ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২৬: দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শরীরচর্চা শিক্ষক সমিতির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মোঃ রেজাউল করিম সভাপতি এবং মোঃ বাছির মিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্মেলনে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের শিক্ষকবৃন্দসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়কে আরও কার্যকর, যুগোপযোগী ও মর্যাদাপূর্ণ করার পাশাপাশি শরীরচর্চা শিক্ষকদের ন্যায়সংগত অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
নবগঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রধান লক্ষ্য হলো কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়কে যথাযথভাবে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পাবলিক পরীক্ষায় এ বিষয়ের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। সংগঠনটি মনে করে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সুস্থ জীবনযাপন এবং একটি দক্ষ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে শারীরিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ, মেধাবী ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে শারীরিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কলেজ পর্যায়ে বিষয়টির যথাযথ একাডেমিক স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব তৈরি হচ্ছে না। ফলে শারীরিক শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
এ ছাড়া নবগঠিত কমিটি সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষকদের ন্যায়সংগত দাবি, পেশাগত মর্যাদা, পদোন্নতি ও অন্যান্য অধিকার আদায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকরভাবে দাবি উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পেশাগত ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, শরীরচর্চা শিক্ষক পদটি যোগদান থেকে অবসর পর্যন্ত ব্লক পদ। একই যোগ্যতা থাকা সত্বেও পিটিআই ইনস্ট্রাকটর প্রথম শ্রেণী। আবার কলেজে ডেমোনেসটেটররা পদোন্নতি পেয়ে প্রভাষক হচ্ছে, সহকারী লাইব্রেরিয়ানরা হচ্ছেন প্রথম শ্রেণীর । সরকারের সকল সেক্টরে পদোন্নতি র ব্যবস্থা থাকলেও শুধু সরকারি কলেজে কর্মরত শরীরচর্চা শিক্ষকদের নাই। এ বিযয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তারা নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। একই সঙ্গে সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শারীরিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নবগঠিত কমিটি আশা প্রকাশ করে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়কে পাঠ্যক্রম, পাঠ্যপুস্তক ও পাবলিক পরীক্ষায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষকদের ন্যায়সংগত দাবি ও পদোন্নতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শারীরিক শিক্ষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং সুস্থ, দক্ষ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

































































