অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত ফোবানা (ফেডারেশন অফ বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) উৎসবে দর্শক-শ্রোতারা বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন উপভোগ করার সুযোগ পান। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কারিগর’-এর চারজন প্রতিভাবান শিল্পী লোকসংগীতের এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন, যা ছিল পুরো উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পিয়ালি শুক্লা, শর্মিলা ভট্টাচার্য, সায়ারা সাদাফ এবং অপরাজিতা মুক্তিকে নিয়ে গঠিত এই কণ্ঠশিল্পী দলটি ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার দিয়ে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন।
তাদের সুমধুর পরিবেশনা, চমৎকার সুরের মেলবন্ধন এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগ কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তনে দর্শকদের অবিরাম করতালিতে সিক্ত হয়; পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুরাগী ও উৎসব-অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে তারা ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেন। এই প্রশংসিত পরিবেশনার পর, ‘একতারা’-এর প্রধান ইমরান জনি শিল্পীদের সাথে নেপথ্যে (ব্যাকস্টেজে) সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
শিল্পীদের নিষ্ঠা ও মঞ্চে অসাধারণ উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে খাঁটি লোকজ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার প্রশংসা করেন। এক সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বার্তায় জনি বলেন, “আমাদের শিল্পীরা ফোবানা-র মঞ্চে আমাদের শেকড়ের আত্মাকে তুলে ধরেছেন।” “তাদের প্রচেষ্টা ও আবেগ কেবল সেই সন্ধ্যাকেই মহিমান্বিত করেনি, বরং প্রবাসীদের মাঝে আমাদের সমৃদ্ধ সংগীত ঐতিহ্যকেও বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি পিয়ালি, শর্মিলা, সায়ারা এবং অপরাজিতার শৈল্পিক যাত্রায় অব্যাহত সাফল্য কামনা করি।” ফোবানা উৎসব উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে স্বীকৃত, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা ঐতিহ্য, সংগীত এবং সম্প্রদায়ের সংহতিকে উদযাপন করে আসছে।
‘একতারা’-এর এই অসাধারণ পরিবেশনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মাঝে লোকজ ঐতিহ্যের চিরস্থায়ী আবেদনকে আরও সুদৃঢ় করল।
































































