বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এডহক কমিটি কর্তৃক কোন ধরনের কারণ ছাড়াই প্রার্থিদের প্রার্থিতা বাতিল করার প্রতিবাদে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেছে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশী আইনজীবিরা। বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ লন্ডন সময় দুপুর এক ঘটিকায় পূর্বলন্ডনে লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশী আইনজীবিরা বলেন গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। এই উদ্বেগ এবং ক্ষোভ এর কারণ, সুপ্রিম কোর্ট বার জবরদখলকারী অবৈধ এডহক কমিটি তাদের স্বৈরাচারী ও প্রহসনমূলক ক্ষমতা অপব্যাবহার করে বৈধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করেছে যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন, অগণতান্ত্রিক এবং অসংবিধানিক।
আইনজীবিরা অভিযোগ করে বলেন আগামী ১৩ ও ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী প্রার্থীরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করেন, যথাযথভাবে পূরণ করেন এবং প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষরসহ নির্ধারিত নিয়মে জমা দেন। অর্থাৎ, নির্বাচন সংক্রান্ত সকল বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেই মনোনয়ন জমা দেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিন। এই দিন এ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, প্রস্তাবক ও সমর্থকরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যবৃন্দ কোনো আইনসঙ্গত বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই একে একে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবরা বলেন আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন সাব-কমিটির ক্ষমতা সীমিত। তাদের দায়িত্ব কেবলমাত্র প্রার্থীদের প্রাথমিক যোগ্যতা যাচাই করা। যেমন— প্রার্থী বৈধ সদস্য কিনা, কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা আছে কিনা, প্রস্তাবক ও সমর্থকরা নিয়ম অনুযায়ী আছেন কিনা এই শর্তগুলো পূরণ করা হলে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। গঠনতন্ত্র ও বিধিমালার পরিপন্থী হয়ে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এই কর্মকান্ডকে স্পষ্টভাবে বেআইনি, অগণতান্ত্রিক এবং নজিরবিহীন বলে মনে করি। এই এডহক কমিটি কর্তৃক নজিরবিহীন ও প্রহসনমুলুক নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট এর ৭৭ বছর ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দেশের বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। এই সমিতির বহু বরেণ্য আইনজীবী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। সেই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছিঃ – অবিলম্বে বাতিলকৃত সকল প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনর্বহাল করতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে আমরা আমাদের এই অবস্থান দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করছি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম , সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক ব্যারিষ্টার .স.ম.রেজাউল করমি। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সঞ্জয় রায় , ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিল্টন, ব্যারিস্টার এন্ড সলিসিটার জিন্নাত আলী, ব্যারিস্টার এন্ড সলিসিটার কামাল হোসাইন, ব্যারিস্টার দুলাল মিয়া, ব্যারিস্টার আল আমিন, ব্যারিস্টার আশরাফ চৌধুরী, সলিসিটার শহিদুল ইসলাম, জনাব সিরাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এন্ড সলিসিটার সুমন মিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আল আমিন, ব্যারিস্টার মাসুদ আক্তার, সলিসিটার জাহাঙ্গীর আলম, ড. আনিসুর রহমান আনিছ, ব্যারিস্টার তৌহিদুল ইসলাম, জনাব নাইমুল হোসাইন, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসাইন , ব্যারিস্টার আশরাফ চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী আইনজীব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবীন আইনজীবি স.ম. রেজাউল করীম বলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক এডহক কমিটির কোন বিধান নেই। ২০২৪ সালে পটপরিবর্তননের পর নির্বাচিত কমিটি বাতিল করে বেআিইনীভাবে এই এডহক কমিটি গঠন করা হয়। যাকে এই কমিটির প্রধান করা হয় মিফতাউল ইসলাম চৌধুরী তিনি নিজেও একজন আইনজীবি এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ ২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি বার কাউন্সিল নির্বাচনে কয়েকবার প্রতিদন্দিতা করে কোন সময়ই পাশ করতে পারেনানি। ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আইনজীবিদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পরিকল্পিত ভাবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বিশ্ববাসীকে জানাতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেণনে উপস্থিত হয়েছি।
























































