কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোটোতে ৭.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সাময়িকভাবে একটি সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা তুলে নেওয়া হয়।
সংস্থাটি জানায়, টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কুমামোটো, নাগাসাকি, ফুকুওকা এবং সাগা প্রিফেকচারের পশ্চিম উপকূলের নিকটবর্তী আরিয়াকি ও ইয়াতসুশিরো সাগরের জন্য এই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.১ জানালেও পরে তা সংশোধন করে ৬.৮ করে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স-এ পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, তার সরকার তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতির জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।
তাকাইচি পরে সাংবাদিকদের জানান, বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন এবং রাস্তা, সেতু ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেইসাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অগ্নিকাণ্ডের খবরও পাওয়া গেছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনও অস্পষ্ট। তাকাইচি রান্না করার সময় আগুন এবং ভাঙা কাচের টুকরো নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।
কিয়োদো সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইয়াতসুশিরো শহরের একটি হাসপাতাল ভূমিকম্পে আহত প্রায় ৪০ জনকে ভর্তি করেছে। কিয়োদো আরও জানায়, ইয়াতসুশিরো স্টেশনে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে কাত হয়ে পড়ে এবং কুমামতো দুর্গের পাথরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাছের শহর মাশিকির একটি শিন্তো মন্দিরের পুরোহিত ইয়োজো কাই বলেন, কয়েকটি পাথরের লণ্ঠন নিচে পড়ে গেছে। তিনি কিয়োদোকে বলেন, “আমি চিন্তিত ছিলাম যে প্রধান হল এবং ফটকটি আবার হেলে পড়বে কিনা।”
মিফুনে টাউন হলের একজন কর্মকর্তা হিরোকি শিমোদা, যিনি কাছের বাড়িগুলোর ছাদের টালি মাটিতে ভেঙে পড়তে দেখেছিলেন, তিনি বলেন, “কম্পনটি আমাকে (১০ বছর আগের) কুমামতো ভূমিকম্পের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল এবং আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
জাপানের অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বড় কোনো সরকারি স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, যদিও কর্তৃপক্ষ এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছে। স্থানীয় দমকল বিভাগগুলো বাড়িঘরে আগুন ও ক্ষয়ক্ষতির খবর দিয়ে বহু জরুরি ফোনকল পেয়েছে।
তাকাইচি বলেন, “আমরা মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি,” এবং সম্ভাব্য আফটারশকের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্রভাবে কম্পিত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জেএমএ-এর ভূমিকম্প ও সুনামি প্রতিরোধ পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিনজি কিয়োমোতো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অগভীর ভূমিকম্পটি এলাকায় সক্রিয় ভূকম্পন সৃষ্টি করছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তবে তিনি বলেন, স্থলভাগের এই ভূমিকম্প থেকে কোনো সুনামি দেখা যায়নি।
জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিকটবর্তী তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য কিউশুতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন ও লোকাল ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, আসো কুমামতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার কোনো সম্ভাবনা নেই”।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য তারা ওই এলাকায় বিমান পাঠিয়েছে।
২০১৬ সালে কুমামতো একটি মারাত্মক ভূমিকম্পে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত, ১,৮০০ জন আহত এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল।































































