দ্বারা নিশ্চিত করা ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার বিহার রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিওয়ানে দাঙ্গা-প্রতিরোধী পোশাকে সজ্জিত এক পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের একটি দলের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন, তাদের দিকে একটি একে-৪৭ রাইফেল তাক করছেন এবং বাতাসে অন্তত তিনটি গুলি চালাচ্ছেন।
বিহার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নীলেশ কুমার বলেছেন, কেউ আহত হননি এবং গোয়েন্দা ইউনিটের একজন কনস্টেবলকে অ্যাসল্ট রাইফেলটি দেওয়া হয়েছিল, যে ইউনিটটি “ভয়ঙ্কর, দুর্ধর্ষ অপরাধীদের” নিয়ে কাজ করে।
পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল কুমার সোমবার রয়টার্সকে বলেন, “কনস্টেবলটি ভুলভাবে একে-৪৭ ব্যবহার করেছেন। কোনোভাবেই এর ন্যায্যতা প্রমাণ করা যায় না।” তিনি আরও বলেন, “তিনি এটি ভুলভাবে ব্যবহার করেছেন, কারণ তারা ছাত্র ছিল। এমনটা করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এ কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মে মাসে ২০ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর দেওয়া একটি জাতীয় মেডিকেল কলেজের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এই বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পুনরায় পরীক্ষা নিতে বাধ্য করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আরও অন্যান্য বিষয় রয়েছে, প্রধানত যুব বেকারত্ব এবং তরুণদের মধ্যে এই ভয় যে, এআই (AI) ভারতের পরিচিত আইটি ব্যাক অফিসের মতো জায়গাগুলোতে তাদের চাকরি কেড়ে নিতে পারে।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিবাদের জেরে শনিবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।
সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করল বিরোধী দল।
সংসদে বিরোধী কংগ্রেস দলের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “আমাদের ইতিহাসে গণতন্ত্রের ওপর এটি অন্যতম গুরুতর আঘাত। এর আগে কখনো ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ করার জন্য মারধর করা হয়নি, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি এবং অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়নি।”
“বিহারে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে একে-৪৭ ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। এর জন্য দায়ীরা জবাবদিহিতা থেকে বাঁচতে পারবে না।”
এই বিষয় নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে সংসদের উভয় কক্ষ মুলতবি করার আগে সরকারি মন্ত্রীরা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার এক ভাষণে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া বলেন, “এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে ভারতে ভিন্নমত প্রকাশের পরিসর সংকুচিত হচ্ছে।” দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন কর্মরত বিচারপতির পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য বিরল।
“নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার অধিকার নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা।”


























































