
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।
বৃষ্টি, তুমি কি কান্না নেবে?
বুকফাটা কান্না, দীর্ঘশ্বাসে ভেজা কান্না,
অনেক দিনের জমে থাকা, নিঃশব্দ কান্না—
কোন কান্নাটা নেবে তুমি?
জানালা খুলে, সকাল থেকে বৃষ্টির গান শুনছি।
মনে হয়, আমার কান্না দেখতে,
বৃষ্টিরও ভালো লাগছে। আমার চোখের জল
বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে, মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
হিমেল বাতাসে, ভাসিয়ে নিয়ে যাও,
আমার সব অব্যক্ত আর্তনাদ।
দূরের পথগুলো ঝাপসা হয়ে আসে,
স্বপ্নগুলোও যেন, বোবাকান্নায় ঘুমড়ে হয়ে যায়।
ওই দূরে, ছোট্ট চাররঙা পাখিটা,
ঝোপের আড়ালে বসে আছে। হয়তো সেও না-বলা
কথাগুলো শুনছে। নরমতো,
মুখবৃষ্টিতে উঁকিঝুঁকি খুঁজছে।
কোথাও কি কোনো আশ্রয় নেই? যাওয়ার মতো,
একটুও জায়গা নেই? কেউ কি নেই,
বুকের ভেতরের ঝড়টা বুঝবে?
চারপাশে তাকিয়ে দেখি, পুরোটাই ফাঁকা।
একসময় দেখি, শুধু পৃথিবী নয়—ভেতরটাও ফাঁকা।
শোনো বৃষ্টি, আজ আর কিছু রেখো না।
সব ভাসিয়ে দাও, সব কাঁপিয়ে দাও,
সব ধুয়ে দাও।
যা কিছু মায়া, যা কিছু স্মৃতি,
যা কিছু না-বলা ব্যথা,
যা কিছু জমে থাকা কান্না—
সব হাওয়ায় মিলিয়ে দাও।
ভুল পথে আর নিও না। ফিরিয়ে দাও,
সেই ভুলে যাওয়া হাসি, লতাপাতা আর ফিরে যাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
তার কাছে, যে পথ চেয়ে বসে আছে,
আজীবন বসে থাকবে। বোবাকান্নার বলেই আছে।
কষ্টই করার সেই, করার থাকে না। অদ্ভুত এক নিয়তি।





























































