অলপার্টি পার্লামেন্টারী গ্রুপ ব্রিটিশ শিখ, শিখ ফেডারেশন ইউকে এবং শিখ নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউজ অব কমন্সের কমিটি ১০ নাম্বারে গতকাল ২৮ অক্টোবর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ‘’রেইজ অব ফার রাইট এন্ড এন্টি শিখ হেইট লবি ইভেন্ট ‘’ নামে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে অংশ গ্রহনকারীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, প্রিট গীলসের শিখ এন্ড ইহুদি এ্যথনিসিটি বিলে সমর্থন জানানোর জন্য।
মেসিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চেয়ার অব দি এপিপিজি ফর ব্রিটিশ শিখ জাস এতওয়াল (Jas Athwal)।
১৯৮৪ সালের নভেম্বরের শিখ নারীদের আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের ঘটনার স্মরণে স্মৃতিচারন মূলক বক্তব্য রাখেন Teerth Kaur (থ্রথ কাউর)।
কিংগসউইনফোর্ড এন্ড সাউথ ষ্টাফোর্ড শায়ারের কনজারভেটিভ দলীয় এমপি Mike Wood.
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ ও পাঠাগার আন্দোলনের পথিকৃত মুহম্মদ নুরুল হক
রেইজ অব দি ফার রাইট এন্ড এন্টি শিথ হেইট মনিটরিং গ্রুপের পক্ষে Suresh Grover. উলভারহ্যামটন-ওল্ডবারি এবং ওয়ালসল এলাকার তিনটি বর্ণবাদী মামলার আপডেট নিয়ে বক্তব্য রাখেন Jas Sing.
ব্রিটিশ হোম অফিসের সংরক্ষিত শিখ বিরোধী সকল হেইট ডাটা ব্রিটিশ এমপিদের কাছে সর্বরাহকারী Dabinderjit Singh বলেন আমি ১৯৭০/৭১ সাল থেকে বর্ণবাদ বিরোধী আক্রমন ঘৃণা সকল বিষয় প্রত্যক্ষ করে আসছি। আমি দেখেছি এর শিকার শিখ কমিউনিট বেশী। যত দিন যাচ্ছে ব্রিটেনে বছর বছর তা বাড়ছে। শুধু ব্রিটেন কেন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ধর্মীয় এবং জাজিগত ভাবে বিশ্বের প্রতিটি দেশে লক্ষ্য করা যায়।
ঘৃণা বর্নবাদ এখন সাধারণ মানুষের মঝে সীমাবদ্ধ নয় কোন কোন দেশের সরকার প্রধানরা এর সাথে জড়িত। যেমন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাইগ্রেন্ট বিদ্ধেশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিখ এবং মুসলিম বিদ্ধেশ লক্ষ্য করার মতো। ট্রাম্প যেমন চায়না তার দেশে বিদেশীরা থাকুক তেমনি নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত সুকৌশলে শিখদের নির্যাতন করছে।
ব্রিটিশ ফরেন অফিস শেডো মিনিস্টার কনজারভেটিভ দলীয় এমপি Wendy Morton বলেন এই ম্যালটি ক্যালচারাল সোসাইটতি সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের সমান অধিকার। শুধু শিখ কেন কোন জাতিই যাতে এভাবে রেসিজমের শিকার নাহয়। আমাদের সকলের উচিত সবধরনের ক্রাইমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাড়ানো।
চেমস ফোর্ড থেকে নির্বাচিত লিবারেল ডেমক্রেট দলীয় এমটি Marie Goldman নারীদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, কোন নারী যাতে রেইপ বা চাকুরী ক্ষেত্রে সেক্সুয়্যাল হেরাসমেন্টের শিকার না হয়, আমাদের সেলক্ষ্যে কাজ করতে হবে, সকলের সমঅধিকার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
ষ্টেন্ড আ্যাপ ফর রেসিজমের জয়েন্ট সেক্রেটারী Sarabjit Sabby Dhalu বলেন ব্রিটিনে ধর্মীয় এবং জাতিগত ঘৃণা বৈশম্য দিন দিন বাড়ছে। শিখ, মুসিলিম ইহুদী, হিন্দু সকলেই কমবেমী বৈশম্যের শিকাড়। বিশেষ করে ব্রাউন এবং কালো চামড়ার মানুষেরা। চাকরী রাস্তাঘাটে এমনকি শপিংমলেও এমন ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।
বার্মিংহ্যাম থেকে নির্বাচিত লেবার দলীয় এমপি Preet Kaur Gill বলেন ব্রিটেনে শিখরা প্রতিদিনই নানাভাবে হেরাসমেন্টের শিকার হচ্ছে, শুধু যে বর্নবাদীদের দ্বারা তা নয় কোন কোন সময় মুসলিমদের দ্বারাও হয়রানির শিকার হয়। সকল মুসলিম নয়, উগ্রবাদী মুসলিমরা শিখদের শত্রু মনে করে।
আরো বক্তব্য রাখেন লেবার দলীয় এমপি Harpreet Uppal, ইনডিপেনডেন্ট এমপি Shockat Adam লেবার এমপি Matt Wesstern. সকল আলোচকই সেমিনারে ঐক্যমত্য পোষণ করে বলেন সবধরনের ঘৃনা বর্নবৈষম্য ও অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে রুখে দাড়াতে হবে। এই দেশ সকলের, সকল মানষের সমঅধিকার।
সেমিনারে উঠে আসা তথ্যঃ
নীচের বিশ্লেষণটি ৩১শে মার্চ ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য ৯ই অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হেইট অপরাধের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ৩১শে মার্চ ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত বছরে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে পুলিশ ১,১৫,৯৯০টি ঘৃণামূলক অপরাধ রেকর্ড করেছে (মেট্রোপলিটা পুলিশ সার্ভিস বাদে)।
শিখদের লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি ঘৃণামূলক অপরাধ কোথায় রেকর্ড করা হয়?
সংখ্যানুসারে, শিখদের ঘৃণামূলক অপরাধ জাতিগতভাবে তীব্র অপরাধের অধীনে রেকর্ড করা হয় যা ৭১% বা ৮২,৪৯০ সমস্ত ঘৃণামূলক অপরাধের জন্য দায়ী। চ্যালেঞ্জ হল যদিও এটি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে একটি বাধ্যতামূলক বিষয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ বাহিনীর জন্য জাতিগত বা ধর্মীয়ভাবে তীব্র অপরাধের শিকারদের জাতিগত তথ্য হোম অফিসকে সরবরাহ করা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া বছরে মাত্র ৪০% অপরাধে জাতিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সরবরাহ করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটিশ পরিবহন পুলিশ, ওয়েস্টমিডল্যান্ড পুলিশ উলভারহ্যাম্পটন এবং ওল্ডবারিতে সাম্প্রতিক দুটি হাই প্রোফাইল অপরাধকে “জতিগত দাঙ্গা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে” জাতিগতভাবে উত্যক্ত অপরাধের অধীনে “শিখ” হিসাবে রেকর্ড করেনি। আমরা ওয়ালসলে ভয়াবহ বর্ণগতভাবে উত্তপ্ত ধর্ষণেরও সমালোচনা করতে পারি।
এর থেকে বোঝা যায় যে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এশীয়দের লক্ষ্য করে ২৭,০০০-এরও বেশি জাতিগতভাবে তীব্র ঘৃণামূলক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
২০২১ সালে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে এশীয় জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন এবং আনুমানিক শিখ জনসংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ।
এই বিভক্তি ব্যবহার করলেই বোঝা যায় যে ২০২৫ সালের মার্চে শেষ হওয়া বছরে শিখদের বিরুদ্ধে ৫,০০০ জাতিগতভাবে তীব্র ঘৃণামূলক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
১৯৮৩ সালে মান্ডলা বনাম লি মামলার রায়ের পর ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিখদের একটি জাতিগত গোষ্ঠী হিসেবে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও, জনসাধারণের দ্বারা স্বতন্ত্র জাতীয়তা সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকৃত এবং রেকর্ড করা হয়নি।



























































