রাতের গভীর নীরবতা ভেঙে হঠাৎ
ভেসে আসে এক দীর্ঘশ্বাস—
কেউ নেই চিনতে, কেউ নেই বলতে,
এ লাশ কার, কোন মায়ের সন্তান, কোন স্বপ্নভঙ্গের ফল?
দেশ এখন রক্তাক্ত, স্বপ্ন এখন ছিন্নবস্ত্র।
স্বাধীনতার উত্তাপ নিভে যাওয়ার আগেই
শীতল হাওয়ার মতো নেমে আসে
ভয়, বিভ্রান্তি আর অন্ধকার।
এই অন্ধকার সময়েই জন্ম নেয় অজ্ঞাত লাশের মিছিল।
রাজপথে পড়ে থাকে একেকটি নিথর দেহ—
কখনো ছাত্র, কখনো শ্রমিক, কখনো নামহীন এক মানুষ।
তাদের নাম মুছে যায় কাগজের শিরোনাম থেকে,
তবু তারা থেকে যান—
প্রশ্ন হয়ে, প্রতিবাদ হয়ে, বিবেকের অমোচনীয় ছাপ হয়ে।
অজ্ঞাত লাশ মানে শুধু নামহীন মানুষ নয়;
তারা আমাদেরই প্রতিচ্ছবি।
আজও যখন দেখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয়,
দেখি বিবেকের ওপর ভয়ের ছায়া,
দেখি সত্য বলা মানে শত্রু তৈরি করা—
তখন মনে হয়, অজ্ঞাত লাশের মিছিল
এখনো চলছে নিঃশব্দে,
কখনো শহরের অলিতে, কখনো বিবেকের গলিতে।
প্রতিটি নামহীন কবর আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা আসলে আরেক ধরনের মৃত্যু।
তাদের জন্য নেই ফুল, নেই স্মৃতিফলক,
তবু তারা বেঁচে আছেন আমাদের প্রতিটি প্রশ্নে,
প্রতিটি প্রতিবাদে, প্রতিটি জাগ্রত বিবেকে।
তাদের আত্মত্যাগ শেখায়—
রাষ্ট্র বদলায়, সরকার পাল্টায়,
কিন্তু রক্তের ভাষা কখনো মুছে যায় না।









































