OpenAI তাদের প্রিমিয়াম বা উচ্চ-স্তরের গ্রাহকদের জন্য ‘ডটস’ (Dots) নামে এক ধরণের ‘অলওয়েজ-অন’ (সবসময় সক্রিয়) এজেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় সহকারীর সুবিধা চালু করছে। এটি এমন একটি কোম্পানির সাহসী পদক্ষেপ, যারা প্রতিনিয়ত তাদের তৈরি এজেন্টদের নির্ধারিত সুরক্ষাকবচ বা সীমাবদ্ধতা ভেঙে ফেলার মতো ঘটনার অভিযোগের মোকাবিলা করছে।
বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এখন আর কেবল “চ্যাটবট কি ক্ষতিকর কিছু বলবে?”-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এখন “স্বয়ংক্রিয় এজেন্টদের অনলাইন হ্যাকিং প্রচেষ্টা কীভাবে ঠেকানো যায়?” কিংবা “ওরে বাবা, আমার এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এখন কী করে বসল?”—এমন সব জটিল বিষয়ের দিকে মোড় নিয়েছে।
খবরের প্রেক্ষাপট: মঙ্গলবার OpenAI-এর ডেভেলপার সম্মেলনে একগুচ্ছ ঘোষণার মধ্যে ‘ডটস’-এর উন্মোচন ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
‘ডট’-কে ক্লাউড-ভিত্তিক নিজস্ব ভার্চুয়াল কম্পিউটারে চালিত একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কল্পনা করা যেতে পারে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রকল্পের কাজের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি ওয়েব ব্রাউজ করতে, সংযুক্ত অ্যাপ ব্যবহার করতে, ফাইল তৈরি করতে এবং বিভিন্ন টুল বা সফটওয়্যার চালাতে সক্ষম।
মোবাইল ডিভাইস বা কম্পিউটার থেকে ‘ডট’-কে সক্রিয় করা যায় এবং এটি বিভিন্ন সংযুক্ত অ্যাপ, ব্রাউজার ও নিজস্ব ভার্চুয়াল কম্পিউটারের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে।
সামগ্রিক চিত্র: OpenAI এবং অন্যান্য এআই কোম্পানির এজেন্টদের দ্বারা অনিচ্ছাকৃত বা অপ্রত্যাশিত কার্যকলাপের খবর বারবার সামনে আসা সত্ত্বেও ‘ডটস’ (মেটার ‘মিউজ’-এর মতো) সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই OpenAI তাদের এআই-এর অপ্রত্যাশিত আচরণের বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘মেডিকেয়ার’ (Medicare) সিস্টেমের ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের (হ্যাকিং) ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে।
এছাড়া এই সপ্তাহেই OpenAI জানিয়েছে, নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল ‘অ্যাস্ট্রা’ (Astra)-র একটি আপডেট বাতিল করেছে।
অন্তর্নিহিত বিষয়: নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে OpenAI-এর আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
ChatGPT-এর শুরুর দিনগুলোতে মূলত বিপজ্জনক আলোচনার সম্ভাবনার ওপরই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল—যেমন আত্মহত্যা বা খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধিতে (eating disorders) প্ররোচনা দেওয়া; এসব বিষয়ের জন্য OpenAI-কে একাধিক মামলারও মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বর্তমানে আলোচনার মোড় ঘুরছে এজেন্টদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কার্যকলাপের দিকে। এ পর্যন্ত ঘটা সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় দেখা গেছে, জুলাই মাসে ‘হাগিং ফেস’ (Hugging Face)-এর ওপর চালানো সাইবার হামলার পেছনে OpenAI-এর এজেন্টদের ভূমিকা ছিল।
তাদের বক্তব্য: OpenAI-এর কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, তারা যে ‘ডট’গুলো বাজারে আনছে, সেগুলো কোনোভাবেই অনিয়ন্ত্রিত বা ক্ষতিকর আচরণ করবে না। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ‘ডট’-এর সুরক্ষাব্যবস্থায় ChatGPT ও Codex-এর বিদ্যমান সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ‘গার্ডিয়ান’ (Guardian) নামক অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের অতিরিক্ত সুরক্ষা যুক্ত করা হয়েছে, যা বাইরে ‘অটো-রিভিউ’ (Auto-review) নামে পরিচিত।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই নতুন এজেন্টগুলোর মাধ্যমে কোনো বড় বা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ব্যবহারকারীর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ‘ডট’ (Dot) কোনো বার্তার খসড়া তৈরি করতে পারে, কিন্তু ব্যবহারকারীর নির্দেশ ছাড়া তা অন্য কোনো ব্যক্তি বা এজেন্টের কাছে পাঠাবে না—এমনটাই অ্যাক্সিওস (Axios)-কে জানিয়েছেন ওপেনএআই-এর পণ্য বিভাগের সদস্য আলেকজান্ডার এমবিরিকোস। এছাড়া এটি গুরুত্বপূর্ণ কোনো আর্থিক লেনদেনও নিজে সম্পন্ন করবে না; বরং সেই কাজের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতেই ফিরিয়ে দেবে।
এমবিরিকোস বলেন, “আমরা আপনার হয়ে কাজটি করে দেব না; তবে আপনি নিজে কাজটি করার ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আপনাকে সহায়তা করব এবং এরপর দায়িত্বটি আপনার হাতেই তুলে দেব।”
ওপেনএআই-এর কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পরিসর বাড়ানোর আগে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি কেবল তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যবহারকারীদের একটি ছোট দলের জন্য উন্মুক্ত করা। শুরুতে ‘ডট’ সুবিধাটি প্রো (Pro), বিজনেস প্রিমিয়াম (Business Premium) এবং এন্টারপ্রাইজ (Enterprise) ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ থাকবে এবং প্রত্যেকে একটি করে অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহকারী পাবেন।
সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, তাদের লক্ষ্য অন্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া বা অগ্রগতি পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া নয়; বরং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা, লক্ষ্য-সামঞ্জস্য (alignment) এবং পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সাংবাদিকদের অল্টম্যান বলেন, “আমার প্রত্যাশা হলো, এই শিল্পের সবাই আমরা একত্রিত হয়ে বলতে পারব যে আমাদের এই মধ্যপন্থাটিই অনুসরণ করা প্রয়োজন।”


































































