পোপ লিও চতুর্দশ সাংবাদিকদের বলেছেন এআই (AI) গবেষকদের সতর্কবার্তাগুলোকে “গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত” এবং এগুলো কোনো “ভুয়া খবর” (fake news) নয়।
বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ: এআই নিয়ে যখন সমাজে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে, তখন পোপ লিও ক্যাথলিক চার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এই ঝুঁকিগুলোর মোকাবিলা করাকে তিনি তাঁর পোপ-জীবনের অন্যতম প্রধান কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
প্রথম আমেরিকান পোপ হিসেবে লিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়ানোর মতো অবস্থানেও রয়েছেন; ট্রাম্প এআই-এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে একটি “প্রতারণা” (hoax) এবং “বিকারগ্রস্ত ষড়যন্ত্র” (sick conspiracy) বলে অভিহিত করেছিলেন।
প্রেসিডেন্টের সাথে মতপার্থক্যের ঘটনা লিও-র ক্ষেত্রে এটিই প্রথম নয়।
খবরের প্রেক্ষাপট: ফ্রান্স সফর শেষে বিমানে ফেরার সময় লিও সাংবাদিকদের বলেন, এআই নিয়ে সৃষ্ট আশঙ্কায় তিনি “আতঙ্কিত” নন।
তবে তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, অনেক বিশেষজ্ঞ ও এআই-বিষয়ক বিশারদ যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত। কেউ কেউ আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে যে দাবি করেন, আমি তা মনে করি না।”
লিও পরে যোগ করেন, “আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে; আমরা হাত গুটিয়ে বসে থেকে এমন ভান করতে পারি না যে কিছুই ঘটবে না।”
বিস্তারিত: এআই এজেন্টদের (স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম) অনিয়ন্ত্রিত বা ভুল আচরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; এর পরিপ্রেক্ষিতে লিও এনভিডিয়া (Nvidia)-র এআই এজেন্টদের সুরক্ষায় সহায়ক নতুন সফটওয়্যার চালুর বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তবে পোপ লিও এই প্রযুক্তি জায়ান্টের সিইও জেনসেন হুয়াং-এর সমালোচনা করে বলেন, “ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি বলেন যে কোনো বিধিনিষেধ বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়।”
হুয়াং নিজেও এআই নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন; সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এই আতঙ্ক আসলে সাইবার নিরাপত্তা খাতের নতুন ব্যবসা সৃষ্টির একটি কৌশল মাত্র।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস (Axios)-কে জানিয়েছেন, ট্রাম্প যে প্রতারণার (hoax) কথা বলেছিলেন তা হলো—ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে এআই সংক্রান্ত উদ্বেগকে ব্যবহার করছে।
সংক্ষেপে জেনে নিন: মে মাসে প্রকাশিত লিও-র প্রথম গুরুত্বপূর্ণ এনসাইক্লিক্যাল বা ধর্মীয় নির্দেশনামূলক পত্রে এআই নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মাঝে ভ্যাটিকানকে একটি নৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
অ্যাক্সিওস-এর রাসেল কনট্রেরাস সে সময় লিখেছিলেন যে, প্রযুক্তির উপযোগিতা সত্ত্বেও লিও ওই নথিতে সতর্ক করেছিলেন যে এআই মানুষের বিচারবুদ্ধি ক্ষুণ্ণ করতে পারে, বৈষম্য বাড়াতে পারে এবং গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে—পাশাপাশি আরও নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সারকথা হলো: পোপ পরামর্শ দিয়েছেন, “আমাদের রাজনৈতিক নেতা, এআই (AI) খাতের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো অব্যাহত রাখতে হবে; যাতে বর্তমানে কী ঘটছে এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা যায়।”
এরপর যা ঘটতে যাচ্ছে: মঙ্গলবার ট্রাম্প এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান-লুইজিয়ানা) প্রযুক্তি খাতের প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সাথে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।


































































