৩২ মিনিটের এই ভিডিওটা প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তায় এবং প্রটেকশনে এনসিপি নেতা কর্মীদের জঙ্গি তৎপরতার প্রামান্য দলিল হয়ে থাকবে। এর প্রতিটা কথোপকথনে উঠে এসেছে তারা কি পরিকল্পনা নিয়ে গোপালগঞ্জ এসেছিল এবং তাদের পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো কি।
পুরো ভিডিওজুড়েই ছিল আওয়ামীলীগ‚ মুজিব ও গোপালগঞ্জ নিয়ে বিষোদগার‚ উষ্কানী‚ নানাবিধ হুমকি ও হত্যা পরিকল্পনা। গাড়ি থেকেই তারা ঢাকায় নির্দেশ পাঠাতে থাকে যেন যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজের সামনে ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরের বার গোপালগঞ্জ এলে বঙ্গবন্ধুর কবরও উপড়ে ফেলা হবে বলে আলোচনা চলে।
বাংলাদেশ অশুভ শক্তির খপ্পরে, শেষ কোথায়?
তাদের বিভিন্ন জঙ্গি পরিকল্পনা উঠে এসেছে এসব কথোপকথনে কিন্তু সর্বোপরি যেটা পরিষ্কার হয়েছে তা হলো দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রশাসনিক সহায়তা থেকে শুরু করে সেনাবাহীনি ও আর্মি ইন্টেলিজেন্সের সাথে সমন্বয় করেই তারা সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে এবং একই ভাবে ভবিষ্যতেরও সব প্রস্তুতি নেয়া হবে।
ভিডিওটির কিছু চুম্বক অংশ নিচে বর্ণনা করা হলো:
ভিডিওটি গোপালগঞ্জ থেকে পালানোর সময় এনসিপির গাড়ি বহরের মাঝের একটা গাড়ি থেকে ধারণ করা এবং মূল ধারা ভাষ্যে ছিল এনসিপি মাদারীপুর জেলার তত্বাবধায়ক রকিব হাসান‚ সে ছাড়াও গাড়িতে আরো উপস্থিত ছিল এনসিপির মাদারীপুরের প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম সহ মোট ৬ জন।
শুরুর পর পরই গাড়ি বহরটি একটা ব্যারিকেডের সামনে পড়ে এবং পাশ থেকে ৫-৬ জন গোপালগঞ্জবাসীকে ইট পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। একটা ইট গাড়িটিতে এসে লাগে এবং এক পাশের কাচ ভেঙ্গে যায় (যদিও পরবর্তীতে তারা সেই ইটকে ককটেল বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে)। সেই সময় গাড়ির মধ্যকার সবাই চেচামেচি করতে থাকে কেন তাদের হয়ে হামলাকারীদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছে না এবং সেনাবাহিনী গুলি না করলে যেন অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মাথায় সেনাবাহিনী কেন গুলি করছে না সেই প্রসঙ্গে রাকিবকে বলতে শুনা “এবার তাদের ফুল এক্সেস দেয়া হয়েছে গুলি করার কিন্তু একটা গুলিও তারা করে নাই”। অর্থাৎ জানা গেল সেনাবাহিনীকে মানুষ গুলি করে মারার অর্ডার দেয়া ছিল।
৭ মি: রাকিবকে আরো বলতে শুনা যায় যে সামান্য এই হামলায় সে হতাশ এবং সে নাকি জীবন দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল। সে ব্যঙ্গ করে বলতে থাকে যে গোপালগঞ্জবাসী তাদের কিছুই করতে পারেনি। এই সময় শহিদুল ইসলামকে আর্মি ইন্টেলিজেন্সের কারো সাথে ফোনে ঘটনার আপডেট দিতে শুনা যায়।
পরবর্তীতে গাড়ি বহর আবার এগুতে শুরু করলে প্রতিটা মোড়ে/বাজার-জনপদে সেনাবাহিনীর এপিসি থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের শব্দ শুনা যায়। সেই গুলিতে বাইরে কেউ হতাহত হলে গাড়িটির ভিতরের সবাইকে উল্লাস করতে শুনা যায়। তারা বলতে থাকে কিভাবে পরদিন থেকে গোপালগঞ্জবাসী সবার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করা হবে।
১৩ মি: ২০ সে: আবার গুলির শব্দ শুনা যায় এবং তাদের কথোপকথন শুনে মনে হয় কোন এক মটরসাইকেল আরোহীকে গুলি করা হয়েছে এবং সে গুলি খেয়ে পড়ে যাওয়ায় তারা উল্লাস প্রকাশ করে বলতে থাকে “একেবারে নগদ গুলি”।
১৯ মি: ৩০ সে: গাড়ির সামনের সিটে বসা ব্যাক্তি ঢাকায় কোন বন্ধূকে কল করে এবং বলে “আমি ঢাকা শহরে গোপালগঞ্জের আওয়ামীলীগের কোন লেস্পেন্সার রাখবো না। যেখানেই পাই জবাই করবো। তুই রেডি রাখ। অস্ত্র AK-47 সহ ৮০ টা রেডি রাখবি। চিরুনি অভিযান করবো ঢাকা শহর থেকে”।
১৬-২১ মি: তাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ আইজিপি পুলিশ প্রসাশন ও বিজিবির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে শুনা যায় এবং কেন তাদের মাত্র ১ টি এপিসি দেয়া হলো‚ কেন ১ ডজন দেয়া হলো না সে বিষয়ে তারা ঊষ্মা প্রকাশ করে। হেলিকপ্টার এনে কেন গুলি করা হলো না তা নিয়েও তারা ক্ষুব্ধ।
২৮ মি: শহীদুলকে বলতে শুনা যায় যে রাজনীতিতে যেহেতু তারা নেমেছে ফার্স্ট এইড কিট সাথে রাখতে হয় এবং পরবর্তীতে আর্মস্ ও বুলেটও থাকবে। গাড়ির ভাঙ্গা কাচের আঘাতে ছড়ে যাওয়া হাত পায়ের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রসংগে আলাপকালে একজন বলে নামার আগে “সবাই কিন্তু ব্যান্ডেজ করবেন। পলিটিক্স!”
৩১ মি: ১৯: রকিবকে ঢাকায় তানভীর নামে কারো সাথে ফোনে কথা বলতে শুনা যায়। তানভীর জানায় ঢাকায় ব্লকেড করা হয়েছে এবং শুনে সবাই খুশি হয়। এক পর্যায়ে রকিব নির্দেশ দেয় “পুরা ঢাকা শহর অচল করে দিবা। আওয়ামীলীগের যতগুলা আছে সব খুইজা মাইরা ফেল। সবাইরে নিয়া নাও। ছাত্রদল সহ সবার সাথে কথা হইসে আমার। শান্তদেরকে ফোন দাও। ওরাও সর্বোচ্চ কোপরেট করবে।”








































