গ্রেট ব্রিটেনে অভিবাসন কমাতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, কেয়ার ওয়ার্কার, ওভার স্টেয়ার অভিবাসীদের উপর কড়াকড়ির পর এবার কঠোর বার্তায় বিদেশী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সতর্কতা দিয়েছে ব্রিটিশ হোম অফিস।
ব্রিটেনে পড়তে আসা বিদেশী শিক্ষর্থীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবশ্যই যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে তাদের। হোম বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থেকে যায় তবে তাদেরকে যুক্তরাজ্য থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে।
মার্কিন ভিসা নীতির মধ্যে রাশিয়ায় চীনা শিক্ষার্থীর ভিড়
হোম সেক্রেটারি ইভেট কোপার জানিয়েছেন, ব্রিটেনে পড়তে আসা বহু শিক্ষার্থীই অ্যাসাইলাম আবেদন করেছন, বিশেষ করে ২০২০ সালের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগজনকহারে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হলে নিজ দেশে ফেরত না গিয়ে ব্রিটেনে থাকতে অ্যাসাইলাম আবেদন করেছেন। গত এক বছরে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী এই আবেদন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ব্রিটেন থেকে যেতে ইচ্ছুকরা ২০২০ সালের আবেদনের তুলনায় গত চার বছরে ছয় গুণ বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন করছেন। কোনো শিক্ষার্থী যেন ওভার স্টেয়ার না হয় সে জন্য পরামর্শ ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হোম সেক্রেটারি।
বৈধ ভিসা নেই, কিন্তু যুক্তরাজ্যে থেকে যেতে চান এরকম শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সরাসরি বার্তা পাঠাচ্ছে সরকার। হোম অফিস প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সরাসরি বার্তা পাঠাচ্ছে। বার্তায় বলা হয়, ‘বৈধ থাকার অধিকার না থাকলে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় ফেরত পাঠানো হবে।
ভিসা শেষে যদি অ্যাসাইলাম আবেদন করা হয় আর তা যদি যথাযথ না হয়, তবে দ্রুত ওই আবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করা হবে। বার্তাটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে টেক্সট ও ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে কখনো এভাবে সরাসরি কোনো বার্তা পাঠায়নি হোম অফিস।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে মোট অ্যাসাইলাম আবেদনের ১৩% আবেদন করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষর্থী। যা অ্যাসাইলামের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে বেশির ভাগ আবেদন করেছেন পাকিস্তানী শিক্ষর্থী, ২য় স্থানে ভারত এবং ৩য় স্থানে বাংলাদেশ।
হোম অফিস পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৪টি অ্যাসাইলাম আবেদন জমা পড়েছে। অতিরিক্ত আবেদন কমিয়ে আনতে সরকার নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিয়নের মহাসচিব জো গ্রেডি। তার মতে, বিষয়টি ভিসা অতিরিক্ত থাকার চেয়ে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করার কৌশল বেশি।































































