‘বিগ বস ২০’-এর এই ‘উইকেন্ড কা ভার’ (Weekend ka Vaar) পর্বে সালমান খানকে দেখা গেল সমালোচকদের বা ‘ট্রোল’-দের কড়া জবাব দেওয়ার মেজাজে। নিজের শারীরিক গড়ন নিয়ে ওঠা মন্তব্যের মুখে শার্ট খুলে যেমন তিনি সমালোচকদের চুপ করিয়েছিলেন, তেমনই এবার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের হয়েও তিনি সরব হলেন।
এই সপ্তাহের শুরুতে মুম্বাইতে আম্বানি পরিবারের গণপতি উৎসবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। প্রথম সন্তানের জন্মের পর তাঁর ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে অনেকেই তাঁকে ট্রোল করছেন।
অনেকেই এই বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন সালমান খানও।
‘বিগ বস’-এর শনিবারের পর্বে তিনি এই সপ্তাহে প্রতিযোগীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেন। একটি টাস্ক চলাকালীন ঝগড়ার জেরে ইউটিউবার ‘স্কাউটওপি’ (ScoutOP) তাঁর ইউটিউব ও গেমিং কমিউনিটির কাছে আরিশফা খানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন—”খতম কর দো ইসকো” (ওকে শেষ করে দাও)।
এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সালমান খান বলেন, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অর্থ উপার্জনের নেশায় ট্রোলরা প্রায়শই মানুষের বাহ্যিক রূপ নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁদের নিশানা বানায়।
তিনি বলেন, “কিসি কো নিচে দিখা কে আপ পয়সে কামা রহে হ্যায়” (কাউকে ছোট করে আপনারা টাকা আয় করছেন)। তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রোলরা প্রায়শই তারকাদের শরীর, ওজন, চেহারা, পরিবার, ক্যারিয়ারের ব্যর্থতা এবং মাতৃত্বের মতো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আক্রমণ করে; তিনি আরও বলেন, “আপ অপনি আপব্রিংগিং দিখা রহে হো” (এর মাধ্যমে আপনারা আসলে নিজেদের পারিবারিক শিক্ষার পরিচয়ই দিচ্ছেন)।
গর্ভাবস্থার পর ক্যাটরিনা কাইফের ট্রোলড হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন অভিনেত্রী সদ্য মা হয়েছেন—এমন পরিস্থিতিতে কেন তাঁর ওজন ও চেহারা নিয়ে মন্তব্য করা হবে? তিনি বলেন, “প্রেগন্যান্ট হোনে কে বাদ এভরিওয়ান পুটস অন ওয়েট” (গর্ভাবস্থার পর সবারই ওজন বাড়ে); তিনি আরও যোগ করেন যে, সিনেমায় ফেরার সময় ক্যাটরিনা নিশ্চয়ই আবার ফিট হয়ে উঠবেন। এছাড়া তিনি বলেন, ক্যাটরিনার উচিত পরিবারের সাথে সময় কাটানো।
যারা বেনামে বা ছদ্মবেশে অন্যদের ট্রোল করেন, তাদেরও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা “আপ খুদ অপনি শকল সে ইতনে বেজার হো” (নিজের চেহারা নিয়েই যারা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট), তারা কীভাবে অন্য কারও চেহারা বা ওজন নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়?
তিনি নিজেও যে ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন, সে কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষ অন্যের ব্যর্থতা দেখে আনন্দ পায় এবং বয়স বেড়ে যাওয়া বা বার্ধক্য নিয়েও তারকাদের নিশানা বানায়। “বুড়ো তো হয়েই গেছি, বয়স তো ৬০ হলো,” তিনি বললেন। এরপর যোগ করলেন, “সব সময় তো আর ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’-র সেই তরুণটি হয়ে থাকা যায় না।”
এমন ট্রোলিংয়ের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চাইলেন, “আপনারা কীসের জন্য ট্রোল করতে চান আর কেনই-বা ট্রোল করেন?” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনলাইনে তারকাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য কিছু প্রযোজক বা অভিনেতা হয়তো মানুষকে টাকা দিয়ে এমন আচরণে উসকানি দিয়ে থাকেন।





























































