ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধিরা টানা তৃতীয় দিনের মতো দোহায় অবস্থান করছেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা চালাবে না এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রবিবার জানিয়েছেন, ‘চলমান ও অগ্রসরমান’ এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখা। তিনি আরও বলেন, তেহরান ‘প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—উভয়ের জন্যই’ প্রস্তুত রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি জানান, একটি ‘দুই দিনের প্রস্তাব’ নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
কাতারি সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার আরাকচির একটি সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিরা এমন একটি প্রস্তাব তৈরি করেছেন, যার আওতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
ইরান বারবার বলে আসছে যে, কোনো নতুন হামলা হলে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে জবাব দেবে। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে।
কাতারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে আরাকচি বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি, অপর পক্ষও যৌক্তিক আচরণ করবে এবং অন্য যেকোনো পথের চেয়ে কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেবে।”
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হামলার মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সামরিক বাহিনী তাদের প্রস্তুতি জোরদার করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি; তবে তিনি সংঘাতটি কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পক্ষেই বেশি আগ্রহী।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা শুক্রবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং শনিবার আলোচনার স্থান দোহায় স্থানান্তর করা হয়। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনাটির সমন্বয় করা হচ্ছিল।

































































