রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে তবে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়বে অথবা তাদের নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে কোনো নতুন হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
কয়েক মাস ধরে এই সংঘাত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে; কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। অথচ এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র করেছে, ইরানের অর্থনীতির বড় অংশকে বিপর্যস্ত করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের সাথে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতাদের উচিত চুক্তিতে আসা, নতুবা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হওয়া কিংবা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া।
তবে ওই সাংবাদিক আরও জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে আসছেন—এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি তাঁর সাথে বৈঠক করতে আগ্রহী।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ট্রাম্প বারবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের অস্পষ্ট হুমকি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর করেননি।
এর আগে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছিল, নতুন কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানো হবে এবং ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদেরও সংঘাতের পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানি সেনাবাহিনী আরও জানায় তাদের কাছে হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তবে সেই তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ তারা প্রকাশ করেনি।
**রিয়াদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে হুতিরা**
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ইতিমধ্যেই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে তাদের শহরগুলো ইরানি হামলার মুখে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় তাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে।
শনিবার তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। ইয়েমেনে পুনরায় শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে চলতি মাসের শুরুর দিকে আকস্মিক সামরিক সাফল্য পাওয়ার পর, ইরানের মদদপুষ্ট হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে বিকট শব্দ হওয়ার পর রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠছে।
হুতিদের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে; তাই আমেরিকানদের অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সৌদি আরব এই ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি; তবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে, তারা দেশটির ওপর চালানো অন্যান্য হামলা প্রতিহত করেছে।
হুথিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা বৃদ্ধি রিয়াদকে এক কঠিন উভয়সংকটের মুখে ফেলেছে: হয় গোষ্ঠীটির আরও ইয়েমেনি ভূখণ্ড দখল ঠেকাতে বিমান হামলা অব্যাহত রাখা, অথবা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা এড়ানোর আশায় পিছু হটা।
জ্বালানি রপ্তানি অবরুদ্ধ
উপকূলীয় অঞ্চলে হুথিদের অগ্রগতির ফলে তাদের বাহিনী এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকারী অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অবরুদ্ধ করার সক্ষমতাও তারা অর্জন করেছে।
ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায়, তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি বিশ্ববাজার থেকে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা তেলের দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি বন্দরগুলো দিয়ে দেশটির নিজস্ব তেল বিক্রি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও, জুনে স্বাক্ষরিত কিন্তু শর্তাবলি নিয়ে মতবিরোধের জেরে জুলাইয়ে ভেস্তে যাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ইরান রবিবার আবারও জানিয়েছে, জুনের সেই চুক্তির শর্তাবলি—যেমনটা তারা ব্যাখ্যা করেছে—পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে না।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, শত্রুদের পিছু হটাতে এবং কূটনীতির মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য সুসংহত করতে ইরানকে লড়াই ও আলোচনা—উভয়ই চালিয়ে যেতে হবে।





























































