বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার ও টিভি প্রেজেন্টার কবি জাহাঙ্গীর রানা ১৯৭০ সালের নবীগঞ্জ উপজেলার রাজাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা: মরহুম আব্দুল হেকিম, মাতা: মরহুমা ফরিদা খাতুন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ছোটবেলায় মা’র কাছ থেকে সঙ্গীত জীবনের হাতেখড়ি। তাঁর মা খুবই চমৎকারভাবে জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলামের লেখা ইসলামী গান গাইতেন। তিনি ১৯৮৬ সালে নবীগঞ্জ জে. কে. উচ্চবিদ্যালয় থেকে এস. এস. সি, ১৯৮৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচ. এস. সি. এবং একই কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেন।
ব্রিটেনে অভিবাসী হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ সাফক থেকে বিজনেস স্টাডিজ বিষয়ে আবার গ্র্যাজুয়েশন করেন। ‘আর্তী‘ কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ১৯৮৩ সালে লেখালেখির শুরু। কবিতা, গল্প, গান সব জায়গায় লিখে যাচ্ছেন সমানে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি। ৬শতাধিক গান রচনা করেছেন এ পর্যন্ত। ১৫০টির মত গান এযাবত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। দেশের স্বনামখ্যাত সঙ্গীত শিল্পি সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, সৈয়দ আব্দুল হাদি, রফিকুল আলম, দিলরুবা খান, তপন চৌধরী, শাকিলা জাফর, ডলি সায়ন্তনী, নিশিতা বরুয়া সহ বাংলাদেশ, কলকাতা এবং বিলেতের অসংখ্য শিল্পী তাঁর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন| প্রান্তিক অঞ্চলের সারা দেশের বাউল শিল্পীদের কণ্ঠে তাঁর গান এখন বিপুলভাবে সমাদৃত।
‘‘তোমার হিয়ারও মাঝারে, যে রুপ লইয়া বড়াই করো রে বেইমান‘‘, ‘‘সমানে সমানে না হইলে পিরিত, স্বার্থের দুনিয়ায় প্রেম বলে কিছু নাই‘‘, বন্ধু আমার প্রেম উজালা, আমার কাছে ভালোবাসা এবাদত, সওদাগর, সোহাগী, ষোলোকলা, ভেলুয়া, ভোমরা সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার কবি জাহাঙ্গীর রানা বিলেতের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলা টিভিতে একজন সফল উপস্থাপক হিসাবে ১২ বছর কাজ করে গেছেন। সম্প্রতি পশ্চিম বঙ্গের চুরুলিয়া গিয়ে কবি নজরুলের উপরে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করেন যা ‘পরানের গান‘ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান নিয়ে বিলেতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করলেও তাঁর কবিতা ও সঙ্গীত এর পরতে পরতে নগর জীবনের নানান টানাপোড়েন এর পাশাপাশি সোঁদা মাটির গন্ধ পাঠক খুঁজে পাবেন অতি সহজেই। তাঁর যেমন রয়েছে আধুনিক জীবন জিজ্ঞাসা, তেমনি রয়েছে মরমী নিগূঢ় তত্ত্বের এক নিবিড় সংযোগ। স্বদেশ, প্রকৃতি, প্রেম – বিরহ সহ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন, জাত পাত ধর্ম বর্ণের বিভেদের বিরুদ্ধে তাঁর কলম সর্বদা সোচ্চার|
লোকগানে তাঁর বানীর প্রায় জায়গায় তিনি প্রেম ভালোবাসাকেই এবাদত হিসাবে গ্রহণ করবার আহবান জানিয়েছেন। মানুষ তাঁর কাছে শেষ আশ্রয় এর জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি বারবার। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার জাহাঙ্গীর রানা দীর্ঘদিন বাম ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন যা তাঁর কবি মানসকে প্রভাবিত করেছে ব্যাপকভাবে।
তার প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ আনন্দগান চোখের জলে (গল্প – ২০১৩), তবু ফুল ফোটে (কবিতা – ২০১৪), অন্ধের কান বধিরের চোখ (কবিতা – ২০১৫), পরানের গান (গানের সংকলন – ২০১৫), ও চাঁদ ও রাত্রি ( কবিতা – ২০১৬), নীলিমা ও নক্ষত্র (কবিতা – ২০১৭) ,শহরের নাম ভালোবাসা (কবিতা – ২০১৮ ), হিয়া (গানের সংকলন – ২০১৯), দিলশহর (গানের সংকলন – ২০২১)।
প্রচার বিমুখ এবং এই মানুষটি কাজ করেন বেশী, কথা বলেন কম। দেশ ও প্রবাসে নবীগঞ্জ বাসীর গর্ব এই গুণী মানুষটির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর কামনা থাকল।









































