আমি ঢাকা থেকে শশুর বাডী বরিশাল যাওয়ার সময় একবার “লেপচা” জাহাজে গিয়েছিলাম আর ফিরেছিলাম “গাজী” নামক জাহাজে। সেই প্যাডেল ওয়ালা জাহাজে খুব মজার ভ্রমন ছিল। আর ছিল জাহাজের খাওয়া-দাওয়া। রান্না যেমন চমৎকার ও সুস্বাদু ঠিক তেমনি রুচি সম্মত। সে কথাগুলি এখনোও মনকে নাড়া দেয়। এই সব পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে যখন নদী পথে কোথাও যাই। এবার আমরা ফ্লোরিডার মায়ামী থেকে বাহামা গিয়েছিলাম। সমুদ্রের নীল সচ্ছ জলরাশি আর তীব্র হাওয়া। জাহাজ চলছিল সাগরের পাড়ের কাছ দিয়ে সেখানে দেখলাম সারি সারি নাড়িকেল (ডাব) আর পাম গাছের প্রাধান্য, যদিও অন্য গাছও ছিল কিন্তু সে সব গাছকে পিছনে ফেলে ডাব গাছের জয় জয়কার ছিলো।
জাহাজের ভিতর নাচ গান হৈহুল্লার সমানে চলছিল আর চলছিল বুফে খাওয়া সেই সাথে ছিল খোলা বার। জাহাজ কতর্িৃপক্ষ ফ্রি পিনাকোলোডা সরবরাহ করলো প্রত্যেক যাত্রীকে। হঠাৎ জাহাজটি কেপে উঠলো এবং প্রচন্ড ঝাকুনিতে স্টার্ট বন্ধ হবার উপক্রম হলো, ইঞ্জিন রুম থেকে বিকট শব্দ হচ্ছিল আর ধোয়ায় ছেয়ে গেলো জাহাজটি, আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম, চিল্লা চিল্লি আরম্ভ করলো সবাই, সেই সাথে যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট যে কটা ছিল তাই নিয়ে রীতিমত কাঁড়াকাডি শুরু হয়ে গেলো। এ থেকে আমিও বাদ গেলাম না, কিন্তু ওদের শক্তিমত্তার কাছে আমি পেরে উঠছিলাম না।
শেষে জাহাজের ক্যাপ্টেন এসে সবাইকে ভরসা দিলেন ভয়ের কিছু নেই। বাহামা থেকে ফিরতি জাহাজের সাথে ধাক্কা লাগায় এই বিপদ হয়েছে। আমরা ডুবতে ডুবতে বেচে গেছি ঠিক টাইটানিক জাহাজের মত। এক যাত্রী বলেই বসলো যখন টাইটানিক এর কথাই উঠল তখন ঐ ডুবে যাওয়া টাইটানিকের কথা না শুননেতো চলবে না। মুচকি হাসি দিয়ে ক্যাপ্টেন চলে গেলেন। কিছুক্ষন পরেই ফিরে এলেন। তিনি বল্লেন, আমাদের দ্বীপে যেতে যেতে আপনাদের শুনাই টাইটানিকের গল্প। এক জাপানী যাত্রী জানতে চাইলো, আপমিতো হুইলে নাই, কে দেখবে জাহাজ? আবার যদি কোন দূর্ঘটনা হয়? ক্যাপ্টেন আমাদের জানালেন, ভয়ের কিছু নাই, আমার জাহাজের সেকেন্ড অফিসার হুইলের দেখা শুনা করছে।
শুরু হলো কাহিনী ——-১৯১২ সালের ১১ এপ্রিল অত্যাধুনিক টাইটানিক জাহাজ ইংল্যান্ডের সাদাম্পটন বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বন্দরের দিকে যাত্রা করে। এই টাইটনিক জাহাজের সমুদ্র যাত্রার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ৬৩ বছর বয়স্ক ক্যাপ্টেন স্মীথ কে, যার ছিল দীর্ঘ দিনের সমুদ্র যাত্রার ব্যাপক অভিজ্ঞতা। আটলান্টিক মহাসাগরে বিভিন্ন সময় অসংখ্য জাহাজ ডুবির ঘটনা সবাই জানি, তারপরও সন্দেহের কোন কারন ছিল না। এক সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ ছিল টাইটানিক। এই জাহাজ লম্বায় ছিল ৮৮২ ফুট আর টাইটানিক তৈরী করতে খরচ হয়েছিল সর্বমোট ২০ কোটি ডলার, আর এই টাইটানিক নির্মান করেছিল ইংল্যান্ডের হোয়াইট স্টারমাইন সংস্থা। এই জাহাজের ওজন ছিল ৪৬ হাজার ৩২৮ টন। টাইটানিকে যাত্রী ও মালামালসহ বহন ক্ষমতা ছিল ৬৬ হাজার টন, তার ছিল ৪ টি চিমনি, নীচতলা থেকে চিমনির শীর্ষ পর্যন্ত উচ্চতা ছিল ১৭৫ ফুট। জাহাজের ছিল ১০ টি ডেক, এই ডেকগুলিতে হেটে বেড়ালে ৭ মাইল পথ হাঁটার সমান হতো। উল্লেখ্য টাইটানিকটি ১১ তলার সমান ছিল। যাত্রীদের দেখাশুনা ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য গড়পরতা প্রতি যাত্রীর জন্য প্রায় ১ জন করে কর্মচারী ছিল। এই জাহাজটির শুরুতেই বারবার সংকেত দিচ্ছিল টাইটানিকের ভাগ্য ভাল নয় যেমন – টাইটানিক যখন উন্মুক্ত করা হয় আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে তখন একটি দুর্ঘটনায় এক শিপওয়ার্ডের শ্রমিক মারা যায়। টাইটানিক যখন রওয়ানা দেয় তখন নিউ ইয়র্ক থেকে এক যাত্রীবাহী জাহাজের সাথে ধাক্কা লাগার থেকে কোন রকম বেচে যায়। অবশেষে মাঝরাতে একটি হিমশৈলের ধাক্কা কোনমতেই এড়াতে পারেনি, টাইটানিক আটলান্টিকের হিমশীতল অথৈ জলের নীচে ডুবে যায়। এই বিরাট বড় জাহাজের রাডারের ওজন ছিল ১০১ টন, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের জাহাজ সান্তামারিয়ার পুরো ওজনের চাইতে ভারী।
আগেই বলেছি টাইটানিকে যাত্রি সংখ্যা ছিল সব মিলিয়ে ২২২৪ জন (যাত্রী ছিল- ১৩১৬ জন আর ৮৯১ জন ছিল ক্রু) প্রথম শ্রেনীর প্রতিটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩,১০০ ডলার, (১৯১০ সালের বাজার মূল্য অনুসার এক লাখ ২৪ হাজার ডলার)। যাত্রীদের খাদ্য হিসাবে প্রায় এক লাখ পাউন্ড মাংশ ছিল। জাহাজটির সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২৩ নটিক্যাল মাইল। টাইটানিক যাতে ডুবে না যায় তাই ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাচার জন্য ১৬ টি ওয়াটার টাইট কম্পার্টমেন্ট করা হয়েছিল। কিন্তু হিমশীতল আইসবার্গের সাথে যখন ধাক্কা লাগে তখন ১৬ টির মধ্যে ৫ টি ধ্বংস হয়, যা পুরো জাহাজটিকে বরফশীতল পানিতে ডোবানোর জন্য যথেস্ট ছিল। গভীর সমুদ্রে টাইটানিকের যাত্রা পথে সামনে বিপদজনক আইসবার্গ (হিমশৈল বা বরফের বড বড খন্ড) আছে সেরাকম বার্তা পাচ্ছিল কিন্তু জাহাজটি এ সব না মেনে সামনের পানে এগিয়ে চলছিল। তারপর যা হওয়ার তাই হলো।
এই পর্যন্ত বলে আমাদের জাহাজের ক্যাপ্টেন উঠে দাঁড়ালেন চলে যাবার জন্য সে সময় আমিসহ বেশ কয়েকজন জানতে চাইলাম টাইটানিকতো ডুবে গেলো কিন্তু তার যাত্রীদের ভিতর কেউ কি বাঁচতে পারেনি? ক্যাপ্টেন বল্লেন, আমি একটু চক্কর দিয়ে দেখে আসি তারপর না হয় বাকী কথা জানাবো। আমরা সবাই চুপচুপ বসে থাকলাম আর টাইটানিকের বাকী কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে ক্যাপ্টেনের অপেক্ষায় বসে রইলাম দরজার দিকে চেয়ে কারন যার কাছ থেকে বাকী কথা শুনবো, তিনিতো ঐ দরজা দিয়েই আমাদের কেবিনে আসবেন।
কিছুক্ষন পরে এলেন ক্যাপ্টেন রবার্ট তিনি কোন রকম ভনিতা না করে আমাদের কৌতুহল মিটানোর জন্য শুরু করলেন টাইটানিক জাহাজের বাকী ইতিহাস, তবে সংক্ষেপে— যখন জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনির যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুদের লাইফ বোর্ডে বাঁচানোর জন্য নৌকায় উঠানোর চেষ্টা করে। বাইরে তখন প্রচন্ড শীত প্রবাহিত হচ্ছিল তাই অনেকে বাইরে বের না হয়ে নিজেদের আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলো। আবার অনেকে এটা বিশ্বাস করেনি যে টাইটানিক ডুবতে পারে, কারণ লন্ডন থেকে টাইটানিকের কৃর্তিপক্ষ গর্বের সাথে ঘোষনা দিয়েছিলেন একটা সলা (পাঠ কাটি) ডুবতে পারে কিন্তু টাইটানিক ডুবতে পারে না। এই কথা যাত্রীরা বিশ্বাস করেছিল কিন্তু যেহেতু যাত্রীদের অনেকে বিশ্বাস করেনি জাহাজ ডুবতে বসেছে, তাই প্রথম লাইফ বোর্ডে ৬৫ জনের জায়গায় মাত্র ২৮ জন প্রান বাঁচাতে উঠেছিলো।
তৃতীয় শ্রেনীর কোন যাত্রীকে ডেকে (পাটাতন) উঠতে দেওয়া হয়নি কারন ডেকে উঠলে যদি ডেক ভারী হয়ে কোন বিপদ ঘটায় তাই তাদের আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। আর ওদিকে সবার ভয় ভাঙানোর জন্য একদল ব্যান্ডপার্টি তাদের ব্যান্ড বাজিয়ে চলছিলো। শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের বরফ ঠান্ডা পানি আর তীব্র শীতল বাতাসে খুব কম যাত্রীই প্রানে বাঁচার জন্য চেষ্টা করেছিল কিন্তু যখন অনেকে বুঝতে পারলো জাহাজ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তখন হুরাহুরি লেগে গেল। শেষে টাইটানিক দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়লো। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় নৌ- দুর্ঘটনা যা ইতিহাস হয়ে রয়েছে। এই টাইটানিকে যাত্রী ছিল সব মিলিয়ে ২,২২৪ জন আর মারা গিয়েছিল ১৫১৩ জন। কেবিনের একজন জানতে চাইলেন টাইটানিক বাঁচাতে কোন জাহাজ এগিয়ে আসেনি?
এবার ক্যাপ্টেন বল্লেন, আর কিন্তু কোন প্রশ্ন নয়। শুধু এই কথার উত্তর দিচ্ছি— টাইটানিক যখন ডুবে যাচ্ছিল তখন একটি অজানা রহস্যময় জাহাজ টাইটানিকের খানিক দূর থেকে যাচ্ছিল। টাইটানিক বিপদ সংকেত বা ডিসটোরস সিগন্যাল দিলেও কেউ সাঁড়া দেয়নি। পরে বিপদ সংকেত টের পেয়ে “কার্পাথিয়া” নামের একটি সমুদ্রগামী জাহাজ ঘটনা স্থলে পৌঁছেছিল তবে টাইটানিক ডোবার ২ ঘন্টা পর, তারপরও বরফ পার (ভেঙে) হয়ে সেই উদ্ধারকারী জাহাজটি টাইটানিকের কাছে পৌছে ৭০৫ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছিল সমুদ্রের অথৈ পানি থেকে। তবে সব কথার শেষ কথা হলো, ১১ এপ্রিল ১৯১২ সাল। দুপুর ২ টায় কুইন্স টাউন থেকে যাত্রী ও ক্রু নিয়ে নিউ ইয়র্কের পথে আটলান্টিক পাড়ি দিতে যাত্রা শুরু করেছিল টাইটানিক। যাত্রার দিন থেকে ৫ দিনে তাদের গন্তব্যে পৌছার কথা ছিল কিন্তু চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল রাত ১১ টা ৪০ মিনিটে হিমশৈলের সঙে ধাক্কা খাওয়ার প্রায় আড়াই ঘন্টা পর টাইটনিক জাহাজটি সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যায়। যা আজও বিশ্ববাসীর কাছে রহস্যময়। টাইটানিক জাহাজটি যখন অথৈ পানিতে ডুবে গেল তখন বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর চিঠি থেকে জানা যায় সে সময় ক্যাপ্টন স্মীথ ডাইনিং রুমে বসে মদ্যপান করছিলেন। তবে সত্য কথা হলো ক্যাপ্টেন স্মীথ তখন এক যাত্রির জন্মদিনের একটি পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং জাহাজটি দু খন্ড হয়ে গেলে তিনি ঠায় দাড়িয়ে থেকে জাহাজের সাথেই হীমশীতল সমুদ্রের পানিতে ডুবে যান।
আমাদের জাহাজের ক্যাপ্টেন গল্প বলে চলে যাবার উপক্রম করতেই আমরাও নড়ে-চড়ে উঠলাম। ক্যাপ্টেন কেবিনের সিঁড়ির দিকে রওয়ানা দিতেই আমাদের মধ্যে থেকে একজন ফ্রান্সের যাত্রী প্রশ্ন করে বসলেন, টাইটনিক জাহাজটি দূর্ঘটনায় সাগরে ডুবে গেল কিন্ত সেই জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়নি? ক্যাপ্টেন রবার্ট ঘুরে দাড়িয়ে বল্লেন, টাইটানিক সাগরে হারিয়ে যাবার পর অনেক দেশ অনেকবার উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে কিন্ত ফলাফল হয়েছে শূন্য, তারপরও উদ্ধারকারীরা হাল ছেড়ে দেয়নি তারা ১৯৭৭, ৮০, ৮১ এবং ৮৩ সালে ফ্রান্স ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজতে থাকে, অবশেষে ৭৩ বছর পর ফ্রান্সের গবেষক জ্যা লুই মিসেল প্রথম দেখতে পান মহাসাগরের নীচে ডুবে থাকা টাইটানিক। টাইটানিক জাহাজটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবেছিল, আর একটা মজার ব্যাপার হলো টাইটানিককে গভীর সমুদ্র থেকে উপরে উঠানোর জন্য অভিনব সব উপায় বের করেছিল গবেষকরা। যেমন, হাজার হাজার পিংপল বল ডুবে যাওয়া জাহাজের ভিতর প্রবেশ করিয়ে টাইটানিককে উপরে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্ত সেই চেষ্টা করার পরও সেটা ব্যার্থতায় পর্যভষিত হয়, এরপর চেষ্টা হলো অসংখ্য গ্যাস বেলুন দিয়ে ডুবন্ত জাহাজ পানির উপর আনার জন্য, কিন্ত সেটাও ব্যার্থ হলো।
পরে কর্তিপক্ষ হিসাব করে দেখলো টাইটানিক সমুদ্রের তলদেশ থেকে উপরে উঠাতে যে খরচ হবে তা দিয়ে কয়েকটি বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ তৈরী করা যাবে অতএব আপাততঃ টাইটানিক উদ্ধারের পরিকল্পনা বাদ দিতে হলো, এখন শ্যাওলা ও মরিচা পড়ে মাছের থাকা ও খাওয়ার স্থান হয়েছে আর এখন সম্পূর্ণ জাহাজটিতে ব্যাকটেরিয়ায় পূর্ন হয়ে গেছে। ক্যাপ্টেন তার কথা শেষ করে দ্রত উপরে উঠে গেলো।
রাশিয়ার এক যাত্রী যিনি ভাঙা ভাঙা ইংরেজী বলতে পারেন, সে নীরবতা ভেঙে কথা বল্লেন, আমারা সবাই মন্ত্র মুগ্ধের মত টাইটানিকের প্রথম ও শেষ যাত্রার কথা শুনছিলাম।
এখানে সিনেমা হলে “টাইটানিক” সিনেমাটি দেখেছিলাম, খুব ভাল লেগেছিল। এই ব্যাপারে তোমরা কেউ কিছু জানো কি? তবে জাহাজের ক্যাপ্টেন এতক্ষন যা বলে গেলেন তা আমার দেখা ছায়াছবির সাথে হুবাহু মিল দেখতে পেয়েছি। এই সিনেমাটি আমিও দেখেছিলাম, কিন্তু সিনেমা করার পিছনে কি ঘটনা ঘটেছিল সেটা আমি জানতাম না, আমাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি জেনে থাকে এবং সেই না জানা ঘটনা বলে তাহলে আশা করি আমাদের খুব ভাল লাগবে, বোধকরি সবারই পছন্দ হবে এমন সময় এক ইটালীর ভদ্রলোক সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেমস ক্যামেরনের সিনেমা “টাইটানিক” তৈরী করার সময় কি কি ঘটেছিল সেই কথা বলতে শুরু করলেন—টাইটানিক ছায়াছবি নির্মানের সময় পরিচালক জেমস ক্যামেরুন ডুবন্ত টাইটানিককে দর্শকদের কাছে বাস্তব রুপ দেবার জন্য সমুদ্রের তলে ডুবন্ত টাইটানিকের কাছে মোট ১২ বার ঘুরে আসেন এবং প্রতিবার ১৬ ঘন্টা করে অতিবাহিত করেন। জাহাজের ভিতর পানি ঢুকে যাওয়ার দৃশ্য ধারন করার জন্য পুরা ছবিতে কয়েক লাখ গ্যালন পানি ব্যাবহার করা হয়েছিল, যার আনুমানিক ওজন প্রায় ১২০ টন পানি। এই চলচ্চিত্র নির্মানে মোট ব্যায় হয় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজ নির্মানের চেয়েও অনেক গুন বেশী। টাইটানিক জাহাজটি নির্মান করতে মোট খরচ হয় ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ্যাৎ ৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ছবিতে জাহাজের নায়ক জ্যাক (লিওনার্দ দি কেপরিও) এর কেবিনে যে সব হাতে আঁকা ছবি দেখা গিয়েছিল সেই সব পরিচালক জেমস ক্যামেরুনের নিজের হাতে আঁকা। ছবির নায়িকা (কেইট উইন্সলেট) চলচ্চিত্রের দৃশ্য বাস্তবে রূপ দিতে অনেক ঠান্ডা পানিতে কয়েকবার নেমে অভিনয় করেছেন কিন্তু অপরদিকে আর সবাই (পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও অন্য কলাকুশলীরা) ওয়াটার প্রুফ জ্যাকেট পড়া ছিল। যার ফলে অভিনেত্রীর নিউমেনিয়া হয়ে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, পরিচালক ক্যামেরন এই সিনেমা তৈরী করতে উৎসাহ পেয়েছিলেন ১৯৬৬ সালে “ÒA Night to RememberÓ” চলচিত্রটি দেখার পর। এখন পর্যন্ত টাইটানিক ডোবার ঘটনার উপর বড় এবং ছোট পর্দায় প্রায় ৭ টি চলচিত্র নির্মান করা হয়েছিল। পরিচালক জেমস ক্যামেরনের টাইটানিক সিনেমার প্রযোজনা করেছিল, “২০ঃয পবহঃঁৎু ভড়ী”, মজার ব্যাপার হলো ছবির ব্যায় অত্যন্ত বেশী হওয়ায় পরিচালকের বেতন ৮ মিলিয়ন ডলার এবং লাভের হিসাবে যে আয় হবে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
টাইটানিক চলচিত্র তৈরী করার পিছনে অনেক ঘটনা আমরা জানতে পারলাম। এবং এ ব্যাপারে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল কিন্তু এদিকে আমাদের দ্বীপ পুঞ্জ এসে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সব যাত্রীরা নামার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।









































