‘‘ষ্টেন্ড আপ ফর হিউম্যান রাইট’’, ‘‘Bangladesh Bleeds Stand Up Against the Yunus Regime!‘‘ শ্লোগান লেখা ব্যানার ফেষ্টুন হাতে নিয়ে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে কয়েক হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশী সমবেত হন লন্ডনে ঐতিহাসিক ট্রাফালগার স্কয়ারে।
সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা দুপুর ১টায়, তবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সোমবার সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে ‘‘র্যালী ফর বাংলাদেশকে‘‘ সফল করতে ব্রিটিশ বাঙালীরা সমবেত হতে থাকেন। ’’দ্যা বাংলাদেশী ডায়াসপরা কমিউনিটির আয়োজনে ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহযোগীতায় তিন থেকে চার হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগের দাবীতে সমবেত হন ট্রাফলগার স্কয়ারে।
সাঁথিয়া ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুরের অভিযোগ
রসডেল থেকে আগত ৮১ বছরর বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশী ইরফান আলী বলেন ১৯৭১ সালের পর ব্রিটেনে এটাই ব্রিটিশ বাঙ্গালীদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। তিনি বলেন সেই ১৯৭১ সালে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সমবেত হতাম হাইড পার্ক কর্নারে। সেই স্পিরিট নিয়ে আবারও বাঙ্গালীরা দখলদার ইউনুসের বিরুদ্ধে লন্ডনে সোচ্চার হয়েছে।
ডায়াসপারা বাংলাদেশী কমিউনিটি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশের মব কিলিং ও মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদ জানাতে এই র্যালীতে অংশ নেন শত শত নারী-পুরুষ।
লন্ডন সময় দুপর ১টায় ট্রাফালগার স্কয়ারে শুরু হয় এই সমাবেশ, এর পর সেখান থেকে সমাবেশকারীরা সেন্ট্রেল লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে মিছিল নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে গিয়ে বিকেল ৪টায় র্যালীর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ।
যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, আব্দুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শফিকুর রহমান চৌধুরী, আ.শ.ম. রেজাউল করিম, সাবেক এমপি আবু জাহির, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, পিকুল শেখ, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হরমুজ আলী, হৃদয় ৭১ এর আহবায়ক দেওয়ান গৌস সুলতান, স্যাকুলার বাংলাদেশ মুভমেন্টের আহবায়ক পুষ্পিতা গুপ্তা, মানবাধিকার কর্মী সুশান্ত দাস গুপ্ত, যুক্তরাজ্য যুবমহিলা লীগের ফাউন্ডার সভাপতি ইয়াসমিন সুলতানা পলিন, সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরো ব্ক্তব্য রাখেন জালাল উদ্দিন, শাহ আজিজুর রহমান, মারুফ চৌধুরী, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, মাসুক ইবনে আনিস, আ. স. ম. মিসবাহ, রবির পাল খসরুজ্জামান খসরু, কাওছার চৌধুরী, আনসারল হক, সৈয়দ ছুরুক আলী, ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী, ন্যাপ সভাপতি আব্দুল আজিজ, জাসদের সভাপতি মুজিবুল হক মনি, আনজুমান আরা অঞ্জু, শাহিনা আক্তার, ছালমা বেগম, মিফতা নূর, সামিরুন চৌধুরী, প্রমুখ।
লন্ডনে সমাবেশে বক্তারা বলেন ব্রিটেনে বসবাসরত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রবাসীরা দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশমাতৃকাকে পাকিস্তান ও সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনুসের পদত্যাগের দাবীতে সমবেত হয়েছি। বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানাতে এসেছি বাংলাদেশ এখন জঙ্গি এবং স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের দখলে।
জামাত ও জঙ্গিরা মিলে বাংলাদেশকে নরকে পরিণত করেছে। প্রতিদিই দেশের অভ্যন্তরে মুক্তচিন্তার মানুষ, সংখ্যলঘু ও আদিবাসীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে, সমগ্র দেশে মব সৃষ্টি করে এরা নীরিহ মানুষকে প্রকাশ্যে খুন করছে। প্রতিদিন রাস্তাঘাটে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে, অবাদে চলছে লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
এরা নতুন করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিনত করতে চাইছে। মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদি, সমাজ চিন্তক ও বিরোধীমতের রাজনীতিকদের উপর দেয়া হচ্ছে হাজার হাজার মিথ্যা খুনের মামলা। বিনা অপরাধে শত শত মানুষকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতা করেছিল তারাই এখন ইউনুসের কাঁধে ভর করে দেশ চালাচ্ছে। জঙ্গি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মুক্ত করে দিচ্ছে ইউনুস সরকার। আমরা বিশ্ববাসীকে জানাতে এসেছি আপনারা বাংলাদেশের নীপিড়িত মানুষের পাশে দাড়ান, নীরিহ মানুষকে জালেম জঙ্গিদের হাত থেকে উদ্ধার করুন। আমরা এসব বন্ধে বিশ্বসম্প্রদায়ের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

























































