মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, তিনি এই বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন এবং এশীয় এই দেশটির কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত করার জন্য পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই মহড়া পিয়ংইয়ংকে এমন একটি বার্তা দিয়েছে যা ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী’, বিশেষ করে এমন একটি দেশের প্রতি যা ‘অহুমকিপ্রবণ ও শ্রদ্ধাশীল’ ছিল।
বুধবার যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি এই বছরের শেষের দিকে কিমের সঙ্গে দেখা করার আশা করছেন কিনা, ট্রাম্প উত্তর দেন: “হ্যাঁ, আমি করব।”
ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার পর তিনি কিমের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তিনি এই শরৎকালের মধ্যেই কিমের সঙ্গে একটি সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করার জন্য তার সহযোগীদের চাপ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার মিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে সম্পর্ক “সত্যিই চমৎকার” হলেও, ওয়াশিংটন এখনও সিউলের সাথে সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং পিয়ংইয়ংয়ের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে কিমের সাথে অভূতপূর্ব ধারাবাহিক শীর্ষ সম্মেলন করেছিলেন, কিন্তু উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার মার্কিন দাবির কারণে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার উত্তর কোরিয়াকে একটি “পারমাণবিক শক্তিধর দেশ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও তার প্রশাসন দেশটির নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান অব্যাহত রেখেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক সাউথ লনে তার নির্মাণাধীন একটি হেলিপ্যাড পরিদর্শনের সময় বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি, এবং যতদিন আমাদের একজন বিচক্ষণ রাষ্ট্রপতি থাকবেন, ততদিন তিনি ভালোই থাকবেন।”
ট্রাম্প বলেন, “তার সাথে আমার যে সদ্ভাব আছে – এটা একটা ভালো দিক, খারাপ কিছু নয়। তার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র আছে। তাদের এটা কখনোই হতে দেওয়া উচিত ছিল না। আমি রাষ্ট্রপতি হলে এটা হতে দিতাম না। কিন্তু সেগুলো তার কাছে আছে।”
উত্তর কোরিয়ার কাছে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার কথা ট্রাম্পের উল্লেখ করাটা ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
মার্কিন সরকার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করে না, যদিও কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে অনুমান করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া ৯০টি পর্যন্ত ওয়ারহেডের জন্য যথেষ্ট ফিসাইল উপাদান তৈরি করেছে, কিন্তু সম্ভবত প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড একত্রিত করেছে।
জুনে, স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অনুমান করেছে উত্তর কোরিয়া “সম্ভবত প্রায় ৬০টি ওয়ারহেড একত্রিত করেছে এবং আরও অন্তত ৩০টি ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট ফিসাইল উপাদান তাদের কাছে রয়েছে।”
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, কিম ট্রাম্পকে “মানসিকভাবে বিকৃত মার্কিন জরাগ্রস্ত ব্যক্তি” বলে অভিহিত করেছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন তার ডেস্কে একটি “পারমাণবিক বোতাম” রয়েছে।
কিন্তু দুই নেতা সেই উত্তেজনাকে মুখোমুখি বৈঠকে পরিণত করেন, যার মধ্যে কোরিয়াদ্বয়ের মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রাখা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন।



































































