“আজকের অর্জনকে সম্মান জানানো, আগামী দিনের সাফল্যকে অনুপ্রাণিত করা” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যসোসিয়েশন (বিসিএ), ২০২৬ সালে, সমগ্র ব্রিটেন থেকে শত শত আবেদন, ও প্রতিযোগীতার মাধ্যমে ৪৮টি রেষ্টুরেন্টকে এওয়ার্ডের জন্য চূড়ান্ত করেছে। আগামী ১নভেম্বর ২০২৬, লন্ডনের পাঁচ তারকা পার্কপ্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে, বিসিএর ১৯তম আসরে বিজয়ীদের হাতে এওয়ার্ড তুলে দেয়া হবে।
গেল ৮অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় রমফোর্ডের ২৯০ নর্থ ষ্ট্রীটের নেইজেন রেস্টুরেন্ট সংবাদ সম্মেলনে বিসিএ নেতৃবৃন্দ এই ঘোষনা দেন। তবে কোন রিজিওন থেকে কে এওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি ব্রিটেনে বাংলাদেশকে প্রমোট করার পাশাপাশি গেল ১৯বছর যাবত কারিশিল্পে সাফল্য অর্জনকারীদের এওয়ার্ড প্রদান করে আসছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ব্রিটেন এবং দেশবিদেশের সেলেব্যরিটিরা এই এওয়ার্ড অনুষ্টানে অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএ নেতৃবৃন্দ জানান ‘বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর কার্যক্রম একটি আকর্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে; কারণ এর মর্যাদাপূর্ণ ‘রেস্টুরেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ (বছরের সেরা রেস্তোরাঁ) বিভাগের বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।
সমগ্র যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে প্রাপ্ত শত শত আবেদনের মধ্য থেকে বিসিএ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ১২টি অঞ্চল থেকে ৪৮টি রেস্তোরাঁকে বাছাই করেছেন।
বিচারকরা খাবারের মান, সেবা, আতিথেয়তা, পরিবেশনা, ধারাবাহিকতা, নতুনত্ব এবং গ্রাহকদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। বিচারকদের দেওয়া নম্বরের ভিত্তিতে ১২টি রিজিওন থেকে সেরা হিসেবে ১২টি রেস্তোরাঁকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই বাছাই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন বিসিএ (BCA) নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রেসিডেন্ট অলি খান এমবিই (MBE, • আতিক রহমান বিইএম (BEM) — অ্যাওয়ার্ডস কনভেনার, আব্দুল সুবহান ‘রেস্টুরেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ কমিটির প্রধান, বিসিএর সেক্রেটারী টিপু রহমান, প্রধান কোষাধ্যক্ষ এম ফয়জুল হক, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী নাজ ইসলাম।
বিচারক প্যানেলে ছিলেন স্যামসন সোহেল প্রতিধিনি কোবরা বিয়ার, সন্দীপ দেওয়ান প্রতিনিধি কিংফিশার বিয়ার, সাবরিনা হোসেন — সিইও, এনটিভি ইউরোপ, হাফিজ আলম বখশ — সিইও, এটিএন বাংলা ইউকে এম এম কামাল ইয়াকুব — সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।
বিসিএ বিসিএ (BCA) প্রেসিডেন্ট অলি খান এমবিই (MBE) বলেন “এবারের ‘রেস্টুরেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ বিভাগে যে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রাপ্ত শত শত আবেদনের মধ্য থেকে ১২টি অঞ্চল থেকে ৪৮টি রেস্টুরেন্টকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাছাই করা হয়েছে। এটি আমাদের এই শিল্পের অসাধারণ গুণমান, নিষ্ঠা ও বৈচিত্র্যেরই প্রতিফলন। বিচার প্রক্রিয়াটি আমাদের এমন সব রেস্টুরেন্টকে স্বীকৃতি জানানোর সুযোগ করে দেয়, যারা খাবার, সেবা এবং আতিথেয়তার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। আমি নির্বাচিত ৪৮টি রেস্টুরেন্টের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি এবং বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ তাদের এই সাফল্য উদযাপনের অপেক্ষায় রইলাম।
বিসিএ (BCA)-এর মহাসচিব টিপু রহমান বলেনঃ “এই প্রতিযোগিতাটি আমাদের সম্প্রদায়ের অদম্য মনোবল, সৃজনশীলতা এবং উৎকর্ষের এক চমৎকার নিদর্শন। এখানে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি রেস্তোরাঁর প্রতিটিই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আতিথেয়তার সর্বোত্তম মানের প্রতিনিধিত্ব করছে। একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং কঠোর বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পেরে আমরা গর্বিত—এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমাদের শিল্পের প্রতিটি রেস্তোরাঁর মালিক, শেফ এবং কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও নিষ্ঠাকে যথার্থভাবে সম্মান জানায়। বিচারকদের তাঁদের সময় ও দক্ষতার জন্য এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই—শুধুমাত্র এখানে উপস্থিত থাকার মাধ্যমেই আপনারা বিজয়ী।”
বিসিএ (BCA) অ্যাওয়ার্ডস-এর কনভেনার আতিক রহমান বিইএম (BEM) বলেন “এ বছর জমা পড়া আবেদনগুলোর মান ছিল অত্যন্ত উচ্চমানের, তাই শত শত আবেদন থেকে ৪৮টি রেস্তোরাঁকে বাছাই করাটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া। নির্বাচিত এই ৪৮টি রেস্তোরাঁ এখন যুক্তরাজ্যের ১২টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং আমাদের বিচারক প্যানেল একটি সুষ্ঠু ও কঠোর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এদের মূল্যায়ন করবে। বিচারকদের দেওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে সেই ১২টি রেস্তোরাঁ, যারা ‘বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ চূড়ান্ত স্বীকৃতির জন্য বিবেচিত হবে। আমাদের রেস্তোরাঁ শিল্পের কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও অর্জনকে উদযাপন করার মতো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পেরে আমরা গর্বিত।
এবারের বিসিএ (BCA) অ্যাওয়ার্ডস-এর মূল স্লোগান হলো: “আজকের অর্জনকে সম্মান জানানো, আগামীর সাফল্যকে অনুপ্রাণিত করা” এই প্রতিপাদ্যটি বর্তমান সময়ের হসপিটালিটি পেশাজীবীদের অর্জনকে উদযাপনের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে এবং এই শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে বিসিএ-র অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।




































































