ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, রাশিয়া গত রাতে ইউক্রেনের শিল্প-প্রধান অঞ্চলে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে; একই সময়ে উত্তরাঞ্চলে আরেকটি হামলায় হাজার হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে যুদ্ধটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সম্মুখ সমরের গতি অনেকটাই কমে এসেছে। এর মধ্যেই মস্কো তার বিমান হামলা জোরদার করেছে এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বন্দর ও লজিস্টিক কেন্দ্রসহ নানা অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
উভয় পক্ষই এই সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শিল্প-শহরগুলোতে হামলা
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানঝা টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছেন, মস্কো একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের দিনিপ্রো, ক্রিভি রিহ এবং পাভলোহ্রাদ শহরের বিভিন্ন শিল্প কারখানায় হামলা চালিয়েছে।
এই অঞ্চলটি যন্ত্রপাতি নির্মাণ, ইস্পাত উৎপাদন এবং অন্যান্য বড় ধরনের শিল্প উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল।
রাশিয়া চারটি জেলায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে দিনিপ্রোতে চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হন; গভর্নর হানঝা জানান, সেখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গুদাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার এই ব্যাপক হামলায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক ‘ওনিক্স’ (Oniks) অ্যান্টি-শিপ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের শিল্প ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। তারা মূলত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত এবং বন্দর অবকাঠামো ও ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
হানঝা আরও জানান, পাভলোহ্রাদ এবং ক্রিভি রিহ—যেটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর—সেখানেও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একটি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি বিদ্যুৎ স্থাপনায় রাশিয়ার হামলায় উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রায় এক লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গভর্নর ভিতালি দিয়াকিভনিচ জানিয়েছেন, মস্কো মধ্যাঞ্চলীয় পোলতাভা অঞ্চলে এক “ব্যাপক” হামলায় একটি শিল্প কারখানা ও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে; তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী পোলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুক শহরের একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে।
এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ওপর হামলা জোরদার করেছে এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডের অনেক গভীরে অবস্থিত বড় বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন। অঞ্চলটিতে তেল শোধনাগারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে ২৯৭টি ড্রোন ধ্বংস করেছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।





























































