সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা গ্রামে হুরাসাগর নদীর তীরে ও জমিদারের কাচারীভবনের পাশে অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ ভজনাশ্রম। এখানকার পরিবেশ,পুজা-আচারাদি,উৎসবাদি দীর্ঘবছর বৃন্দাবনের আদলে চলে আসছে।
এ যেন মথুরার অন্য আরেক বৃন্দাবন। বৃন্দাবন থেকে দীক্ষা গ্রহণ অন্তে এখানে প্রধান সেবাইত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এখানকার উৎসবে প্রতিবছর বৃন্দাবন থেকে গোঁসাইরা আসেন। দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত এখানকার উৎসবে আসেন।
১৩৩৪ বাংলা, ১৯৪১ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত এই ভজনাশ্রমটি। মন্দিরটি শুধুমাত্র ত্যাগীদের ভজনসাধন ও ধর্ম প্রচারের আবাসস্থল। কোন গৃহিব্যক্তি স্থায়ীভাবে বসবাস করার বিধান নেই। প্রথম মহন্ত (সেবাইত) শ্রী শ্রী রঘুনাথ চৈতন্য দাস গোস্বামী (দাদু মহারাজ)। তৎ পরবর্তিতে শ্রী শ্রী মৎ কেশব দাস বৈরাগী মহন্ত (ব্রহ্মচারী)।
কেশব গোঁসাইয়ের অপ্রকটরের (মৃত্যুর) পর ১৩৫৭ বাংলা, ১৯৬৪ ইং সনে শ্রী শ্রী রঘুনাথ চৈতন্যদাস দাদু মহারাজের একান্ত প্রিয় শিষ্য শ্রী শ্রী বংশীদাস গোস্বামী এই মন্দিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে গ্রামবাসীর সহায়তায় মন্দিরের কলেবর বৃদ্ধি পায়। ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মহন্ত (সেবাইত) শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ দাস গোস্বামীকে (দাদাজী) গৃহত্যাগ অন্তে বংশীদাস মহারাজের (সেবাইত) হিসেবে এবং তৎ পরবর্তীতে আশ্রমের মহন্ত হিসেবে নিযুক্ত করে ২০১৪ সনের ৫ ই ডিসেম্বর শ্রী শ্রী বংশীদাস গোস্বামী মহারাজ অপ্রকট লীলায় প্রবিষ্ঠ হন।
শ্রী শ্রী বংশীদাস গোস্বামী মহারাজের তিরোভাবের পর হতে শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ দাস গোস্বামী (ব্রহ্মচারী) এ মন্দিরের মহত্ত (সেবাইত) হিসেবে রয়েছেন।
প্রায় ৫০ বছর পূর্ব হতে সংসার ত্যাগ করে মঞ্জু রানী দাসী ও চিত্রা রানী দাসী নামে দুইজন মা সেবাদাসী (ব্রহ্মচারিণী) মন্দিরে গুরু গৌরাঙ্গের সেবা পূজা ও ভজন সাধনে রত আছেন।
পোরজনা গ্রামের শ্রীযুক্ত অজিত চন্দ্র ঘোষের ছোট ছেলে শ্রীমান অচিন্ত কুমার ঘোষ (এম.এ) (ব্রহ্মচারী) অবস্থায় সংসার তথা পরিবারবর্গকে ত্যাগ করে এ মন্দিরে বর্তমান মহন্ত শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ দাস গোস্বামীর নিকট হতে দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করে গুরু গৌরাঙ্গের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। গত ০৩/০২/২০২৩ তারিখে (নিত্যানন্দ ত্রয়োদশী) তিথিতে স্বন্যাসীর বেশ গ্রহণ করে অদ্বৈত দাস নামে মন্দিরের স্থায়ী সেবাইত হিসেবে গুরু গৌরাঙ্গের সেবা পূজায় নিয়োজিত আছেন।
লেখক:শিক্ষক ও সাংবাদিক।









































