ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার বলেছেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে রুশ জাহাজগুলোতে আরোহণ ও আটক করার অনুমতি দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের অভিযোগ, এই জাহাজগুলো এমন একটি নৌ-নেটওয়ার্কের অংশ যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মস্কোকে তেল রপ্তানি করতে সক্ষম করে।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহর’ ট্যাংকারগুলোকে ব্যাহত করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, যা মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার চার বছরের যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করে।
স্টারমার বলেছেন, তিনি জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছেন কারণ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত “হাত কষাচ্ছেন”।
স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন, “এ কারণেই আমরা তার ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি, শুধু ব্রিটেনকে নিরাপদ রাখতেই নয়, বরং পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সেই নোংরা মুনাফা থেকে বঞ্চিত করতে, যা ইউক্রেনে তার বর্বর অভিযানের অর্থায়ন করে।”
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ব্রিটিশ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা সেইসব রুশ জাহাজে আরোহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যেগুলো আত্মসমর্পণ করে না, সশস্ত্র থাকে, অথবা ধরা এড়াতে অত্যাধুনিক ও ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে।
ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, জাহাজগুলোতে আরোহণের পর নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের জন্য সেগুলোর মালিক, পরিচালক এবং নাবিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো না মেনেই রাশিয়া তার ‘ছায়া নৌবহর’-এর ওপর নির্ভরতার কারণে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে, এই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দেশকে সমুদ্রে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ পণ্য কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেওয়ায় রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার ইউরোপীয় প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়।
বৃহস্পতিবার হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিতব্য জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স সামিটে যোগদানের আগে স্টারমার এই ঘোষণা দেন। এই সম্মেলনে ব্রিটেন শ্যাডো ফ্লিটের জাহাজ জব্দ করার বিষয়ে আরও সমন্বয়ের আহ্বান জানাবে।
ব্রিটেন রাশিয়ার ৫৪৪টি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই জাহাজগুলো মাঝে মাঝে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে যাতায়াত করে, যা ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে পৃথক করেছে।
ব্রিটেনের অনুমান অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অপরিশোধিত তেল এই জাহাজগুলোর মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
শ্যাডো ফ্লিটের জাহাজগুলোর মালিকানা কাঠামো সাধারণত অস্বচ্ছ থাকে এবং এগুলো পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পুরোনো এই ট্যাংকারগুলো থেকে তেল নিঃসরণ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ছিদ্রের মতো ঘটনা ঘটে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।









































