বুধবার আইনপ্রণেতারা সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ায় ইসরায়েল আগাম নির্বাচনের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের হামাস হামলার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেরে যাবেন।
১২০ আসনের নেসেট (ইসরায়েলের সংসদ) ভেঙে দেওয়ার একটি বিলের প্রাথমিক পাঠে আইনপ্রণেতারা আগাম ভোটের পক্ষে প্রায় সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছেন। যদি এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়, যে প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, তাহলে ইসরায়েল ২৭ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার কয়েক সপ্তাহ আগেই নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে।
নেতানিয়াহুর নিজস্ব জোট সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিলটি জমা দিয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি নেতার ঐতিহ্যগতভাবে ঘনিষ্ঠ একটি অতি-গোঁড়া ইহুদি গোষ্ঠী তাদের সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাস করার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার জন্য তাকে অভিযুক্ত করে।
জরিপে নেতানিয়াহু পিছিয়ে
প্রায় ১১০ জন সংসদ সদস্য সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যেখানে কোনো বিরোধী বা ভোটদানে বিরত থাকার ঘটনা ঘটেনি। বিলটি এখন কমিটিতে পাঠানো হবে, যেখানে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি আবার নেসেটে (ইসরায়েলের সংসদ) ফেরত যাবে।
এই ভোটটি নেতানিয়াহুর জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইসরায়েল গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এই রণাঙ্গনগুলো এখনও অস্থিতিশীল এবং নির্বাচনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
নেতানিয়াহু এখনও একটি দীর্ঘস্থায়ী দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এই মামলায় একটি আপস-মীমাংসা চুক্তির মধ্যস্থতা করছেন, যার অংশ হিসেবে ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন।
নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্যও একটি সমস্যা হতে পারে। তিনি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা করিয়েছেন এবং ২০২৩ সালে তার শরীরে একটি পেসমেকার স্থাপন করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলের উপর হামাসের হামলার পর থেকে, জনমত জরিপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।
তবে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে বিরোধী দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হবে, যার ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা না ভাঙা পর্যন্ত নেতানিয়াহু একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে থাকবেন।
























































