বাংলা নববর্ষ এখন আমাদের প্রধান জাতীয় উৎসব। সাড়ে তিনশ’বছরেরও বেশি আগে বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর আইন–ই–আকবরী গ্রন্থে বাংলা নববর্ষকে এদেশের জনগণের নওরোজ বলে উল্লেখ করেছেন। দিন বদলের পালাক্রমে বৈশাখের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি সংস্কৃতির জাতীয় প্রিয় উৎসব হয়ে উঠেছে পহেলা বৈশাখ। এটি এমন একটি দিন যার সাথে প্রত্যেক বাঙালি ওতোপ্রোতোভাবে পরিচিত। বৈশাখের প্রথম দিনটা বাঙালির কাছে অনেক আনন্দের হয়ে থাকে। বিশেষ করে,কৃষি সমাজের গ্রামাঞ্চলে পহেলা বৈশাখ এর দিনে হাসি-উল্লাস আর নতুন ধান তুলার আনন্দে ভরপুর থাকে। তাই এই প্রাণের উৎসব দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও এই উৎসব উদযাপন বেশ লক্ষণীয়।
এই উৎসবকে সর্বজনীন ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ সরকারের সময়ে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই সরকার বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে আসছে। পহেলা বৈশাখকে ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে।
দেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এটি একটি সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একসাথে আনন্দ উদযাপন করে।এছাড়া পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে আরও বর্ণাঢ্য করতে সরকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সংগীত, নৃত্য, নাটক এবং লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলা একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার সংস্কৃতি খাতে বাজেট বৃদ্ধি করে এসব কর্মকান্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে।
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ “মঙ্গল শোভাযাত্রা” আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করে, যা বাঙালি সংস্কৃতির জন্য একটি গর্বের বিষয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ অর্জনের পেছনেও সরকারের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া উৎসবকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের জন্য সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে সকল শ্রেণির মানুষের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পহেলা বৈশাখ আজ একটি অসাম্প্রদায়িক, সর্বজনীন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উৎসবে পরিণত হয়েছে। এটি বাঙালি জাতির ঐক্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৪ সালে পহেলা বৈশাখ উৎসব পালনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও লোকজ উৎসব আয়োজন করা হয়, যা সরকারিভাবে সমন্বয় ও পৃষ্ঠপোষকতা পায় সূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ (২০২৪ কার্যক্রম প্রতিবেদন) সরকার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র: জাতীয় দৈনিক (প্রথম আলো, The Daily Star, ২০২৪ প্রতিবেদন)
সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারে যাতে উৎসবে, তা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সূত্র: বাংলাদেশ পুলিশ ব্রিফিং (২০২৪) অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব হিসেবে পহেলা বৈশাখকে তুলে ধরে সরকারিভাবে বিভিন্ন বার্তা ও প্রচারণা চালানো হয়। সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা (২০২৪) সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করা ও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয় সূত্র: জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রতিবেদন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন এখন থেকে নববর্ষের শোভা যাত্রাকে আনন্দ বা মঙ্গল শোভা যাত্রা না বলে আমরা বলবো বৈশাখী শোভা যাত্রা। সব ভেদাভেদ ভূলে সকলে যাতে একত্রে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে পারে, এজন্যই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাই বলা যায়, বাঙালি জাতিকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মান অক্ষুণ্ণ রাখতে পহেলা বৈশাখ–এর মতো সর্বজনীন উৎসবগুলো শুধু উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও বাঙালি পরিচয়ের শক্ত ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৈশাখী মঙ্গল কিংবা আনন্দ শোভা যাত্রা আমরা যে নামেই ডাকি না কেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো: বাঙ্গালীর বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন। এবছর ও যাতে বাংলা নববর্ষ সার্বজনীন ভাবে পালিত হয় এই প্রত্যাশা রইলো।









































